হঠাৎ খলিল (পর্ব- ১৮)
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০১৭, ১৪:৫৭
হঠাৎ খলিল (পর্ব- ১৮)
পলাশ মাহবুব
প্রিন্ট অ-অ+

ম্যানেজার সাহেব একবার হাতঘড়ি দেখেন, একবার দেয়াল ঘড়ি। দুটোতে সময় একই। তারপরও তিনি বারবার দেখছেন। বোঝা যাচ্ছে, টেনশনে আছেন। টেনশনের কারণ খলিল। খলিল এখনও অফিসে আসেনি।

 

পকেট থেকে মোবাইল বের করেন ম্যানেজার সাহেব। খলিলকে কল দেন। রিং হয়, কিন্তু ধরে না।

 

টেনশনের পাশাপাশি এবার রাগও তার হয়। টেনশন আর  রাগ এই দুয়ের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তিনি পায়চারি করেন। হাঁটতে হাঁটতে ম্যানেজার সাহেব নুপূরের ডেস্কের কাছে যান।

 

নুপূর সাধারণত যা করে তা-ই করছে। সিরিয়াল দেখছে।  এখন দেখছে স্টার জলসা। সিরিয়ালের নাম ‘বোঝে না সে বোঝে না’। নুপূরও না বোঝার পর্যায়ে আছে। সিরিয়ালের মাঝখানে ঢুকেছে সে। মনোযোগ দিয়ে গল্পের সুতোটা ধরার চেষ্টা করছে। কিন্তু ম্যানেজার স্যার অবুঝের মতো এসে সুতো কেটে দিলেন।

 

টিভি বন্ধ করে কম্পিউটার মোডে আসে নুপূর। হাতের কাছে একটা ফাইল টেনে নেয়।

 

ম্যানেজার সাহেব চারপাশে চোখ ঘুরিয়ে খলিলের ডেস্কের দিকে তাকান, খলিল কোথায়?

 

এখনো তো আসেনি স্যার।

 

সে তো জানি, কিন্তু আসবে কখন? বেলা তো দুটোর ওপরে বাজে। অফিস আছে আর তিন ঘন্টা।

 

মোবাইলে ফোন দিয়েছিলাম স্যার। কিন্তু ধরছে না।

 

হুমম। আমিও দিয়েছিলাম। আমারটাও ধরেনি। ওর সাহস দেখে আমি তাজ্জব। এতকিছুর পরেও . . .

 

কাল অবশ্য খলিল ভাইয়ের হাসপাতালে যাওয়ার কথা ছিল। টেস্টের রিপোর্ট আনতে। কোনও ঝামেলা হলো কিনা কে জানে?

 

ম্যানেজার স্যারের রাগ কমাতে কথাটা বলে নুপূর।

 

রিপোর্ট আনতে গেছে ভালো কথা। হাসপাতালে তো আর থাকতে যায়নি। আর যদি থাকতেও হয় ফোন করে জানাবে না!এই ছেলেটা আমাকে সত্যি সত্যি পথে নামাবে। আরে ব্যাটা, তোর চাকরির মায়া না থাকতে পারে, কিন্তু আমার তো আছে। এবার আর আমি ওর পক্ষ হয়ে একটা কথাও বলবো না।

 

স্যার, আমার মনে হয় কোনও সমস্যা হয়েছে। না হলে তো . . .

 

কচু হয়েছে। ও নিজেই একটা সমস্যা।

 

নুপূরের কথা পাত্তাই দেন না ম্যানেজার সাহেব।

 

আচ্ছা, এমডি স্যার কি আজকে রাউন্ড দিয়েছেন ফ্লোরে?

 

না স্যার। এমডি স্যার এখনও আমাদের এদিকে আসেননি।

 

ও কে। তুমি কাজ করো। আর খলিল যদি আসে আমার সাথে জরুরি দেখা করতে বলবে।

 

ম্যানেজার সাহেব তার রুমের দিকে রওনা দেন। পথে কাউছার সাহেবের সাথে দেখা, কি সোলায়মান ভাই, খুব চিন্তিত মনে হচ্ছে?

 

আরে বলবেন না আর। খলিল ছেলেটাকে নিয়ে একদমই পারছি না। এমডি স্যারের ফাইনাল ওয়ার্নিংয়ের পরেও আজ অফিসে আসেনি। চাকরিটা এবার আর ঠেকাতে পারবো বলে মনে হয় না।

 

আমি আগেই বলেছি, খলিল হচ্ছে একটা ঘুঘু টাইপ ছেলে। বারে বারে ধান খেয়েছে, এবার ধরা খাবে। এটাই নিয়ম।

 

ছেলেটা তো ভালোই ছিল। কাজেও ভালো। শুধু এই অনিয়মের কারণে সর্বনাশটা হবে।

 

ওকে আপনি ভালো বলছেন সোলেমান ভাই! ঘুঘু তো আমি কম বলেছি। ও হচ্ছে ঘুঘুর বড় ভাই টুঘু। আমার কি নাম দিয়েছে জানেন?

 

আপনার আবার কি নাম দিয়েছে? অবাক হয়ে জনাতে চান ম্যানেজার সাহেব।

 

আপনি অনেক কিছুই জানেন না। খলিল অফিসে আমার নাম দিয়েছে ‘গরু মহাশয়’। কাউছারের বাংলাকরণ করেছে। আড়ালে অফিসের সবাই আমাকে ‘গরু স্যার’ বলে ডাকে। আকামডা করছে খলিল্যা। ওই খুক খুকের আলাপ বাদ দেন তো আপনি। ওর চাকরি যাওয়াই উচিত।

 

কাউছার সাহেবের কথা শুনে ম্যানেজার সাহেব হাসেন, আচ্ছা। বাদ দিলাম। আপনি এবার কাজের কথা বলেন।

 

সেটা বলতেই আপনার কাছে যাচ্ছিলাম। ভালো খবর আছে। পার্টি তো অলমোস্ট রাজি। এখন শুধু ফিল্ড ভিজিট বাকি।

 

ফিল্ড ভিজিট করার পর পার্টির যদি জমি পছন্দ না হয়? চোখের দেখাই তো আসল দেখা।

 

কি যে বলেন! হবে না মানে, হতেই হবে। দেশপ্রেমিক ছেলে। দেশের মাটির প্রতি টান আছে। তাছাড়া আমি তো আছি, নাকি? বড়শি যার হাতে খেলাও তার হাতে। আপনি শুধু খেলা দেখে যান। আপনার জমি যদি ডিফিট খাওয়াও হয় তাও আমি সেল করে দেব।

 

পাঁচ বছর ধরে তো আপনার খেলাই দেখছি শুধু।

 

সোলেমান ভাই কি আমার ইনসাল্টে আঘাত করলেন নাকি?

 

আরে না, না। কথার কথা বললাম।

 

একটা কথা বলি সোলেমান ভাই। জমির লেনদেন হচ্ছে ঠাণ্ডা মাথার বাহাস। অংকের খেলা। মাথা গরম করে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয় না। আমার হাতে যেহেতু ভরসা করে বড়শি দিয়েছেন, মাছ আমি তুলে আনবোই। দেশে তো আর কাস্টমারের অভাব পড়ে নাই।

 

তা তো অবশ্যই। তবে একটু তাড়াতাড়ি করেন ভাই। আপনাকেও পুষিয়ে দেব।

 

ছি ছি, কি যে বলেন!

 

দাঁত দিয়ে জিভ কাটেন কাউছার সাহেব, ওইসব ভাগা খাওয়ার দলে আমি নাই। আমি কাজ করি দিলের শান্তির জন্য। আপনি খুশি হবেন তাতেই আমার দিল ঠাণ্ডা। শোনেন, নেক্সট শুক্রবার পার্টিকে নিয়া আপনার ল্যান্ড ভিজিটে যাবো। সেদিনই একটা কিছু ঘইটা যাইতে পারে।

 

তাই যেন হয় কাউছার ভাই। শুক্রবার একটা ভালো দিন আছে।

 

আচ্ছা ঠিকাছে। সোলেমান ভাই, আমি তাইলে যাই। একটু কাজ আছে।

 

এখনই যাবেন, ইদ্রিসকে চা দিতে বলি?

 

ইদ্রিসরে আপনি কই পাইবেন? ওরে তো আমি ফ্লাস্ক কিনতে পাঠাইছি। ফ্লাস্কের প্যাঁচ খুইল্যা গ্যাছে এই অজুহাতে ঠাণ্ডা চা খাওয়ায় ব্যাটা হারামির হাফেজ। ঠ্যা ঠ্যা ঠ্যা।

 

ভুঁড়ি নাচিয়ে হাসতে হাসতে চলে যান কাউছার সাহেব। (চলবে)

 

বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন

 

>>হঠাৎ খলিল (পর্ব- ১৭)

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com