ইসি সরকারের ‘বংশবদ ক্রীড়ানক’হিসেবে কাজ করছে : ফখরুল
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ১৭:১৩
ইসি সরকারের ‘বংশবদ ক্রীড়ানক’হিসেবে কাজ করছে : ফখরুল
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘মধ্যবর্তী নয়, ফ্রেশ নির্বাচনের’ দাবি জানিয়ে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের ‘বংশবদ ক্রীড়ানক’ হিসেবে কাজ করছে।


‘কোনো মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে না’আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘আমরা তো একথা (মধ্যবর্তী) এখনও বলিনি। আমরা গত নির্বাচন যেটা হয়েছে সেটাই তো মানছি না, আমরা ওইটাকে অবৈধ বলছি, আমরা ওইটাকে বাতিল করার কথা বলছি।


ফখরুল বলেন, আপনারা দেখেন, আমাদের প্রত্যেকটা স্টেটমেন্টে একথা বলেছি যে, ২০১৮ সালের নির্বাচন আমরা মানি না, এই নির্বাচন বাতিল করে ফ্রেশ নির্বাচন দেয়া হোক।


রবিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


বিএনপি মহাসচিব বলেন, মধ্যবর্তী-টড্ডবর্তী নির্বাচনের কথা আমরা তো বলিনি ভাই। যখন বলব তখন দল থেকে বলা হবে তখন অবশ্যই বলা হবে। এখন ব্যক্তিগতভাবে কেউ কিছু বললে, যারা সিভিল সোসাইটিতে আছেন তাদের মধ্যে কেউ বলতে পারেন- দ্যাট ইজ দ্যায়ার অপিনিয়ন। আমরা বিশ্বাস করি যে, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। যে কারণে আমরা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলে এসেছি, এটাতে আমরা বিশ্বাস করি।’


পাবনা-৪, ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনের ভোট নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনটি উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের মতোই ত্রাস সৃষ্টি করে এবং ভোট ডাকাতি করে জাল ভোট মেরে বিরোধী দলের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে জোর করে বের করে দিয়ে ভোট ছিনতাই করেছে। নির্বাচন কমিশন নির্বিকার দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। রিটার্নিং অফিসার ধানের শীষের প্রার্থীদের অভিযোগ গ্রহণ করেননি।


তিনি বলেন, গতকালকে অবলীয়লায় মিথ্যা কথা বলেছেন চিফ ইলেকশন কমিশনার (সিইসি)। কোনো অভিযোগ নাকি তারা পান নাই। ঢাকা থেকেই ১৬২টা অভিযোগ দেয়া হয়েছে। বিনা ভোটের স্বঘোষিত সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য ভোট ডাকাতির কৌশলে জনগণকে আবারও প্রতারিত করলো। অযোগ্য এবং সরকারের বশংবদ নির্বাচন কমিশন ক্রীড়ানকের থেকে এই ভূমিকা পালন করছে।


বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, এই অবৈধ সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে দেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে একদিকে নজিরবিহীন দুর্নীতি ও দুঃশানন অন্যদিকে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করে ফ্যাসিস্ট রাজত্ব কায়েম করেছে। সুপরিকল্পিভাবে নির্বাচন কমিশন জনগণকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করে দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।


এসময় সদ্য শেষ হওয়া উপনির্বাচনের ঘোষিত ফলাফল বাতিল ও পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে ২ দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব।


কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আগামী ১৯ অক্টোবর সারা দেশে মহানগর ও জেলায় এবং ২০ অক্টোবর থানা-উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ।


পাবনা-৪, ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ উপনির্বাচনে ক্ষমতাসী দল ও সরকারের প্রশাসনের ভোট কারচুপির ঘটনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের মারধর করে বের করে ওরা (ক্ষমতাসীন) জাল ভোট দিয়ে ভোট ডাকাতি করেছে, ত্রাস সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন কমিশন ইভিএম দিয়ে ভুয়া ফলাফল তৈরি করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করেছে। আমরা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করেছি এবং সেই নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।


গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে গত শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত তুলে ধরা হয়।


বিবার্তা/বিপ্লব/জাই

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com