কলকাতায় কেমন চলছে বাংলাদেশ বইমেলা
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৭, ১৮:০১
কলকাতায় কেমন চলছে বাংলাদেশ বইমেলা
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

কলকাতায় ১৫ নভেম্বর শুরু হয়েছে নয় দিনের বাংলাদেশ বইমেলা। এর আগে দু'‌বার মেলা শুরুর তারিখ দিয়েও বাতিল করা হয়। শেষ পর্যন্ত শুরু হয়েছে ঠিকই, কিন্তু মেলার ব্যবস্থাপনায় আন্তরিকতার অভাব বেশ স্পষ্ট। এ মূল্যায়ন জার্মান বেতার ডয়চে ভেলের। পড়ুন তাদের প্রতিবেদনটি :


কলকাতায় বাংলাদেশ বইমেলা এবার সপ্তম বছরে পড়লো। কিন্তু প্রতিবার বাংলাদেশ বইমেলা যেখানে হয়, সেই রবীন্দ্রসদন চত্বরে নতুন মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলায় মেলাকে এবারে ঠাঁইনাড়া হয়ে যেতে হয়েছে রবীন্দ্র সদনের উল্টোদিকে মোহরকুঞ্জ প্রাঙ্গণে। এছাড়া বার বার তারিখ পিছনোর ফলে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের শেষ দু'দিন এবং বাংলাদেশ বইমেলার প্রথম দু'দিন এবার এক হয়ে গেছে। ফলে এই বইমেলা নিয়ে কলকাতার লেখক-পাঠকের উৎসাহ থাকলেও শুরুর দিকে একেবারেই লোক হয়নি মেলায়। তার ওপর আকস্মিক নিম্নচাপের কারণে দু-তিন দিন একনাগাড়ে বৃষ্টি হওয়ায় বিপত্তি আরও বেড়েছে।


শনিবার বিকেলে মোহর কুঞ্জে গিয়ে দেখা গেল, কয়েক জোড়া নারী-পুরুষ ইতস্তত বসে আছেন, এছাড়া বইমেলায় প্রায় কোনো লোকই নেই!‌ মেলার মাঠ কাদায় ভরা। জানা গেলো, আগের দিন সন্ধ্যায় কয়েকজন পা পিছলে পড়তে পড়তে বেঁচে গেছেন!‌ পড়েও গেছেন কেউ কেউ। জানালেন ঢাকার ‘‌মূর্ধ্য ণ'‌ প্রকাশনীর স্টলে যিনি বসেছিলেন, সেই সুজয় ঘোষ।


সুজয় কলকাতার লোক, সেকারণে সম্ভবত তিনি আরও বেশি লজ্জিত যে, বইমেলাকে মোহরকুঞ্জে সরিয়ে আনা হয়েছে, অথচ যথাযথ ব্যবস্থা করা হয়নি। বললেন, বৃষ্টি হয়ে মেলার মাঠে কাদা হয়েছে, কিন্তু যদি বইয়ের স্টলগুলোর সামনে কার্পেট গোছের কিছু বিছিয়ে অন্তত হাঁটাচলার ব্যবস্থা করা যেত, তা হলেও উপকার হতো।


তিনি আরো বললেন, এই মোহরকুঞ্জে চা-নাস্তা-পানি ইত্যাদির কোনো ব্যবস্থাই নেই। অথচ রাস্তার ওপারে ঠিকই সবকিছু আছে। কিন্তু সেদিক থেকে একজন চা-ওয়ালাও কেন যেন এপারে আসছে না।


বাংলা একাডেমীর স্টলে বসেছিলেন মীর রেজাউল কবির। তিনি ডয়চে ভেলেকে জানালেন তাঁদের বিক্রিবাটা নাকি ভালোই হচ্ছে। আর বৃষ্টি, কাদা - এ সব নিয়ে হয়ত সৌজন্যবশতই কোনো অভিযোগ করতে চাইলেন না। হাসতে হাসতেই বললেন, এটা প্রকৃতির উপহার, প্রকৃতি দিয়েছে যখন, মেনে নিতেই হবে।


কিন্তু মীর রেজাউল কবির যেটা বললেন না, সেটা অনেক প্রকাশকই আড়ালে-আবডালে ঠিকই বলেছেন। বলেছেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই অকাল বর্ষণের কথা তো বলাই ছিল। তাহলে কেন আগাম কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলো না? অন্তত মেলার মাঠে বালি ছড়িয়ে কাদা আটকানোর বন্দোবস্ত তো করাই যেত!‌


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকাশক বললেন, বাংলাদেশ বইমেলার ব্যাপারে কলকাতা যদি আন্তরিক হয়, তা হলে মেলার একটা নির্দিষ্ট দিন ঠিক করাও উচিত। তাতে বই বিক্রেতা, লেখক, পাঠক, সবারই সুবিধা।


বলা প্রয়োজন, গত বছরের বাংলাদেশ বইমেলায় ৫২টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিয়েছিল, এই বছর তাদের সংখ্যা নেমে এসেছে ৪৪টিতে।


মেলা প্রাঙ্গনেই আলাপ হলো বাংলাদেশের প্রকাশক নাফে নজরুলের সঙ্গে। তিনি হদিস দিলেন বাংলাদেশ থেকে (এবং কলকাতা থেকেও) প্রকাশিত সমস্ত বাংলা বইয়ের অনলাইন ঠিকানা rokomari.com-এর। বইমেলা থাকুক বা না-ই থাকুক, এই ওয়েবসাইটে গিয়ে লেখক, বইয়ের নাম বা প্রকাশকের নাম ধরে সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে সব বাংলা বই আর ঘরে বসেই আনানো যাবে অনলাইনে অর্ডার দিয়ে।


বিবার্তা/হুমায়ুন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com