একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন আশা করি: আতিক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৪:১৬
একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন আশা করি: আতিক
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকা সিটি নির্বাচনে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাংবাদিক ফোরামের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।


তিনি বলেন, গতকাল এখানে আমার প্রতিদ্বন্দ্বীরা এসেছিলেন। আগামীকাল হয়তো অন্য কেউ আসবেন। আজ আমি এসেছি। একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে বলে আশা করছি।


তিনি আরো বলেন, ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যত বেশি ভোটার উপস্থিত হবে, নৌকার বিজয় তত বেশি সুনিশ্চিত হবে।


রাজধানীতে ডেঙ্গুর বিস্তার প্রসঙ্গে আতিকুল বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার আট দিনের মাথায় এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ড হয়। এর কিছুদিন পর ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করে। এই মহামারী ঠেকাতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। দুঃখের বিষয় হলো, সিটি করপোরেশনের কোনো কীটতত্ত্ববিদ নেই। আর যারা মশার ওষুধ ছিটান, তাদের টেককেয়ার করার লোক নেই। যেমন গার্মেন্টস সেক্টরে একটি প্রোডাক্ট তৈরির পর তার কোয়ালিটি মেইনটেইন করা হয়। কিন্তু সিটি করপোরেশনের সেটা ছিল না। আমি চেষ্টা করব, নির্বাচিত হলে এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়ার।


এসময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তার চাকরি যাওয়া প্রসঙ্গে আতিকুল আরোবলেন, আমি একদিন সিটি করপোরেশনের মিটিংয়ে বলেছিলাম, হোল্ডিং ট্যাক্স মানুষ বাসায় বসে অনলাইনের মাধ্যমেই দিতে পারবেন। কিন্তু ওই কর্মকর্তা বলেছিলেন, ‘স্যার তা সম্ভব না।’ তখনই আমার সন্দেহ জাগে। আমি তার ফাইল খুঁজে বের করি। জানতে পারি, তিনি একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতা। আমি খবর নিয়ে জানতে পারি, ঢাকায় তার আট থেকে দশটি বাড়ি আছে। পরে তার ফাইল দেখে জানতে পারি আয়ের উৎস। হোল্ডিং ট্যাক্সের যে টাকা আসে, অর্ধেক টাকা নিজের পকেটে নিয়ে বাকি অর্ধেক সরকারি কোষাগারে দিতেন তিনি। আমি যখন তার চাকরি খেতে যাই, তখন অনেকে বলেছেন, ‘স্যার এটা আপনি পারবেন না।’ তখন বলেছি, আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব। প্রধানমন্ত্রী আমাকে যখন দায়িত্ব দিয়েছেন, তখন বলেছেন, ‘কালো চশমা পড়ো, আর আমার মোবাইল নম্বর রাখো। যেই দুর্নীতি করুক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’ পরে ওই কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করে আমি প্রধানমন্ত্রীকে জানাই। প্রধানমন্ত্রী আমাকে ওয়েলডান বলে সামনে এগিয়ে যেতে বলেন। এটাই শেখ হাসিনার দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ।


নির্বাচিত হওয়ার ছয় মাসের মাধ্যে অটোমেশন সিস্টেম চালু করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অনলাইনের মাধ্যমে হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ সব কাজ সম্পন্ন করতে হবে। ফেস টু ফেস কেউ ট্যাক্স দিতে-নিতে পারবে না।


আতিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের এ ঢাকা শহর একটি অপরিকল্পিত শহর। আমরা বিদেশে দেখেছি কীভাবে একটি প্ল্যান করে আরবানাইজেশন করে। কিন্তু আমাদের দেশে সেটা নেই। আমি নয় মাস দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একটি দিনও সময় নষ্ট করিনি। আমি নগর পিতা হিসেবে নয়, নাগরিক সেবক হিসেবে কাজ করেছি।


তিনি বলেন, নৌকার কোনো ব্যাক গিয়ার নেই। নৌকার গিয়ার একটি। সেটি হচ্ছে উন্নয়নের গিয়ার। নৌকা দিয়েছে স্বাধীনতা। নৌকা দেবে উন্নয়ন। নৌকা দেবে সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা। নৌকা এগিয়ে যাবে।


মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন- সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, সাংবাদিক নেতা ইকবাল হোসেন সোবহান, সাইফুল আলম, শফিকুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, শাবান মাহমুদ, রফিকুল ইসলাম রতন, সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।


বিবার্তা/খলিল/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com