আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে এবি পার্টির আলোচনা সভা
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২১, ১৮:১৭
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে এবি পার্টির আলোচনা সভা
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

আওয়ামী লীগ-বিএনপির ৫০ বছরের রাজনীতি দেশকে যেমন হতাশ করেছে তেমনি নারীদের অধিকার রক্ষায়ও উভয় দল ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী।


সোমবার (৮ মার্চ) স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন ও আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে এবি পার্টি ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত মুক্ত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টি ঢাকা (উত্তর) নেত্রী রাজিয়া সুলতানা।


ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, জনগনের নির্বাচিত সরকার ছাড়া নারী অধিকার এবং নাগরিক অধিকার কোনটিই অর্জন সম্ভব নয়। নারীর অবদান ও অন্তর্ভূক্তি ছাড়া সমাজ সম্পুর্ণ হতে পারেনা। আমার বাংলাদেশ পার্টির 'নতুন স্বপ্ন ও নতুন চিন্তা' এ বিষয়ে পথ দেখাবে এটা আমরা বিশ্বাস করতে চাই।


তিনি বলেন, ধর্ষনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন করা হয়েছে কিন্তু ধর্ষিতারা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিচায় পায়না। পার্লামেন্টে সাগর রুনি হত্যার বিচার নিয়ে একটা অধিবেশন হওয়া দরকার বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।


আলোচনা সভায় অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া বলেছেন, গণতান্ত্রিক সরকার জনগনের স্বার্থ নিয়ে চিন্তিত থাকে আর অগণতান্ত্রিক সরকারের ভয়ে জনগণ তটস্থ থাকে। অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না।



তিনি অভিযোগ করেন, এ সরকার দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা সব শেষ করে দিয়েছে। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করতে অন্তত ২০ বছর সময় লাগবে।


ড. রেজা কিবরিয়া আরো বলেন, আমাদের রাষ্ট্রে সরকারের শীর্ষ পদে অনেকেই নারী তাতে কী নারী অধীকার নিশ্চিত হয়েছে? বাস্তবতা হলো এখানে নারীদের ক্ষমতার মুখপাত্র করে চলছে ফ্যাসিবাদী উৎসব।


তিনি আরো বলেন, এ সরকার দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা সব শেষ করে দিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করতে অন্তত ২০ বছর সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ড. কিবরিয়া হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব অপকর্মের জন্য সরকারকে জবাব দিতে হবে।


উন্নত দেশের জনগণ পুলিশ বা সেনাবাহিনী প্রধানের নামও জানেন না। কিন্ত আমাদের দেশের অবস্থা পুরো উল্টো। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ৭১ এ আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেও কী স্বাধীন থাকতে পারছি? এখন অধিকারের জন্য আমাদের আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ করতে হচ্ছে। আমাদের নেতারা জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে গর্ব করেছে কিন্ত প্রবৃদ্ধির সংজ্ঞা-ডেফিনেশান সবই তাদের জন্য গড়া। যেখানে ঐ প্রবৃদ্ধির হিসাব সবই সাজানো।



সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে তাকালে আমি একদিকে গর্বিত যে পুরুষেরা আমাদের পাশে আছে। অন্যদিকে কষ্ট পাই এজন্য আপনারা এখনো আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারেন নি। আমি এক অন্ধকার যুগে আছি এখন নারী হিসাবে আমরা আজো ধর্ষিতা হচ্ছি, পরিবারের মধ্যে নিপীড়িত হচ্ছি, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রীরা রাজনৈতিক ভাবে নিপীড়িত হচ্ছে। যে নারী দিবস আমাদের আজো সম্ভ্রম দিতে পারেনি সে নারী দিবস আমরা চাইনা। আমাদের সমস্যা হলো মাইন্ডসেট। আমাদের সেই মাইন্ডসেট থেকে বের হতে হবে।


যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ডেমোক্রেট নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল হক বলেন, নারী অগ্রাধিকার পাওয়া রাষ্ট্রগুলোতে প্রতি ১৫ সেকেন্ডে একজন করে লাঞ্চিত হচ্ছেন। কিন্তু সেখানে ন্যায়বিচার আছে, সঠিক বিচার পায় মানুষ। বাংলাদেশেও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করতে না পারলে যত আন্দোলন করি লাভ হবে না। নারী অধিকার নিশ্চিত করতে হলে পুরুষকেই আগে এগিয়ে আসতে বলে মত দেন তিনি।


লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট গৌতম দাস বলেন, এবি পার্টির ঘোষনা পত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শব্দ আছে শব্দটি হলো "অধিকার"। আমাদের রাষ্ট্র কি অধিকার ভিত্তিক? দেশ এবং রাষ্ট্রের ধারণা পেয়েছি আমরা ইউরোপ থেকে। এখানে জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র এবং অধিকার বাদী রাষ্ট্র এর ধারণার মধ্যে তফাৎ আছে। সর্বাধুনিক রাষ্ট্রের ধারণা হলো অধিকার বাদী রাষ্ট্র। এখান থেকেই তৈরি হয় নাগরিক ধারণার পূর্ণতা। আজকে নারীরাও যদি একই ধারণা ধারণ করে, তবে তারা তাদের অধিকার অর্জনে সাম্যতা পাবে।



বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংগঠক ও সমাজ বিজ্ঞানী ডাঃ শওকত আরমান বলেন, করোনাকালেও আমি মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছি। নারীদের অধিকার আজো আমাদের সমাজে ভূলন্ঠিত কিন্ত রাষ্ট্রযন্ত্রে কোনো এক নারীর ক্ষমতা আমাদের আজকে নারী পুরুষ সবাইকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।


এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে আজও ভোটাধিকার নিয়ে কথা বলতে হয়, নারী অধিকার চাইতে হয়। জাতি হিসেবে এটা আমাদের জন্য লজ্জার।


আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- সাবেক সচিব ও এবি পার্টির আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী, অভিনেত্রী আরজুমান্দ আরা বকুল, এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট তাজুল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী আফরোজা ইসলাম আঁখি, শ্রমিক নেত্রী বেবী পাঠান, আইনজীবী ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, ঢাকা মহানগর এবি পার্টির সমন্বয়ক নাজমুল হুদা অপু, জাতীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত নারী ক্রীড়াবিদ শাহাদা আক্তার শোভা প্রমূখ। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এবি পার্টির সংগঠক নুসরাত তামান্না ফারুকী ও রেখা আক্তার।


বিবার্তা/আবদাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com