সবুজ পর্যটনে বিনিয়োগের আহ্বান
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৮, ১৭:৩৯
সবুজ পর্যটনে বিনিয়োগের আহ্বান
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পর্যটন মেলা আইটিবি ২০১৮-এ ''সবুজ পর্যটনে বিনিয়োগের'' আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের ধনী দেশগুলোর পর্যটন খাতের নীতি-নির্ধারকরা। তাঁরা মনে করছেন, কার্বন নিঃসরণ কমানো, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার ও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নবান্ধব পর্যটন খাত গড়ে তুলতে হলে ‘বিনিয়োগের' বড় ভূমিকা আছে।
সারাবিশ্বে পর্যটনের বাজার বাড়ছে হু হু করে। আইটিবি-র এ বছরের প্রতিবেদন বলছে, বৈশ্বিক পর্যায়ে জিডিপি-র প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে তিনগুণ বেশি হারে বাড়ছে পর্যটন খাতের আয়।


ইউএনডাব্লিউটিও-র বিশ্ব পর্যটন ব্যারোমিটার বলছে, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত, এক দেশ থেকে আরেক দেশে ভ্রমণ করেছেন ৯০ কোটি ১০ লাখ মানুষ, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৬ কোটি বেশি। আর তাই পর্যটন খাতে আয় বাড়ছে বিপুল হারে। বিনিয়োগও বাড়ছে একইভাবে।



কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই বাজারবৃদ্ধি কিংবা বিনিয়োগে পরিবেশকে কতটা মাথায় রাখা হচ্ছে? বিষয়টি এমন নয় যে, সব দেশে সমান পরিমাণ লোক যাচ্ছে, কিংবা সব দেশে সমান বিনিয়োগ হচ্ছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, জনপ্রিয় জায়গাগুলোতে মানুষের আনাগোনা এতটাই বেড়ে যাচ্ছে যে, তা সেই জায়গার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। আর তাই পর্যটন খাতে বিনিয়োগ সতর্কতার নীতি অবলম্বন করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।


বিশ্বের ৩৫টি ধনী দেশের অর্থনৈতিকও উন্নয়ন সম্পর্কিত জোট ওইসিডি-র সদস্য রাষ্ট্রগুলো বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। তাই তাদের সর্বশেষ পলিসিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তারা বলছে, পর্যটন খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবর্তন দরকার, আর সেই পরিবর্তন অবশ্যই পরিবেশবান্ধব হতে হবে।


জোটের আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পর্যটন বিভাগের প্রধান অ্যালেন ডুপেরাস পর্যটনে সবুজ বিনিয়োগ বিষয়টি ব্যাখা করে বলেন, পর্যটনের জন্য যেসব আবাসন তৈরি করা হচ্ছে সেগুলোকে জ্বালানিদক্ষ করে গড়ে তোলা, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, পানি ব্যবস্থাপনা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা। এমনকি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষাকেও এর মধ্যে ধরেছেন তিনি৷


অ্যালেন মনে করেন, পর্যটন খাতে একটি দেশের সরকারের দায়িত্ব সরাসরি সবুজ বিনিয়োগ করা বা তার পরিবেশ তৈরি করা। তবে বেসরকারি খাতও এ দায়িত্ব এড়াতে পারে না।


স্পেনভিত্তিক পর্যটন, জ্বালানি ও শিল্প খাতের সরকারি থিংকট্যাংক সেগিটুর-এর প্রধান ফার্নান্দো দে পাবলো মার্টিন বলেন, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইউরোপজুড়ে যে অর্থনৈতিক মন্দা ছিল তা কেবল এই পর্যটনের জোরেই কাটিয়ে উঠেছে স্পেন।


পর্যটন খাতে বিনিয়োগ যেন স্থানীয় মানুষকে বাদ দিয়ে না হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ''বিনিয়োগ এমনভাবে করতে হবে, যেন স্থানীয় লোকজনও এর আওতায় পড়েন।''


ওইসিডি-র নীতি-নির্ধারকরা প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তা-ই যদি হয়, অচিরেই হয়ত বিশ্বের অনেক জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের চেহারাই পাল্টে যাবে। সূত্র : ডয়চে ভেলে


বিবার্তা/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com