দেশে প্রতিবছর ৭৭ লাখ টন খাদ্য শস্য অপচয় বা নষ্ট হয়
প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৮, ০৯:২১
দেশে প্রতিবছর ৭৭ লাখ টন খাদ্য শস্য অপচয় বা নষ্ট হয়
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি খাদ্যগ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতন হলে ৫ শতাংশ খাদ্যের অপচয় রোধ সম্ভব। এতে অধিক সংখ্যক মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির যোগান দেয়া সম্ভব। খাদ্যের অপচয় রোধে রাষ্ট্রের উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।


রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বুধবার অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তারা একথা বলেন।


সেমিনারে বলা হয়, বর্তমানে গড়ে প্রতিবছর ৭৭ লাখ টন খাদ্য শস্য অপচয় বা নষ্ট হয় এবং এর বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ১০ শতাংশ এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রায় ৩১ শতাংশ।


ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহায়তায় খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ আয়োজিত ‘খাদ্যের অপচয় রোধে রাষ্ট্রের ভুমিকা ও খাদ্য অধিকার’ শীর্ষক এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভাইস-চেয়ারম্যান খন্দকার ইব্রাহীম খালেদ।


সেমিনারে অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক, হরট্রেক্স ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ মনজুরুল হান্নান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার সাইদ শাহীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী।


মনজুরুল হান্নান বলেন, উৎপাদন ক্ষেত্রে অপচয়ের পাশাপাশি খাদ্যগ্রহণের ক্ষেত্রে অপচয় রোধ করতে পারলে আমরা ৫ শতাংশ খাদ্য অপচয় রোধ করতে পারব।


অধ্যাপক খালেদা ইসলাম বলেন, খাদ্য অপচয় রোধ করতে পারলে আমরা অধিকসংখ্যক লোকের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব, পাশাপাশি পুষ্টির যোগান দিতেও সক্ষম হব।


ইব্রাহীম খালেদ বলেন, খাদ্যের অপচয় রোধে প্রয়োজন রাষ্ট্রের উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন।


সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টন খাদ্য শস্য অপচয় বা নষ্ট হয়েছে, যা মোট উৎপাদিত শস্যের প্রায় ১৪ শতাংশ। প্রতিবছর গড়ে উৎপাদিত সাড়ে তিন কোটি টন চালের ১২ থেকে ১৩ শতাংশই নষ্ট হচ্ছে। যার পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ টন এবং গড়ে ৪০ টাকা কেজি হিসেবে এর মূল্য প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা।



দেশে প্রায় ৭০ প্রজাতির ফল উৎপাদন হচ্ছে এবং গড়ে এর ১৭ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে। বিগত অর্থবছরে ৪৮ লাখ ১০ হাজার টন ফল উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ লাখ ১৮ হাজার টন ফলমূল নষ্ট হয়েছে এবং গড়ে ১০০ টাকা কেজি দরে এর বাজার মূল্য প্রায় ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা।


২০১৫-১৬ অর্থবছরে সাড়ে ২৪ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদিত হয়েছে এবং এর প্রায় ৪ শতাংশ নষ্ট হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৯৮ হাজার টন। প্রতি কেজির বাজার মূল্য ২০ টাকা হলে, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে এই সময়ে প্রায় ১৭ লাখ ৩৫ হাজার টন পেয়াঁজ উৎপাদিত হয়েছে। এ ফসলটির ৩ শতাংশ হারে পোস্ট হারভেস্ট লস হচ্ছে, যার পরিমাণ প্রায় ৫২ হাজার টন এবং ৫০ টাকা কেজি দরে বাজার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৬০ কোটি টাকা।


দেশে প্রায় ১৩০ প্রজাতির সবজি চাষ হয় এবং গড়ে প্রতিবছর প্রায় ৪৯ লাখ টন সবজি উৎপাদন হচ্ছে। এসব সবজির গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে। যা পরিমাণে প্রায় ১০ লাখ টন এবং ৩০ টাকা কেজি দরে এর মূল্য প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।


দেশে গত অর্থবছরে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়েছে। পর্যাপ্ত গুদাম ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নত না থাকায় প্রায় ১৫ লাখ টন আলু অপচয় বা নষ্ট হয়েছে। প্রতি কেজি ১০ টাকা হিসেবে ধরলে বাজার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।


সেমিনারে বিভিন্ন কীটপতঙ্গের আক্রমণ, রোগ সংক্রমণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রযুক্তির অভাব, সংরক্ষণে সমস্যা, সীমিত গুদামজাতকরণ, দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থা, প্যাকেজিং-এর অভাবকে ফসল অপচয় বা নষ্ট হওয়ার কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com