বাংলাদেশ কখনো শ্রীলঙ্কা হবে না: হানিফ
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২২, ১৪:৪৯
বাংলাদেশ কখনো শ্রীলঙ্কা হবে না: হানিফ
ফাইল ছবি
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

‘বাংলাদেশও শ্রীলংকার মতো হবে’ বিএনপি নেতাদের এমন মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, তারা (বিএনপি) দিবাস্বপ্ন দেখছে। শ্রীলংকার অর্থনীতি ধ্বংসের মূল কারণ জিডিপির চেয়ে বেশি ঋণ নেয়া হয়েছিলো। শেখ হাসিনা আর রাজপাকসের দক্ষতা এক নয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দক্ষতা, বিচক্ষণ গোটা বিশ্বের কাছে প্রশংসিত। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অন্ধকার থেকে আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছে। শ্রীলংকার অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হয়েছে। বাংলাদেশ কখনো শ্রীলঙ্কা হবে না।


শনিবার (১৪ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের জি ই সি কনভেনশন হলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল প্রতিনিধি সভা-২০২২ এ প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ২০১০ সালে মিশরে যখন অভ্যুত্থান হয়েছে, সেই সময়ে বিএনপির স্বপ্ন দেখা শুরু হয়েছে। আরব বসন্ত যখন শুরু হয়েছে, তাদের স্বপ্ন ছিলো বাংলাদেশেও বসন্ত হবে। কিন্তু বসন্ত আর আসেনি। আফগানিস্তান থেকে যখন আমেরিকার সৈন্যরা চলে গেলো, তালেবানের উত্থান দেখে বিএনপি নেতারা উচ্ছ্বসিত হলো। বিএনপি আর তালেবান প্রায় একই একই আদর্শের অনুসারী। তারা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তার এক বছর পেরিয়ে গেছে। এখনো স্বপ্ন পূরণ হয়নি।


গোটা বিশ্ব বলছে, বাংলাদেশ বিশ্ব উন্নয়নের রোল মডেল। শেখ হাসিনার মেধা, বিচক্ষণাতায় সীমিত সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ঠিক সে সময়ে এই বাংলাদেশের নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আবার নতুন করে সরকারে বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের নামে মিথ্যাচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। কেনো করা হচ্ছে এসব? এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।


হানিফ বলেন, বাংলাদেশ আজকে চরম দারিদ্রশীল দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের স্বীকৃতি লাভ করেছে। একাত্তরের পরাজিত শক্তি বিএনপি-জামায়াত যাদের সৃষ্টি একই জায়গা থেকে। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকুক তারা চায় না। কারণ তারা জানে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের বাইরে অন্য কারো দিকে মুখে তুলে তাকাবে না। শেখ হাসনিার প্রতি মানুষের অস্থা আছে। আওয়ামী লীগের প্রতি সাধারণ মানুষের ভরসা আছে। শেখ হাসিনার হাতে যতোদিন দেশের দায়িত্বভার আছে ততোদিন দেশের অগ্রগতি হবে। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।


তিনি বলেন, আগে মানুষের দৈনিক মজুরি ছিলো ১০০ টাকা। আজ ৫০০ টাকা নিচে মজুরি নেই। শেখ হাসিনার কারণে এসব সম্ভব হয়েছে। গ্রামে সেলাই করা, ছেড়া লুঙ্গি শাড়ি পড়ে এরকম মানুষ পাওয়া যায় না। বিধবা, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের যাতে কষ্ট করতে না হয় সেজন্য তাদেরকে ৪৪ ধরণের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এনেছেন। তাদেরকে ভাতা দেয়া হচ্ছে। আর এভাবেই গোটা দেশের অর্থনীতিকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।


দেশের সব অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরে হয়েছে উল্লেখ করে হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগের দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে নয় মাস যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম। তার নেতৃত্বে এই স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো। এই স্বাধীন বাংলাদেশেন জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত সবই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নয় মাসের মাথায় বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয়েছিলো। স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সবকিছু হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। সেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।


এসময় ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের সময়ে বাংলাদেশ কি ছিলো আর এখন দেশের কি চিত্র তা ফিরে দেখার অনুরোধ জানিয়ে হানিফ বলেন, সেই সময়ে দেশে ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিলো। বিদেশ থেকে রিলিফ আনতে হতো। রিলিফ মানে সাহায্য, ভিক্ষা। আমরা ভিক্ষুকের জাতি ছিলাম। বঙ্গবন্ধুকন্যা ক্ষমতায় আসার পরে কৃষিখাতকে সাজিয়েছেন। যার কারণে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা লাভ করে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দেশের কৃষকরা প্রমাণ করেছে আমরা ভিক্ষুকের জাতি নয়। শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্ব তা সম্ভব হয়েছে।


হানিফ বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকতে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেনি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সক্ষমতা রেখে গিয়েছিলো। বিএনপি ক্ষমতায় এসে তা থেকে ৩২০০ মেগাওয়াটে নামিয়ে দেয়। তাদের কাজ ছিলো খাম্বা দিয়ে মানুষের সাথে ধোঁকাবাজি করা। বিএনপি নেতা তারেক রহমান বলেছিলো, জনগণ চাইলেও ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়া সম্ভন নয়। কেউ পারবে না। বাসায়, দোকানে একসাথে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে না। এটাই ছিলো তাদের তত্ত্ব। আর আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৩২০০ মেগাওয়াট থেকে ২৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। আজকে দেশের অর্থনীতির চাকা এগিয়ে যাচ্ছে।


বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংসের দাঁড়প্রান্তে নিয়ে গিয়েছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৫ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক করেছেন। করোনাকালে পুরো পৃথিবী বিপর্যস্ত ছিলো। আমেরিকাসহ বিশ্বের উন্নত দেশে লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে। বিভিন্ন সংস্থা থেকে বলা হয়েছিলো বাংলাদেশের মানুষের লাশ রাস্তায় পড়ে থাকবে। কিন্তু দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর কারণে বাংলাদেশে অত্যন্ত কম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিলো। যার ফলে আজ কোভিড মোকাবেলায় বিশ্বের ১৩০ টি দেশের মধ্যে শীর্ষ ৫-এ জায়গা করে নিয়েছে।


প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুছলেম উদ্দিন আহমেদ এমপির সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। এছাড়া প্রতিনিধি সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


বিবার্তা/সোহেল/বিএম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com