ঢাকার পাশেই এক টুকরো কক্সবাজার
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০১৮, ০৩:৪০
ঢাকার পাশেই এক টুকরো কক্সবাজার
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

ইট পাথরের শহরে বেশ হাপিয়ে ইঠেছিলাম, মন চেয়েছিলো ছুটে যাই দূরে কোথাও আর সেটা যদি হয় সমুদ্র তাহলে আর কথাই নেই। আর কক্সবাজার সেতো অনেক দূর। ঢাকার পাশেই খুঁজে পেলাম এক টুকরো কক্সবাজার। সেই একটুকরো কক্সবাজারকে বলা হচ্ছে মৈনট ঘাট। আজ আমরা দেখবো এই মৈনট ঘাটে এমন কী কী আছে.... এবং আপনাদেরও দেখাবো। .... ঠিক এভাবেই বলছিলেন মডেল ও সাংবাদিক আমির পারভেজ। যিনি ঢাকার ভেতরে এই দর্শনীয় স্থানটি সম্পর্কে তার অসাধারণ উপস্থাপনা দিয়ে দর্শকদের দেখাবেন মনোমুগ্ধকর আর বিশাল জলরাশি, পদ্মায় হেলেদুলে ভেসে বেড়ানোর অপার আনন্দ।


মৈনট ঘাট, যেখানে আপনি আসলে মুগ্ধ হবেন। তাকিয়ে থাকবেন পদ্মা নদীর অপরূপ জলরাশির দিকে। এই বিশাল জলরাশি, পদ্মায় হেলেদুলে ভেসে বেড়ানো জেলেদের নৌকা দেখা আর পদ্মার তীরে হেঁটে বেড়ানো, সব মিলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য আপনার মনে হবে আপনি এখন ঢাকার দোহারে নয়, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আছেন। মূলত এ কারণেই অনেকে মৈনট ঘাটকে বলে থাকেন ছোট কক্সবাজার।




একসময় মৈনট ঘাট থেকে ফরিদপুর যাতায়াতের জন্য আমাদের কার্তিকপুর বাজার থেকে মৈনট ঘাট পর্যন্ত প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ফেরির প্ল্যানটা বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে এই রাস্তাটিও অবহেলায়-অযত্নে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। অনেকদিন এভাবে থাকার কারণে অপ্রয়োজনে কেউ ওই দিকটায় তেমন একটা পা বাড়াত না। সাম্প্রতিককালে রাস্তাটি পুনরায় মেরামত করার ফলে আবার আসা শুরু করছে মানুষ।


খুব ভোরে মৈনট ঘাটেই বসে আপনি দেখতে পাবেন সারা রাত পদ্মা নদীতে জেলেদের শিকার করা মাছের বাজার। পদ্মা নদীর সেই নামকরা ইলিশসহ অনেক প্রজাতির মাছই আপনি কিনতে পারবেন এখান থেকে, একদম টাটকা! মৈনট ঘাট দর্শনের উপযুক্ত সময় হচ্ছে বর্ষাকাল। তখন রাস্তার দুই পাশের নিম্নভূমি, যেখানে বর্ষার আগে বিস্তীর্ণ ভূমিজুড়ে বাদামের চাষ করা হয়, আর সবই বর্ষায় পদ্মার পানিতে তলিয়ে যায়। সে এক দেখার মতো দৃশ্য। বর্ষার আগে এর সৌন্দর্যের কমতি নেই। তখন দেখা যাবে পদ্মা নদীর শান্ত রূপ। একটা সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে সূর্যাস্ত দেখলে পরবর্তী একশোটা সন্ধ্যার কথা মনে থাকবে আপনার। আমাদের প্রধান প্রধান উৎসবের দিনগুলোতে মানুষ এখানে আসছে, ঘুরছে। স্পিডবোট, ট্রলার অথবা খেয়ানৌকা নিয়ে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে অনেকেই।


ঘাটের পূর্ব পাশে বিশাল চর মানুষকে সাগরের বেলাভূমির কথা মনে করিয়ে দেয় আর সামনের বিস্তীর্ণ পদ্মা হয়ে যায় সাগর। আর চাইলে এখান থেকে নৌকায় করে পদ্মা নদীতে ঘুরে বেড়ানো যায় কিংবা পাড় ধরে হাটা যায় ইচ্ছে মতো।


মিনি কক্সবাজারের এখানে আপনি পাবেন বেশ সুন্দর সুন্দর রঙ-বেরঙের ঘুড়ি। আর এই ঘুড়িগুলো উড়িয়ে দিতে পারবেন নীল ঐ আকাশে। যেহেতু নাটাই থাকবে আপনার হাতে।
মৈনট ঘাট থেকে পদ্মায় ঘুরে বেড়ানোর জন্য আছে স্পিড বোট। আট জনের চড়ার উপযোগী একটি বোটের ভাড়া ত্রিশ মিটিটের জন্য দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। এছাড়া ছোট বড় নানান আকারের ইঞ্জিন নৌকাও আছে। আড়াইশ থেকে ৮শ’ টাকা ঘণ্টায় এসব ইঞ্জিন নৌকায় চার থেকে ২০/২৫ জন একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানো যায়।



এ সময়ে পদ্মায় হঠাৎ হঠাৎই ঢেউ বেড়ে যায়। খুব ছোট নৌকা নিয়ে তাই পদ্মার ভেতরে বেড়াতে যাবেন না। সাঁতার না জানলে লাইফ জ্যাকেট ছাড়া নৌকা ভ্রমণে যাবেন না। স্পিড বোটে কোনো ভাবেই লাইফ জ্যাকেট ছাড়া ভ্রমণ করবেন না।


ছুটির দিনগুলোতে আশেপাশের স্থানীয় লোকজন পদ্মার বুকে স্পীডবোট আর ট্রলার নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দূরদুরান্ত থেকেও আসেন অনেকে। ঘাটের পাশাপাশি দেখে যেতে পারবেন নবাবগঞ্জের জজবাড়ি, উকিলবাড়ি, আনসার ক্যাম্প, খেলারাম দাতার বাড়িসহ আরও কিছু দর্শনীয় স্থান।


কীভাবে যাবেন


অনেকের কাছে বাস খুব অস্বস্তির। আবার অনেকের কাছে বাইক খুবই পছন্দের। আর যারা বাস আর বাইকের অস্বস্তিতে ভুগছেন তারা চাইলে সিএনজি করে আসতে-যেতে পারেন মৈনট ঘাটে। আর এর জন্যে আপনাকে গুনথে হবে মাত্র ২০০ টাকা। আর যদি রির্জাভ করতে চান তাহলে ৯০০ টাকা।


গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজার থেকে দোহারের মৈনট ঘাটে সরাসরি বাস সার্ভিস আছে যমুনা পরিবহনের। ভাড়া ৯০ টাকা জনপ্রতি, সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্ট। মৈনটঘাট থেকে ঢাকায় ফেরার সর্বশেষ ট্রিপ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়। তবে নবাবগঞ্জের সব জায়গা ও মৈনট ঘাটে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নিজস্ব গাড়ি কিংবা কয়েকজন মিলে ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে যাওয়া ভালো।



প্রয়োজনীয় তথ্য
মৈনট ঘাটে দুটি মাত্র রেস্তোরাঁ আছে। এগুলোতে মাঝেমধ্যে পদ্মার ইলিশ পাওয়া গেলেও ছুটির দিনগুলোতে মৈটন ঘাটের পর্যটকের ভিড় লেগে যায় বলে তা ভাগে পাওয়া দুষ্কর। তবে মৈনট ঘাটের কাছে কার্তিকপুর বাজারে তুলনামূলক ভালো খাবারের ব্যবস্থা আছে। এছাড়া মৈনট ঘাট থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে জয়পাড়া বাজারেও খাবারের ভালো ব্যবস্থা আছে।


সতর্কতা


এখানে স্রোতের টান প্রচুর তাই সাঁতার না জানলে গোসল করার সময় বেশি পানিতে যাবেন না।


মনে রাখবেন এটা কোন সমদ্র সৈকত নয়, কিছু কিছু জায়গায় অনেক গভীর। পানিতে নামার আশেপাশের মানুষদের জিজ্ঞেস করে নিন।


সিগারেট অথবা খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল অথবা কোন প্রকার ময়লা যেখানে সেখানে ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না।


দোকানি, নৌকাচালক সবার সাথে ভালো ব্যবহার করুন।


তাহলে দর্শক আর দেরি কেন? কান পেতে শুনুন। অপার সৌন্দর্য বুকে ধারণ করে পরম মমতায় পদ্মা নদী আপনাকে ডাকছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৈনট ঘাট আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে।


বিবার্তা/শারমিন/শাহনাজ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com