মাহফুজ আনামের বক্তব্যে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে: রিজভী
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪:০৬
মাহফুজ আনামের বক্তব্যে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে: রিজভী
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘এই ভয়াবহ দুঃসময়ে গণতন্ত্র দিবসে ইংরেজি দৈনিক ‘দি ডেইলি স্টার’ এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম নিজের একটি নিবন্ধ ছেপেছেন। যে নিবন্ধের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে- বিএনপি চেয়ারপারসন এবং সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নির্জলা মিথ্যাচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসংলগ্ন মতামত। ওয়ান ইলেভেনের গণতন্ত্র ধংসের প্রধান কুশীলবদের অন্যতম হোতা এবং সেনা সমর্থিত মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত মাহফুজ আনাম তার এই নিবন্ধে বেগম জিয়াকে নিয়ে সরাসরি ও ইঙ্গিতে যে মন্তব্য করেছেন তাতে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।


শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের কথা বলতে গিয়ে তিনি ইনিয়ে বিনিয়ে বারবার বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন। যা হলুদ সাংবাদিকতা ও বর্তমান মিডনাইট সরকারের নির্লজ্জ স্তুতিরই সমতুল্য। মাহফুজ আনাম ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে তার প্রবন্ধে যা লিখেছেন তা অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পারিষদবর্গের হাইপার-প্রপাগান্ডা ও কলুষিত মিথ্যাচারের প্রতিধ্বনি মাত্র। মিথ্যা বানোয়াট গল্প সাজিয়ে সংবাদ পরিবেশনের দায়ে বার বার ক্ষমা চেয়ে এখন সরকারের কাছে সাধু সাজার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন তিনি। তার লেখালেখির ভিশন-মিশন হলো বিএনপির বিরুদ্ধে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কাহিনী রচনা করে তা প্রকাশ করা। ভয়ে হোক বা উচ্ছিষ্ট ভোগীচ্ছায় হোক- গণতন্ত্রহীন ও বেপরোয়া আচরণে লিপ্ত আওয়ামী লীগ সরকারকে খুশি করাই এখন তার আরাধ্য। মাহফুজ আনাম এখন আওয়ামী নব্য নাৎসিবাদের উপাসকে পরিণত হয়েছেন।


ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহমুজ আনামের কড়া সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী আরো বলেন, নিজেকে কথিত ‘প্রতিষ্ঠানতুল্য সাংবাদিক’ দাবি করা সাংবাদিকতার ‘এথিকস’ শেখানো, কে এই মাহফুজ আনাম? কী তার আমলনামা? গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা সাজা এই মুখোশধারী মাহফুজ সাহেবের পিতা ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভায় দীপ্তিমান সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক-সম্পাদক সর্বজন শ্রদ্ধেয়। সেই স্মরণীয় আবুল মনসুর আহমদের নাম তিনি ভূলুণ্ঠিত করছেন। মাহফুজ আনামদের সারথী হয়ে তথাকথিত সুশীল শ্রেণির বেশ কয়েকজন এদেশে গণতন্ত্র হত্যা করে এক এগারোর অসাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। স্বচ্ছ সাংবাদিকতা নয়, বিদেশি অর্থদাতা প্রভু ও দেশীয় গোয়েন্দাদের এজেন্ট হিসেবেই কাজ করেছেন মাহফুজ আনাম। মাহফুজ আনামদের বাংলাদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস এবং ফ্যাসিবাদের উত্থানে ভূমিকা ও অপতৎপরতা কলংকিত ইতিহাস হয়ে থাকবে।


তিনি বলেন, বিএনপি বিপুল বিজয়ে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যার মাধ্যমে অসাংবিধানিক শাসন কায়েম করার নীলনকশা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে এই মাহফুজ সাহেবরা। কারণে অকারণে তাদের প্রায় প্রতিদিন দেখা যেতো জাতির সামনে নানা ছবক নিয়ে হাজির হতে। তাদের নেতৃত্বেই তখন নানা ইস্যু বানিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির পালে হাওয়া দেয়া হয়।


তিনি আরো বলেন, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি অবৈধভাবে ক্ষমতা গ্রহণকারীদের মাধ্যমে সুশীল সমাজের কিছু ব্যক্তি তাদের প্রথম লক্ষ্য হাসিল করে। সেই লক্ষ্য হাসিলে পুরোধা ছিলেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার নিয়ে সেদিন তিনি উল্লাস করেছিলেন। এ সরকার আনার পেছনে নিজের কৃতিত্ব নিয়ে সগর্বে কলাম লিখেছিলেন-‘দুই নেত্রীকে বিদায় নিতে হবে’ শিরোনামে। ডেইলি স্টার গ্রুপের পত্রিকায় গণতান্ত্রিক সরকারের পরিবর্তে সেনাসমর্থিত অগণতান্ত্রিক, একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরশাসনকে স্বাগত জানিয়ে প্রকাশ করা হয়েছিল একটির পর একটি নিবন্ধ। পুরো সময়টা তারা গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থাকে শুধুই গালমন্দ করে মনগড়া নিবন্ধ লিখে গেছেন।


রিজভী বলেন, মাইনাস ফর্মুলায় দেশকে রাজনীতিশূন্য করতে মাহফুজ আনাম মিথ্যা, অসত্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করে রাজনীতিকদের গ্রেফতারের পটভূমি রচনার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তৎকালীন অবৈধ সরকার গণমানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এক বছরের বেশি সময় কারাবন্দি করে রাখে। এদেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রাণপ্রিয় নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানকে হত্যার চেষ্টা করেছে। নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। আজও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। এর জন্য দায়ী ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা। মাহফুজ আনামদের চোখে সব দোষ রাজনীতিকদের।


তিনি বলেন, মাহফুজ আনামকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, বিএনপি’র মতো একটি জনপ্রিয় দল কেন ২১ আগষ্টের ঘটনা ঘটাবে। যেহেতু বিএনপি তখন ক্ষমতায় বিএনপি কেন নিজেই নিজের সরকারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইবে? ২১ আগস্ট ঘটনার পর বিএনপি সরকার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল এবং আমেরিকা থেকে এফবিআই-এর একটি দল এনে তদন্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগ সেদিন কোন সহযোগিতা করেনি। এ কথাগুলো আপনার লেখাতে আসেনি কেন? প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান জড়িত। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ারও দায় আছে বলে বক্তব্য দেন। কিন্তু বাংলাদেশের কোনও মানুষই তা বিশ্বাস করে না। কিন্তু শেখ হাসিনার বিশ্বাস আপনার লেখাতে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছেন।


সংবাদ সম্মেলনে সাবেক ছাত্রনেতা খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, নাজিমউদ্দিন আলম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাইফুল আলম নীরব, মীর সরাফত আলী, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল ও রাজিব আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


বিবার্তা/জাহিদ/এনকে

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com