ছাত্রলীগের সম্মেলন: খুলনা অঞ্চলে আলোচনায় যারা
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২২, ১২:৫৭
ছাত্রলীগের সম্মেলন: খুলনা অঞ্চলে আলোচনায় যারা
মহিউদ্দিন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

কারা আসছেন নেতৃত্বে? কোন এলাকা পাচ্ছে প্রাধান্য? সংকটকালীন সময়ে কার কী অবদান? কার পারিবারিক ঐতিহ্য কী? এসব নানা আলোচনা ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন ঘিরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু করে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় সব জায়গায় এখন ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকদের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছাত্রলীগের সম্মেলন।


আগামী ৮ ও ৯ ডিসেম্বর দুই দিনব্যাপী ছাত্রলীগের এই জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে ৮ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবং ৯ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


২১ নভেম্বর, সোমবার বেলা ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় ছাত্রলীগ।


এরআগে, গত ৪ নভেম্বর ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। পরে ১৫ নভেম্বর, মঙ্গলবার তা ৩ তারিখের পরিবর্তে ৮ ডিসেম্বর করা হয়েছে। পরে যা দুই দিনব্যাপী হওয়ার বিষয়ে জানানো হয়।


এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন আগামী ৮ ও ৯ ডিসেম্বর আয়োজন করার অনুমতি প্রদান করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতান্ত্রিক অভিভাবক দেশরত্ন শেখ হাসিনা। আগামী ৮ ডিসেম্বর সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


তিনি বলেন, বাঙালি জাতির মুক্তির মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে জন্ম নেওয়া, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যেকোনো যৌক্তিক আন্দোলনে, যৌক্তিক বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে, বাঙালি জাতির সকল অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে সংগঠনটি নেতৃত্ব দিয়েছে সামনের সারিতে থেকে। বাঙালি জাতিসত্তার সঙ্গে মিশে থেকে জাতির উত্থানের সব ইতিহাসের প্রত্যক্ষ সাক্ষী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।


জয় বলেন, সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসবে। আর তারাই আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করতে জোরালো ভূমিকা রাখবে এবং একইসাথে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠন করার জন্য তরুণ প্রজন্মকে সাথে নিয়ে কাজ করে যাবে তারা।


আনুষ্ঠানিক এই সংবাদ সম্মেলনের অনেক আগ থেকে অর্থাৎ সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হওয়ার পর থেকে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যেন ঘুম নেই পদপ্রত্যাশীদের। সম্মেলনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, পদপ্রত্যাশী ও কর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস, আকাঙ্ক্ষা ততই বেড়ে চলেছে। সংগঠনের শীর্ষপদ পেতে পদপ্রত্যাশীরাও শেষ মুহূর্তের দৌঁড়ঝাপ অব্যাহত রেখেছেন। সবাই যার যার অবস্থান থেকে আওয়ামী লীগ হাইকমাণ্ডের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। তারা সংগঠনের জন্য নিজেদের ত্যাগ ও ইতিবাচক দিকগুলো বিভিন্নভাবে প্রচার করছেন।পদপ্রত্যাশীসহ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা- ছাত্রলীগে মেধাবী, শিক্ষার্থীবান্ধব, রাজপথে সক্রিয়, ত্যাগী ও সাংগঠনিক নেতৃত্বসম্পন্ন নেতা আসবেন।


নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রলীগের এবার নেতৃত্ব নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি নেতা বাছাইয়ে নেতৃত্ব দিবেন।


এদিকে ছাত্রলীগের বিগত সম্মেলনগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনে কয়েকটি বিষয় দেখা হয়। তার মধ্যে- পারিবারিক পরিচিতি, নিয়মিত ছাত্রত্ব, সংগঠনের জন্য ত্যাগ ও এলাকা। নেতৃত্ব নির্বাচনে অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি এলাকার বিষয়টি বিশেষ প্রাধান্য পেয়ে আসছে। সেক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন বিভাগের পদপ্রত্যাশীরা আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।


ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে বিবার্তা২৪ডটনেটের ধারাবাহিক আয়োজনের আজ ৪র্থ পর্ব। সম্মেলনে নেতৃত্বের দৌঁড়ে খুলনা অঞ্চলে আলোচিত যারা, তাদের নিয়ে।


ছাত্রলীগের সম্মেলনের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ২০১১-১৫ পর্যন্ত এইচ.এম. বদিউজ্জামান সোহাগ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সিদ্দিকী নাজমুল আলম সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এরমধ্যে সভাপতি সোহাগ বাগেরহাটের অর্থাৎ এই অঞ্চলের ছিলেন। এরপর ছাত্রলীগের দুইটি কেন্দ্রিয় কমিটি হলেও খুলনা অঞ্চল থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব আসেনি। তাই এবার খুলনা অঞ্চল থেকে একজন নেতা আসার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এবারের সম্মেলনে প্রার্থী নির্বাচনে এ অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


আলোচনায় যারা


ফরিদা পারভীন (সহ-সভাপতি ), বরিকুল ইসলাম বাধন (সাংগঠনিক সম্পাদক), মো. নাহিদ হাসান শাহিন (মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক),খন্দকার হাবীব আহসান (উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক)।


তবে শেষ পর্যন্ত খুলনা অঞ্চল থেকে শীর্ষ নেতৃত্বে আসছে কী আসছে না, তা জানার জন্য আগামী সম্মেলনের পর নতুন কমিটি ঘোষণার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


কেমন নেতৃত্ব চান আলোচিত পদপ্রত্যাশীরা?


ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে কেমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করেন জানতে চাইলে সংগঠনটির সহ-সভাপতি ফরিদা পারভীন বিবার্তাকে বলেন, বহুকাল মানুষের ধারণা ছিলো দক্ষতা, বুদ্ধি, সক্রিয়তার দিক থেকে নারীরা পিছিয়ে আছে। কিন্তু বর্তমান শতাব্দীতে এ ধারণা অসার প্রমাণিত হয়েছে। নারীরা এখন সর্বক্ষেত্রে পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে পারদর্শীতা দেখাচ্ছে। যেকোনো দুর্যোগে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে নেতৃত্ব নির্বাচনে নারী নাকি পুরুষ সেটা না দেখে, যোগ্যতা ও দক্ষতার মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। প্রগতিশীল একটি ছাত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ পারে এ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে।


ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম বাধন বিবার্তাকে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সংগঠন। ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের পথ ধরে সংগঠনটি তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। কাজেই শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির পতাকাবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন রক্তের সঞ্চালন হবে এবং একইসাথে নতুন নেতৃত্ব এসে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে কাজ করবে, সেই প্রত্যাশাই করি।


তিনি বলেন, যারা নীতি এবং নেত্রীর প্রশ্নে আপোসহীন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন, উদার গণতান্ত্রিক দেশের উপযোগী ছাত্রসমাজ গড়ার সংগ্রামে দক্ষ, সৃজনশীল, সংস্কৃতিবান মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াকু, এমন নেতৃত্ব আমরা প্রত্যাশা করি।


ছাত্রলীগের মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মো. নাহিদ হাসান শাহিন বিবার্তাকে বলেন,বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলনে আমার প্রত্যাশা থাকবে এমন নেতৃত্ব আসুক যারা সংগঠনকে গতিশীল রাখবে, যাদের দলের প্রতি কমিটমেন্ট থাকবে, যাদের পারিবারিক আওয়ামী লীগ ব্যাকগ্রাউন্ড আছে, যারা ছাত্রলীগের প্রশ্নে আপসহীন থাকবে, যারা রাজপথে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে আপসহীন কন্ঠস্বর হবে, যারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তচিন্তা, বাংলাদেশ ও দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপার প্রশ্নে আপোসহীন থাকবে।


ছাত্রলীগের উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার হাবীব আহসান বিবার্তাকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভিশন ২০৪১, ডেল্টা প্লান ২১০০ এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বাস্তবায়ন করতে সক্ষম; প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক ও সাংগাঠনিকভাবে দক্ষ যেই নেতৃত্ব আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক মানের কর্মদক্ষ করে তোলার ব্যাপারে কাজ করতে পারবে, এমন নেতৃত্ব বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শীর্ষে নেতৃত্বে আসার বিষয়টি সময়ের চাহিদা।


বিবার্তা/এসএফ



সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com