এমপি চঞ্চলের সাম্রাজ্যে অসহায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২২, ০৮:১৯
এমপি চঞ্চলের সাম্রাজ্যে অসহায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা
সোহেল আহমদ
প্রিন্ট অ-অ+

ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল আজম খান চঞ্চল। ২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী হয়ে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালে দল মনোনয়ন না দিলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ফলে দল তাকে বহিষ্কার করে। তবে ২০১৮ সালে কৌশলে দলের মনোনয়ন বাগিয়ে নেন চঞ্চল। সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে কোটচাঁদপুর-মহেশপুরে একক সাম্রাজ্যের এমপি লীগ গড়ে তোলেন। দলের নেতা-কর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক থেকে শুরু করে যারাই তার অনিয়ম নিয়ে কথা বলেছেন, তারাই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।



দলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টানা তিন মেয়াদে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ থাকলেও শান্তিতে নেই কোটচাঁদপুর-মহেশপুর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। অনুপ্রবেশকারী-হাইব্রিডদের ভিড়ে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরাই কোনঠাসা। দুই উপজেলার সরকারি-বেসরকারি প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই নিয়ন্ত্রণ করছেন এমপি চঞ্চলের আপন ভাইসহ আত্মীয়-স্বজনরা। আর চঞ্চলের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই ক্যাডার দিয়ে নির্যাতন করা হয় দলীয় নেতা-কর্মীদের। বাদ যাচ্ছেন না সাংবাদিকরাও। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি নানা সময়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।



ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল আজম খান চঞ্চলের বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগের পাহাড় জমা আছে আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দফতরে। বিবার্তার হাতে আসা শতাধিক পৃষ্টার এসব অভিযোগ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর শফিকুল আজম খান চঞ্চলের বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রতিবাদ লিপি পাঠিয়েছেন কোটচাঁদপুর-মহেশপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ। এসব আবেদনে তারা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির হাতে বারবার ক্ষমতা দেয়ায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ লাঞ্ছিত ও অত্যাচারিত হওয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামী নেতা-কর্মীদের সাথেও তার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্তও করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া তার বিরুদ্ধে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করে সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহনের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া এমপি চঞ্চল শুধু নিজেই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী নয়; তার বিরুদ্ধে ইউপি নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগও রয়েছে।



এছাড়া এমপি চঞ্চলের ভয়ে সবসময় তটস্থ থাকেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। এমনকি গণমাধ্যমের সাথে সংসদ সদস্যের অনিয়ম, দুর্নীতি নিয়ে কথা বললে তার ক্যাডার বাহিনী প্রাণে মেরে ফেলতে পারে- এমন শঙ্কার কথাও বিবার্তাকে জানিয়েছেন তারা।



জানা গেছে, চঞ্চলের আপন ছোট ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র, সাংবাদিক ও ছাত্রলীগ নেতা পার্থ প্রতিম আচার্য্য হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। ছাত্রলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামি ভাইয়ের আর্শীবাদে হয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।



স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা বলছেন, কোটচাঁদপুর-মহেশপুরের আওয়ামী পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে একটি চক্র। আর সেই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমপি চঞ্চল। আওয়ামী লীগের নামে এমপি লীগের নানা অপকর্মে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে বাঁচানোর অনুরোধ জানিয়ে দলটির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা ওইসব আবেদনের প্রেক্ষিতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি আকুতি জানাচ্ছেন।


শফিকুল আজম খান চঞ্চলের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের পর থেকে তিনবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর প্রতিবাদ লিপি পাঠিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বরাবর দলের ভিতর ঘাপটি মারা রাজাকার সন্তানদের বহিষ্কার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবেদন করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহেশপুর উপজেলা কমান্ডার ড. আবদুল মালেক গাজী।


সেই অভিযোগপত্রে তিনি লিখেন, ‘শফিকুল আজম খান চঞ্চল। তার পিতা সামছুল হুদা খান মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মহেশপুর সিও (ডেভেলপ) এর কেরাণী ছিলেন। যে কারণে তিনি ওই সময়ে পাকিস্তানি আর্মি অফিসারদের খুব প্রিয়ভাজন ছিলেন। তাদের রসদ সরবরাহের অন্যতম বিশ্বস্ত লোক ছিলেন। ১৯৭১ সালে তাদের পারিবারিক অবস্থা খুবই নাজুক ছিল। তাই তার বড় ভাই জালাল উদ্দিন খানকে স্থানীয় রাজাকার হিসেবে যোগদান করান। সে ব্রিজ পাহারাসহ সব ধরনের কাজে নিয়োজিত থাকত। তার পুত্র আব্দুর রশিদ খান বর্তমানে আওয়ামী লীগ মনোনীত পৌরসভার মেয়র।’


চঞ্চল মানেই স্বাধীনতা বিরোধী এবং চোরাচালানীদের নেতা উল্লেখ করে তিনি আরো লিখেন, ‘চঞ্চল ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেই মহেশপুর পৌরসভায় লাঠিয়াল বাহিনী পাকাপোক্ত করার জন্য জামায়াতি, বিএনপি ও সন্ত্রাসীদের দলে ভিড়িয়েছে। যে কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। যে তার বিরুদ্ধে কিছু বলে তাকেই শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। জোর করে জমি দখলদার ও মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে।’


২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বরারব আরেকটি আবেদন করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কোটচাঁদপুরের ৫নং এলাঙ্গী ইউনিয়ন কমান্ডার আব্দুল হালিম। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির হাতে বার বার ক্ষমতা দেয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ত্যাগী আওয়ামী লীগ পরিবার লাঞ্চিত, বঞ্চিত ও অত্যাচারিত হওয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন।


তিনি অভিযোগে লিখেন, ‘প্রিয় নেত্রী নমিনেশন দিলে আমরা তার (এমপি চঞ্চল) ভোট করতে ভুল করিনি। অথচ উপজেলা নির্বাচনে সে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছে। আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্মের কারণে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি প্রচুর ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে বাঁচানোর অনুরোধ করছি।’


২০১০ সালের জুলাই মাসে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বরাবর নাম, গ্রাম, পরিচিতি ও গেজেট নম্বরসহ পাঁচ পৃষ্ঠার চিঠি লিখেন কোটচাঁদপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ। চিঠিতে তাঁরা লিখেন- ১৯৭১ সালের পর কোটচাঁদপুর-মহেশপুর জামায়াত ও বিএনপির সাংসদ থাকলেও মুক্তিযোদ্ধারা এভাবে লাঞ্ছিত হয়নি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মহাজোট ও আওয়ামী লীগের সাংসদের নিকট লাঞ্ছিত হওয়ায় এসবের সুবিচার চান তাঁরা।



এদিকে, ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহ-৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা শফিকুল আজম খান চঞ্চলকে মনোনয়ন না দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন। সেই আবেদনে তাঁরা বলেন, এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এড. শফিকুল আজম খান চঞ্চল সংসদ সদস্য থাকাকালীন তার অতীত ইতিহাস, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও আমাদের অভিজ্ঞতার আলোকে আপনার নিকট আমাদের প্রাণের দাবি ‘কোন অবস্থাতেই ঝিনাইদহ-৩ আসনে এড. শফিকুল আযম খান চঞ্চলকে মনোনয়ন না দেয়ার জন্য।’ অ্যাডভোকেট শফিকুল আজম খান চঞ্চলকে মনোনয়ন দিলে এ আসনের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি তথা জামায়াত-বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয় চিঠিতে। সেই আবেদনে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন মহেশপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাজ্জাতু্য জুম্মা, সাধারণ সম্পাদক ময়জদ্দীন হামিদ, তৎকালীন সংসদ সদস্য মো. নবী নেওয়াজ ও সাবেক সংসদ সদস্য পারভিন তালুকদার (মায়া) প্রমুখ।


সংসদ সদস্য শফিকুল আজম খান চঞ্চল মহেশপুর-কোটচাঁদপুরে অনুপ্রবেশকারী জামায়াত-বিএনপিকে প্রতিষ্ঠিত করে চলছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া চঞ্চলের পরিবারের প্রায় সকলেই বিএনপি, জামায়াত, জাসদ, জাপা করলেও আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে কখনোই জড়িত ছিলেন না এমন অভিযোগ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের। এমনকি তার চাচা জালালউদ্দিন খান ১৯৭১ সালে তালিকাভুক্ত রাজাকার ছিলেন। চঞ্চল খানের আপন ভাই রফিকুল আজম খান (বিপ্লব খান) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা ছিলেন। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পার্থ প্রতিম আচার্য্য হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। সংসদ সদস্যের ছোট ভাই হওয়ায় মহেশপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি পদও পেয়ে যান তিনি। তার আরেক মামাতো ভাই শিমুল খানও পার্থ প্রতিম আচার্য্য হত্যা মামলার আসামি। তিনি ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক। চঞ্চলের আরেক মামাতো ভাই শফিকুর রহমান টিটো কোঁটচাঁদপুর পৌর জামায়াতের সাবেক আমির।


চলতি বছরের ৮ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বরাবর `আওয়ামী পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত একটি চক্র’ শিরোনামে অভিযোগ দিয়েছেন কোটচাঁদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক মো. মজনুর রহমান। তিনি লিখেন, ‘ঝিনাইদহ-৩ আসনে স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতার সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে চলেছে? নিষ্পেষিত হচ্ছে স্বাধীনতার পক্ষের আওয়ামী পরিবারের সন্তানরা, মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবার! বিভিন্ন চক্রান্তে ফেলে একসময়ের তুখোড় ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাদের দাবিয়ে রাখা হচ্ছে। কাউকে মিথ্যা মামলা দিয়ে, কাউকে মাদকের নেশার দিকে ঠেলে দিয়ে, কাউকে মাদক ব্যবসায় উদ্বুদ্ধ করে এবং কাউকে অর্থ-কেলেঙ্কারীর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সমাজের নিকৃষ্ট মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অপরদিকে অন্যদল থেকে আগতদের অথবা অনুপ্রবেশকারীদের ব্যবসা বাণিজ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করে চলেছে।’


তিনি আরো লিখেন, ‘এখনই যদি তাদের রুখে না দেয়া হয় তাহলে ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁপুর) হবে চঞ্চল খানের পরিবার তথা জামায়াত বিএনপির অভয়ারণ্য। তথ্য-উপাত্ত নিয়ে গবেষণা করলে অবশ্যই বুঝতে পারা যায় যে, শফিকুল আজম খান (চঞ্চল) এর পরিবার তথা তার সকল আত্মীয়রাই আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী। ১৯৭১ সালের পূর্বে এবং পরে তারা মহেশপুর কোটচাঁদপুরের প্রায় এলাকায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে। ১৯৯৯ সালে একা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করা চঞ্চল খান এবং ২০০৯ সালে এমপি হওয়ার পরেও নিজেদের পুরাতন বিদ্বেষী ভাবধারার কারণে আওয়ামী লীগকে বুকে ধারণ করতে পারেনি। নিজের পরিবারকেই শুধু প্রতিষ্ঠিত করেছে।’


জানতে চাইলে মজনুর রহমান বিবার্তাকে বলেন, অভিযোগ দেয়ার পরও কোনো সমাধান হয়নি। কেউ কোনো খোঁজখবরও নেয়নি। এখানে এমপি সবকিছু। উনি বিএনপি-জামায়াতের একজন দাতা।


দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে কলস প্রতীকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন চঞ্চল খান। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় সেই সময় তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে নৌকা প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এর আগে দলীয় মনোনয়ন না দেয়ায় ৩ ডিসেম্বর মহেশপুরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে তৎকালীন সংসদ সদস্য শফিকুল আজম খান চঞ্চলের সমর্থকরা। সেই হরতাল থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ পুলিশ গ্রেফতার করে তার অন্যতম সহযোগী স্বপনকে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য (চার বার জামায়াত থেকে মনোনয়ন প্রাপ্ত) মতিউর রহমানের সাথে চঞ্চলের হাত উঁচু করা উচ্ছাসের ছবি প্রকাশ পেলে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। এছাড়া ১৯৯৩ সালে খুলনায় প্রতিষ্ঠিত জামায়াত ইসলামী’র প্রতিষ্ঠান ‘বাইতুন-নুর সোসাইটিতে’ শফিকুল আজম খান চঞ্চল খান অর্থ প্রদান করেন বলে অভিযোগ আছে। ২০১০ সালে প্রকাশিত সংগঠনটির একটি প্রকাশনায় অর্থ প্রদান করেছেন, এমন তালিকায় সাত নম্বরে রয়েছে চঞ্চল খানের নাম। সেখানে চঞ্চল খানে পরিচয় হিসেবে লেখা রয়েছে- পৌর মেয়র মহেশপুর, ঝিনাইদহ।


তার বিরুদ্ধে দলীয় নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। এমপি বাদে অন্য কোনো নেতার পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখি করলেও শুরু হয় নির্যাতন। ২০১১ সালের আগস্ট মাসে সংসদ সদস্য চঞ্চলের উপজেলা সদরের অস্থায়ী কার্যালয়ে মহেশপুরের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ আছে। তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সভাপতি সাজ্জাতুজ জুম্মা এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মো. নবী নেওয়াজের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে। এমপি চঞ্চলের অনুসারীদের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় একাধিক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়েছে। এসবের প্রেক্ষিতে জিডিও করেছেন সাংবাদিকরা। এছাড়া এমপি চঞ্চলের বিরুদ্ধে পলাতক আসামি নিয়ে অনুষ্ঠান করার অভিযোগ আছে। ২০০৯ সালে প্রাণনাশের হুমকি, ষড়যন্ত্র ও ক্ষতির সম্মুখীনের আশঙ্কা থেকে জিডি করেন মো. নবী নেওয়াজ।


এদিকে, সাবেক এমপি নবী নেওয়াজের পক্ষে ফেসবুকে লেখালেখি করায় ২০২১ সালের ১১ ডিসেম্বর মহেশপুরের এসএম সরকার হোসাইনকে হাসপাতালে অসুস্থ বাবার সামনে নিজের পায়ের জুতা খুলে গালে মারার নির্দেশ দেন এমপি চঞ্চলের অনুসারী তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি আরিফুজ্জামান বিপাশ। অসুস্থ বাবার সামনে ছেলেকে নিজের গালে জুতা মারার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সাবেক এমপি নবী নেওয়াজের পক্ষে কেনো হোসাইন ফেসবুকে লেখালেখি করে এজন্য তাকে নিপীড়ন করেন বিপাশ। একপর্যায়ে এমপি চঞ্চেলের পক্ষে লেখার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং ভুল হয়েছে স্বীকার করে নিজের গালে জুতা মারার নির্দেশনা দেন বিপাশ। পরে ওই ঘটনায় বিপাশকে দল থেকে অব্যাহতি দেয় জেলা ছাত্রলীগ। অভিযোগ আছে, শাসন করার সেই ঘটনাটি তখন লাইভে দেখছিলেন এমপি চঞ্চল।



একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর এমপি চঞ্চলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শেখ শাহীন এবং মহেশপুর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক ও উপজেলা পৌর যুবলীগের সদস্য আতিয়ার রহমান সুমনের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করেন এমপি চঞ্চলের ব্যক্তিগত সহকারী সুফল কুমার বিশ্বাস।


অভিযোগে বলা হয়, শেখ শাহীন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন- এমপি চঞ্চল বাহিনীর কর্মকাণ্ড দেখেন। এমপি চঞ্চল সাহেবের অপরাধের কথা বললেই এইভাবে নির্যাতন করা হয়ে থাকে। কেউ রেহাই পায় না। চিকিৎসা নিতে এসেও প্রতিবাদী মানুষ অসহায়। কোটচাঁদপুর-মহেশপুরের মানুষ এখন অসহায় এমপি চঞ্চলের কাছে। আর আতিয়ার রহমান লিখেছেন- ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি করানোর মূল নায়ক ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল আজম খান চঞ্চল।


এ মামলায় দুইজনকেই কারাবরণ করতে হয়েছে। জানতে চাইলে আতিয়ার রহমান বিবার্তাকে বলেন, মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ নিয়ে ফেসবুকে লিখেছিলাম। এগুলো পেপারেও নিউজ হয়েছিল। এগুলো লিখেছি সেজন্য আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আমি ৭৫ দিন জেল খেটেছি। আমাকে একদিনের রিমাণ্ডেও নিয়েছে। শাহীনের ওপরও নির্যাতন হয়েছে। আমাদের ওপর টাকা দিয়ে নির্যাতন করিয়েছে। এতো পরিমাণে টর্চার করা হয়েছে বলে বুঝাতে পারবো না।


তিনি বলেন, আমার নামে এমপি চঞ্চলের অনুসারীরা ছিনতাইসহ আরো দুইটা মামলা করেছে। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ওপর প্রচণ্ড অত্যাচার, নির্যাতন হচ্ছে। বলে শেষ করা যাবে না। আমি একটা চাকরি করতাম সেই চাকরিটাও হারিয়েছি। ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি।


২০২১ সালের মে মাসে মহেশপুর উপজেলার যশোর-চুয়াডাঙ্গা হাইওয়েতে খালিশপুর বাজারে যুবলীগের একাধিক ঈদ শুভেচ্ছা গেইট, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন ভাংচুর ও ছেড়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঈদ শুভেচ্ছা গেটগুলোতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি ছিল। ওইসময় অভিযোগ ওঠে, এমপি শফিকুল আজম চঞ্চলের অনুসারী কর্মী-সমর্থকরা এসব ভাংচুরের সাথে জড়িত।


জানা যায়, ২০০৮ সালে আরপিও লঙ্ঘন করে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন শফিকুল আজম খান। মহেশপুর পৌরসভার মেয়র পদে থাকাকলীন পদত্যাগ না করে নবম জাতীয় সংসদে সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালের ৩১ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব (আইন) স্বাক্ষরিত এ নোটিশে আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য না হওয়ায় কেনো তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় নির্বাচন কমিশন। পরে ওই ঘটনায় রিট করেন এমপি চঞ্চল। এই রিট পাঁচ বছর ক্ষমতা ভোগ করেন তিনি। এরপর ২০১৩ সালের শেষ দিকে পুনরায় নির্বাচন কমিশন মামলাটি চালু করার জন্য আইনজীবী নিয়োগ দেয়। আইনজ্ঞদের মতে, রিট করে আইন অনুযায়ী অবৈধ হওয়ার পরও সংসদ সদস্য থাকায় এমপি চঞ্চলের পেছনে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে। এমপি চঞ্চল নিজে আইনজীবী হয়েও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়; এমন অভিযোগ করে ক্ষোভ জানান স্থানীয়রা।



২০১৭-১৮ অর্থবছরে চার কোটি ৪৫ লাখ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শফিকুল আজম খানের দুর্নীতির তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন কোটচাঁদপুরের বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম। পরে এ আবেদন প্রত্যাহার করে নেন তিনি। অভিযোগ আছে, তাকে অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছিল। এর আগে ২০১৮ সালে এমপি চঞ্চলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পায় দুদক। সেই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, তথ্য গোপন ও দুর্নীতির করে সাবেক এমপি চঞ্চল গত পাঁচ বছরে নামে-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন।



দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত কোটচাঁদপুর ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মাত্র একটিতে জয় লাভ করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। অভিযোগ রয়েছে, নৌকা বিদ্রোহীদের মদদ দিয়েছেন এমপি শফিকুল আজম খান চঞ্চল। কোটচাঁদপুরের ৪নং বলুহর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর লেখা এক অভিযোগপত্রে লিখেন, গত ২৮ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেয়ে আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় বর্তমান এমপি শফিকুল আজম খান চঞ্চল, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাজান আলী সংখ্যালঘুদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল ইসলাম নজুকে আনারস প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য হ্যাচারি কমপ্লেক্সে বসে সংখ্যালঘু ভোটারদের চাপ প্রয়োগ করার কারণে দলীয় প্রার্থীকে পরাজয় বরণ করতে হয়। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চরম বিপর্যয় ঘটবে বলেও চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।


কোটচাঁদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শরিফুন্নেছা মিকি বিবার্তাকে বলেন, ৪টা ইউনিয়ন পরিষদে এমপি এবং সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের প্রার্থী ছিল। তাই এসব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা বিজয়ী হয়েছে। এতে করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।


তিনি বলেন, এখানে (কোটচাঁদপুর) মাইম্যান দিয়ে দল চলে। আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কিন্তু একটা প্রতিষ্ঠানেরও সভাপতি হতে পারি নাই। এটা আপনাকে বুঝতে হবে।


মহেশপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ বিবার্তাকে বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে যেসব অভিযোগ দেয়া হয়েছে এসবের সত্যতা আছে। দলের বিরুদ্ধে গিয়ে যারা কাজ করে আমি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছি। যারা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত মানে না, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত মানে না, তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্কও থাকে না।


তিনি বলেন, অমুক ভাই এগিয়ে চলো আমরা আছি তোমার সাথে। এসব শ্লোগান হয়! শেখ হাসিনা এগিয়ে চলো, কেউ বলে না কেন? কোনো দিন পদ চাইনি। আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে যতক্ষণ নেতৃত্ব না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত যারা হাইব্রিড- এলাকায় এসে এমপি হতে চায়, এমপি হয়ে এলাকায় আসে না, তাদের দিয়ে কিন্তু শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়ন হবে না।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা পরিষদের একজন জনপ্রতিনিধি বিবার্তাকে বলেন, খুবই কষ্টে আছি। যারা এখানে আওয়ামী লীগে প্রভাবশালী নেতা-কর্মী তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন ধরণের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। এমপি মানুষকে মূল্যায়নই করে না। আমি আওয়ামী লীগের ক্ষুদ্র কর্মী। আমরা শেখ হাসিনার কর্মী, মাঠে-ঘাটে কাজ করছি। সেখানে আমাদেরও মূল্যায়ন হয় না। জামায়াত-বিএনপির সাথেই তার সম্পর্ক।


তিনি বলেন, তিনি (এমপি চঞ্চল) কোন পরিবার থেকে উঠে আসছে, এটা যাচাই করেন। সে কি অরিজিনাল আওয়ামী লীগ কি-না? সে যদি অন্য পরিবার থেকে আসে তাহলে কিভাবে আওয়ামী লীগের লোকজন উপকার পাবে? আওয়ামী লীগ আমাদের ব্লাডে মিশে আছে। আমরা মানুষের কাজে নিয়োজিত। স্থানীয় এমপির কাছে তো অনেক কাজ আসে। কিন্তু আমরা এগুলো পাচ্ছি না, ফলে আমরা মানুষের জন্য কিছু করতেও পারছি না। তিনি নিজস্ব লোক দিয়ে সব কাজ করান।


তিনি আরো বলেন, তার (এমপি) লোকজন সবগুলো ক্যাডার। কথা বললে মারধর করে। কিভাবে ফাঁসানো যায় সেই ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে রাখে। কি বলব আর কষ্টের কথা। অনেক কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে রেখেছি। প্রকাশ করতে পারি না। প্রকাশ করলে হয়তো ক্ষতি হবে।


এরকমই লোক, আমি কিছু বলেছি সেটা যদি জানাজানি হয় জানেও মেরে দিতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে অনেক কষ্টে আছি।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল আজম খান চঞ্চল বিবার্তাকে বলেন, আমি যখন পৌরসভার মেয়র ছিলাম মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সর্বপ্রথম পৌর কর মওকুফ করেছিলাম, সনদপত্র দিয়েছি। আমার দেখাদেখি পত্রিকায় নিউজ হওয়ার পর অনেক পৌরসভায় এসব কাজ হয়েছে। মহেশপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ফলক তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে জাতির পিতা, জাতীয় চার নেতাদের ছবি থাকবে আর এর চারপাশে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম থাকবে। আমি স্বাধীনতা বিরোধী কেউ দেখাতে পারবে না। ১৯৬৭ সালে আমার জন্ম হয়েছে। আমি স্বাধীনতাবিরোধী হই কিভাবে?


তিনি বলেন, ১৯৯৯ সালে পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে আমি অনেক ভোটে জয়লাভ করি। ২০০৪ সালেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছি। সেই সময় ধানমন্ডিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন।


১৯৯৯ সালের পর থেকে মহেশপুরে আওয়ামী লীগ সংগঠিত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, মহেশপুরে আমার নেতৃত্বে দল সংগঠিত হয়েছে। আমার আব্বা জাতীয় পার্টির এমপি ছিল। দাদা পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিল, এখন চাচাতো ভাই পৌর মেয়র।



জনপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে নিজস্ব লোক দিয়ে কাজ করানোর ব্যাপারে এমপি চঞ্চল বলেন, এরকম কোনো ওয়ার্ড, ইউনিয়ন সভাপতি-সম্পাদক, চেয়ারম্যান নেই যিনি বরাদ্দ পাননি। কেউ বাদ যায়নি। নাম প্রকাশ না করে যে জনপ্রতিনিধি কথা বলছেন উনার নামে এবছরও বিশেষ বরাদ্দ আছে। তার নিজের প্রকল্প। সেই প্রকল্পে ওই জনপ্রতিনিধি আছে। নাম প্রকাশে ভয় পাচ্ছে না, প্রকাশ্যে মিথ্যা বলতে বাজছে।



ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে জেতার জন্য ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা লাগে, সাথে দলের ভোট যুক্ত করে জিততে হয়। চেয়ারম্যান থাকার সময় জনগণের স্বার্থের কথা বিবেচনা না করলে ভোটের সময় তো জনগণ তা বিবেচনা করবে। স্থানীয় নির্বাচনে ব্যক্তির জনপ্রিয়তা খুবই গুরুতপূর্ণ। জনপ্রিয়তা লস করলে ভোটে ভালো করা যায় না।


দলের নেতা-কর্মীদের নির্যাতন, মামলা দিয়ে হয়রানির বিষয়ে তিনি বলেন, যদি একজন ফেসবুকে অপমানসূচক কথা বলে আর তাতে মামলা করার মতো বিষয় থাকে তাহলে কি মামলা করবে না? আপনি যদি তথ্য প্রমাণ বাদে লিখেন, প্রতিকারের ব্যবস্থা থাকবে না?


বিবার্তা/সোহেল/রোমেল/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com