ভিন্ন সংস্কৃতির রাজ্য ব্রাজিল
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১৬:১৩
ভিন্ন সংস্কৃতির রাজ্য ব্রাজিল
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ব্রাজিলের সমসাময়িক সাহিত্যে আধুনিক সমাজের প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়৷ যারা একটু ভিন্ন ধরনের সংস্কৃতি দেখতে চান, জানতে চান বিচিত্র কিছু, তাদের জন্য ব্রাজিল হতে পারে ভ্রমণের উপযুক্ত স্থান। যেসব কারণে ব্রাজিল ভ্রমণ আপনার কাছে কাঙ্ক্ষিত হতে পারে সেগুলো একনজরে দেখে নিতে পারেন। অলিম্পিক হোক কিংবা বিশ্বকাপ, ব্রাজিলে যে-কোনো আয়োজনে বিপুল পরিমাণ দর্শক ও পর্যটকের সমাগম ঘটে।


রিও ডি জানেরো
রিও পুরোটাই অসম্ভব সুন্দর। খুব সুন্দর দুটি সৈকত রয়েছে এই শহরে- কোপাকাবানা এবং ইপানিমা৷ এই দুটো সৈকত পর্যটকদের যেন চুম্বকের মত আকর্ষণ করে। রিও’র বিভিন্ন দ্বীপ থেকে সূর্যাস্ত দেখতে অপূর্ব লাগে। এখানে রিও’র বিখ্যাত সুগার লোফ পর্বত দেখা যাচ্ছে। সুগার লোফ পর্বতের ভিস্তা এমনই এক জায়গা, যা আপনার অবশ্যই দেখা উচিত৷৩৯৫ ফিট উপরে উঠা যায় কেবল কারের সাহায্যে৷ আর সেখান থেকে যে দৃশ্য দেখা যায় সেটা অকল্পনীয়।


‘ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার’
‘ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার’ সুগার লোফ পর্বত থেকে এই ভাস্কর্যটি খুব সুন্দরভাবে দেখা যায়৷ ভাস্কর্যটি ৩০ মিটার লম্বা এবং ওজন ১,১৪৫ টন।


রিও’র অন্যরূপ- ফাভেলা
রিও’তে ৬০ লাখ মানুষের বাস৷ এর মধ্যে প্রতি পাঁচজনের একজন থাকে এই ফাভেলায়, অর্থাৎ বস্তিতে৷পাহাড়ি এলাকায় এমন শত শত ছোট ছোট বিল্ডিং দেখতে পাওয়া যায়৷ তবে এসব দেখতে হলে আপনাকে স্থানীয় মানুষের সাহায্য নিতে হবে।


কার্নিভাল
ব্রাজিলের সাম্বা নাচের কথা তো সবারই শোনা। কেউ কেউ হয়তো ইউটিউবে বা টিভিতে দেখেও নিয়েছেন। কিন্তু ব্রাজিলের কোনো কার্নিভালে যদি যান তাহলে বুঝতে পারবেন আয়োজনটা আসলে কত বড়। ব্রাজিলের প্রতিটি বড় শহরে কার্নিভাল উপলক্ষে থাকে আলাদা আয়োজন। ব্রাজিলের কার্নিভালগুলো ধর্মীয় আয়োজনের সাথে একাত্ম। সবচেয়ে বেশি উন্মাদনা থাকে রাজধানী রিয়ো-এর কার্নিভালকে ঘিরে। ফেব্রুয়ারি মাস হলো কার্নিভালের উপযুক্ত সময়। আগে থেকেই পরিকল্পনা করে নিতে পারেন। আর সে সময়ে না পারলে ডিসেম্বরে যেতে পারেন, নিউ ইয়ারের আগে আগে জমজমাট থাকে ব্রাজিল।


ইগুয়াসু জলপ্রপাত
রিও যাওয়ার সুযোগ হলে এই জলপ্রপাত দেখার সুযোগ কারো হাতছাড়া করা উচিত নয়৷ আর্জেন্টিনা সীমান্তের কাছে এই জলপ্রপাতটি বিশ্বের বৃহত্তম জলপ্রপাতগুলোর একটি৷ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে এটি।


লেনকোয়েস মারানিয়েসি জাতীয় উদ্যান
বালি আর সুপেয় পানির অদ্ভুত এক মিলনক্ষেত্র এটি৷ ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলের ১৫৫০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে এর অবস্থান৷১৯৮১ সালে এটিকে জাতীয় উদ্যান বানানো হয়।


আকাশের কখনো মন খারাপ হয় না
ব্রাজিলের আবহাওয়া বছরজুড়ে একই রকম থাকে। বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয় না। আলাদা করে কোনো গরম বা শীতের ঋতু নেই ব্রাজিলে। যদিও বেশি গরম পড়ে, তাহলে পাহাড় থেকে নেমে আসা বৃষ্টি স্বাভাবিক করে দেবে চারপাশ। তাই যে কোনো সময়েই ব্রাজিল ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত।


ভরপুর বিনোদন
কার্নিভালটা মিস হয়ে গেল বলে মন খারাপ করার কিছু নেই। ব্রাজিলে যখনই যান, বিনোদনের কোনো অভাব হবে না। কারণ সব সময়েই কোনো না কোনো উৎসব লেগে থাকে ব্রাজিলে। থিয়েটার উৎসব, স্ট্রিট ডান্সের উৎসব কিংবা ফুটবল টুর্নামেন্ট। ব্রাজিলিয়ানরা যে কোনো খুশি, আনন্দ বা প্রাপ্তিকে উৎসবে পরিণত করতে পারে। সেখানে থাকলে আপনিও আয়োজনের অংশ হয়ে যাবেন।


অ্যামাজন রেইনফরেস্ট ও নদী
পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে অ্যামাজন একটি। ল্যাটিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশজুড়ে রয়েছে গহিন অ্যামাজন। সবচেয়ে বেশি অংশটি পড়েছে ব্রাজিলে। যারা প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসেন, তারা ব্রাজিলে গিয়ে অ্যামাজন ঘুরে আসতে ভুলবেন না যেন। অ্যামাজনের অনেক জায়গায় দিনের আলো পর্যন্ত পৌঁছায় না। এর বাইরেও রয়েছে অন্যান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ইগুজু জলপ্রপাত যার মধ্যে অন্যতম। অ্যামাজন নদীতে বিশ্বে যে-কোনো নদীর চেয়ে সবচেয়ে বেশি পানি রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম রেইন ফরেস্টের মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে এটি৷ তাই এখানে যেতে হলে হাতে প্রচুর সময় নিয়ে যেতে হবে৷ ট্যুর অপারেটরদের কাছে অনেক ধরনের প্যাকেজ আছে৷চাইলে রাতেও সেখানে থাকতে পারেন।


কফি
কফি উৎপাদনে পৃথিবীতে ব্রাজিলের অবস্থান তৃতীয়। এত স্বাদের কফি এখানে রয়েছে যে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন না কোনটা ছেড়ে কোনটা খাবেন! ব্রাজিলিয়ানরা সারা দিন কফির ওপরেই থাকে। সকালের নাশতার পর, দুপুরে এবং রাতের খাবারের পর তো কফি না খেলে খাবার হজম হয় না ব্রাজিলিয়ানদের।


ফুটবলপ্রীতি
সবচেয়ে বেশিবার ফুটবল বিশ্বকাপ জেতা দেশ ব্রাজিল। এই দেশে ফুটবলের উন্মাদনা অন্য সবকিছুকেই ছাড়িয়ে যায়। ব্রাজিলের রাস্তাঘাটে, গলিতে-ফুটপাথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ফুটবলাররা। বলা হয়ে থাকে ফুটবল হচ্ছে রাশিয়ার অপ্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম।


সুখী মানুষদের দেশ
ব্রাজিলে যাই থাকুক, দেশটার মানুষগুলো ভীষণ সুখী। ব্রাজিলে নেমে আপনি কোনো গোমড়ামুখো হোটেল ম্যানেজার বা খিটখিটে মেজাজের ট্যাক্সি ড্রাইভার পাবেন না। সবাই বেশ হাসিখুশি। কারণ ব্রাজিলের সংস্কৃতিটাই এমন, মেহমানদের এমন করে বরণ করে নেওয়া হয় যাতে মনে হয় তারা অনেক আগে থেকেই পরিচিত।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com