নবরত্ন মন্দিরের অপুর্ব কারুকার্য খচিত প্রাচীন সৌন্দর্য
প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ১৩:৩৫
নবরত্ন মন্দিরের অপুর্ব কারুকার্য খচিত প্রাচীন সৌন্দর্য
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে দু’পা ফেলিয়া- একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশির বিন্দু এই উক্তিটি মনে পড়ে যাবে আপনি যদি কখনও এ অপুর্ব কারুকার্য খচিত প্রাচীন সৌন্দর্যের মুখোমুখি হন।


উল্লাপাড়া উপজেলার উত্তর সীমান্তে হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত হাটিকুমরুল গ্রাম। পাখীর কোলাহলপূর্ণ ছায়া সুনিবির সবুজে ঘেরা চত্তরে ১৭০৮ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত হয়েছে এই নবরত্ন মন্দির। এই মন্দির নির্মাণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।


জানা যায়, মথরার রাজা প্রাণনাথের অত্যন্ত প্রিয় ব্যাক্তি ছিলেন জমিদার রামনাথ ভাদুরী। মথুরার রাজা প্রাণনাথ দিনাজপুর জেলার ঐতিহাসিক কান জির মন্দির নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যায় করে সংকটে পড়ে যান, এতে তিনি ব্যাৎসরিক রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হন।


এদিকে রামনাথ ভাদুরী বকেয়া আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে মথুরায় গিয়ে রাজা প্রাণনাথকে রাজস্ব পরিশোধের ওপর চাপ দেন। রাজা প্রাণনাথ বকেয়া পরিশোধে ব্যার্থ হয়েছিলেন।


এদিকে রামনাথ ভাদুরী মথুরা থেকে অর্থশুন্য হাতে ফিরে এসে, বন্ধুত্বের খাতিরে কোষাগার থেকে টাকা দিয়ে রাজা প্রাণনাথের বকেয়া পরিশোধ করে দেন। তবে এর বিনিময়ে তিনি রাজা প্রাণনাথকে দিনাজপুরের কান্তজির মন্দিরের আদলে হাটিকুমরুলে একটি মন্দির নির্মাণের শর্ত জুড়ে দেন। শর্ত মোতাবেক রাজা প্রাণনাথ কান্তজির মন্দিরের অবিকল নকশায় হাটিকুমরুলে এই নবরত্ন মন্দির নির্মাণ করে দেন।


অরক্ষিত এই নবরত্ন মন্দিরের অনেক মুল্যবান প্রাচিন সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে দেশী-বিদেশী দুর্বৃত্তরা। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ঐতিহ্যের এই নিদর্শন কালের আবর্জনা মাটির বুক চিরে পর্যায়ক্রমে বের করে নিয়ে আসে এই প্রাচীন সৌন্দর্য।


প্রত্নত্ত্ব বিভাগের বিশেষঙ্গদেও অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এই নবরত্ন মিসরের পিরামিডের মতো ধীরে ধীরে ফিরে পেতে থাকে প্রাচীন ঐতিহ্যসহ তার হারানো অপরুপ সৌন্দর্য। প্রতিদিন এখানে দুর-দুরান্তের দর্শনার্থীদের আনাগোনা লেগেই থাকে।


এছাড়াও জার্মান জাপান, ফ্রান্স, আমেরিকা, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক এখানে আসেন। নবরত্ন মন্দিরে চারদিকে এখনও প্রায় দুইশত ঘর হিন্দু পরিবার বসবাস করে। মুল মন্দিরের পাশেই হিন্দুদের পূজা অর্চনার জন্য একটি জরজীর্ণ মন্দির রয়েছে। এটাও মুল মন্দির নবরত্নের সাথে সংযুক্ত রেখে মেরামত করা দরকার। নবরত্ন মন্দিরের চারপাশের জায়গাগুলো দখল মুক্ত করে পর্যটকদের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে এই নবরত্নের পরিচয়ে উল্লাপাড়া উপজেলার পরিচিতি ও মর্যাদা অনেক বৃদ্বি পাবে। বর্তমান গনতান্ত্রিক সরকারের কাছে এটাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।


বিবার্তা/নাসিম/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

বি-৮, ইউরেকা হোমস, ২/এফ/১, 

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com