মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার পরামর্শ হানিফের
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২১, ১৬:৫৪
মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার পরামর্শ হানিফের
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় দাখিলের বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের উত্তরপত্র ভিন্ন ধারার শিক্ষকদের দিয়ে মূল্যায়নে সুপারিশ এবং দেশের প্রতিটি মাদ্রাসায় জাতীয় সংগীত গাওয়া ও পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক করার চিন্তা করছে সরকার। সম্প্রতি এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক এবং সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ।


বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটি দাখিল পরীক্ষার বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের উত্তরপত্র অন্য ধারার শিক্ষকদের মাধ্যমে মূল্যায়ন এবং দেশের প্রতিটি মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে।


সুপারিশে দেশে যে কোনো মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার আগে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন গ্রহণের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। নকল প্রতিরোধে গৃহীত ব্যবস্থা, উগ্র সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ ও প্রতিকারে মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ গ্রহণেরও সুপারিশ করা হয়। এছাড়া মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি, গভর্নিং বডি, নির্বাহী কমিটি ও এডহক কমিটি গঠন প্রক্রিয়া এবং কমিটি-সংক্রান্ত উদ্ভূত জটিলতা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। নিয়মানুযায়ী সংসদীয় কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় বা সরকারের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।


এ বিষয়ে কমিটির অন্যতম সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, দেখা যাচ্ছে দাখিলে এসব বিষয়ে ভালো করা অনেক শিক্ষার্থী পরে এসব বিষয়ে ভালো করছে না। অর্থাৎ তাদের মধ্যে দুর্বলতা থেকে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, একই ধারার শিক্ষকরা সবাই ঠিকমতো শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র দেখতে পারছেন না। দাখিল পাস করেই উচ্চশিক্ষার দিকে যায় শিক্ষার্থীরা এবং পরবর্তীতে চাকরির জন্য অনেক পরীক্ষায় তাদের অংশ নিতে হয়।


হানিফ আরো বলেন, এখানে সঠিক মূল্যায়ন হলে, পরে আর তাদের সমস্যায় পড়তে হবে না বলেই আমরা চাই তারা এসব বিষয়ে যথাযথ যোগ্যতা অর্জন করুক এবং সেভাবেই মূল্যায়ন হোক। কিন্তু এসব বিষয়ে যোগ্য শিক্ষকেরও সংকট আছে। আবার অনেকের মধ্যে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার প্রবণতাও আছে। অন্য ধারার শিক্ষক দিয়ে মূল্যায়ন হলে, এসব সমস্যা কেটে যাবে বলে মনে করেছে কমিটি।


জাতীয় সংগীত গাওয়া ও পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে গত ১০ ডিসেম্বর এক মতবিনিময় সভায় হানিফ বলেছেন, দেশের প্রতিটি মাদ্রাসায় বাধ্যতামূলকভাবে জাতীয় সংগীত গাইতে হবে ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। কারণ সংবিধানে আছে, এই দেশে বাস করতে হলে সংবিধান মেনে চলতে হবে। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনোসুযোগ নেই।


দাখিলে কী পড়ানো হয়, শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতি কি?


বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দাখিল হলো এসএসসির সমমানের এবং দাখিল মাদ্রাসাগুলোতে প্রথম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয়।


প্রধানত: ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোরআন ও হাদিস শিক্ষার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানেও বাংলা, অংক, ইংরেজি ও বাংলাদেশের বিশ্ব পরিচয়ের মতো বিষয়গুলো পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।


আর দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের যেমন অনুমোদন দরকার তেমনি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সরকারের নিবন্ধিত শিক্ষকের তালিকা থেকেই শিক্ষক নিয়োগ করতে হয়।


মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের হিসেবে এখন দেশে অনুমোদিত দাখিল মাদ্রাসার সংখ্যা ৬,৫৯৩টি।এছাড়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসার (প্রথম থেকে ৫ম শ্রেণি) সংখ্যা ৩,৪৩৩টি, আলিম মাদ্রাসার (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী) সংখ্যা ১,৫৫৮টি। ফাজিল (ডিগ্রি বা স্নাতক) ও কামিল মাদ্রাসার (মাস্টার্স/স্নাতকোত্তর) ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে।


তবে এর বাইরেও অসংখ্য কওমি মাদ্রাসা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুরো দেশ জুড়ে যেগুলো নুরানি মক্তব, ফোরকানিয়া, কারিয়ানা কিংবা হাফেজি মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত।


মাদ্রাসা শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের অভিমত:


দাখিলের বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের উত্তরপত্র ভিন্ন ধারার শিক্ষকদের দিয়ে মূল্যায়নের বিষয়ে ​মাদ্রাসা শিক্ষকদের দাবি, শিক্ষক নিয়ে সংকট গত কয়েক বছরে কেটে যাওয়ায় এসব বিষয়ের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য এখন মাদ্রাসা শিক্ষকরাই যথেষ্ট।


বিশেষজ্ঞদের অভিমত- এগুলো অপ্রয়োজনীয় চিন্তা। বরং ব্যবস্থাপনা আরো স্বচ্ছ করে অধিকতর যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করাটাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।


মাদ্রাসা বিষয়ে অভিজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, মাদ্রাসায় বাংলা, অংক ও ইংরেজি যারা পড়ান তারা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা। তারা কিন্তু মাদ্রাসায় পড়া নন। কোনো কোনো মাদ্রাসায় হয়তো সুনির্দিষ্ট কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অযোগ্যতার অভিযোগ থাকতে পারে। কিন্তু ঢালাও ভাবে অন্য ধারার শিক্ষকদের দিয়ে এসব বিষয়ের উত্তরপত্র মূল্যায়নের চিন্তা করলে সেটি নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি করবে। কারণ, এসব শিক্ষকরা সাধারণ শিক্ষায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষিত।


বিবার্তা/আবদাল


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com