২১ আগস্টের রহস্য উদ্ঘাটন সময়ের দাবি
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৯, ১২:১৩
২১ আগস্টের রহস্য উদ্ঘাটন সময়ের দাবি
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসানের লক্ষ্যে আরেকটি ২১ আগস্টের উদ্ভব যাতে কোনো দিন না হয় তা নিশ্চিত করতেই এ ঘটনার অন্তরালের রহস্য জাতির সামনে প্রকাশের দাবি করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।


দলটির মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেছেন, ২১ আগস্টের ঘটনার সাথে জড়িত, হত্যা ও ষড়যন্ত্রের নেপথ্য হোতাদের চিহ্নিত করা এবং তাদের শিকড় সমাজ ও দেশ থেকে উচ্ছেদ করা আজ সময়ের দাবি।


তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করাই ছিল গ্রেনেড হামলা পরিকল্পনাকারীদের প্রধান টার্গেট। পৃথিবীতে এমন কলঙ্কজনক ঘটনার নজির খুব বেশি নেই বলেই ধারণা। সে সময় জজ মিয়া নামে এক নিরীহ ব্যক্তিকে আটক করে তার কাছ থেকে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করে ঘটনার প্রকৃত কুশীলবদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী। ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার আড়ালে প্রকৃত সত্য কী ছিল, দেশবাসীর সামনে তা উদ্ঘাটন সময়ের দাবি।


বুধবার (২১ আগস্ট) শাহজাহানপুরস্থ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষিকী স্মরণে জাতীয় গণমুক্তি আন্দোলন আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


গোলাম মোস্তফা বলেন, ২০০৪ সালে ওই ন্যক্কারজনক গ্রেনেড হামলার সময় যারা সরকারে ছিলেন, তারা কিছুতেই এর দায় এড়াতে পারেন না। কারণ সরকার বা রাষ্ট্রের মদদ ছাড়া এবং দেশ বা বিদেশের কোনো না কোনো সামরিক উৎস ছাড়া এত বিপুলসংখ্যক আরজিএস গ্রেনেড অসামরিক জনসমাবেশে নিক্ষিপ্ত হতে পারে না। আর ওই গ্রেনেড হামলার পর ‘জজ মিয়া' নাটক সাজিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা একটি অপরাজনীতি ও নোংরা মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ মাত্র।


ন্যাপ মহাসচিব বলেন, গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত যেসব আসামির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, দায় তাদেরই। সমগ্র রাজনৈতিক দলের নয়- সবার মধ্যে এ উপলব্ধিও থাকা উচিত। দলের বিশেষ ব্যক্তি বা গ্রুপের সংশ্লিষ্টতা মানে সমগ্র দলের সংশ্লিষ্টতা নয়- এ উপলব্ধি থেকে দলীয় হাইকমান্ডেরও উচিত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। আর ভয়াবহ এ ঘটনা থেকে রাজনৈতিক নেতাদেরও শিক্ষা নিয়ে সজাগ হতে হবে।


তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা শেষ হয়ে যাবে না। জাতীয় স্বার্থে-গণতন্ত্রের স্বার্থে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিকে সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।


রাজনীতিতে মত-পার্থক্য থাকবে, মতবিরোধ থাকবে, প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু প্রতিহিংসা থাকতে পারে না। প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটাতে না পারলে এবং বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ও সদাজাগ্রত রাখতে না পারলে বিপদ আসন্ন, এটা বলা নিশ্চয়ই অসঙ্গত হবে না। সুতরাং সময় থাকতে সাবধান হওয়াই উচিত।


সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন- এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, লেবার পার্টি মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ ন্যাপ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল ভূঁইয়া, সংগঠনের সমন্বয় কমিটির সদস্য আবদুল হালিম, মাওলানা আবু জাফর রেদোয়ানী, আবদুল কাইয়ূম মাহমুদ, আফরোজা বেগম, ইমরুল হাসান, যুবনেতা আবদুল হালিম মল্লিক প্রমুখ।



বিবার্তা/রবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com