ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র আশুরা
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৬, ২৩:১৮
ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র আশুরা
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বুধবার পবিত্র আশুরা। অর্থাৎ হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের দশম দিন। এ দিনটির গুরুত্ব ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে অন্যান্য মাস থেকে আলাদা।


আরবি শব্দ আশুরার অর্থ দশম দিন।ইসলাম ধর্মে ১০ মহররম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় একটি দিন। পবিত্র মাহে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে এই উম্মতের ওপর এদিনের রোজা ছিল ফরজ। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর এই রোজা নফলে পরিণত হয়। এ দিনে প্রাচীন আরবরা কাবার দরজা দর্শনার্থীদের জন্য খোলা রাখত।


আল্লাহ তায়ালা মহররম মাসের ১০ তারিখকে কারবালার ঐতিহাসিক বিরল দৃষ্টান্তের জন্যও মনোনীত করেছেন। এ দিনে নবী দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.) ও তার পরিবারবর্গ যে আত্মত্যাগের মহা বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা অনন্য সাধারণ।


হিজরি ৬০ সনে ও ইংরেজি ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে এ দিনে ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে স্মরণকালের মানব ইতিহাসের নির্মমতম হৃদয়বিদারক ঘটনা সংঘটিত হয়।


প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.) সপরিবারে এদিন ফোরাতের তীরে শাহাদতের পানি পান করেন। নীতি ও আদর্শের জন্য, সত্য ও ন্যায়ের জন্য অবলীলায় প্রাণ উৎসর্গ মানব ইতিহাসে সত্যিই বিরল।


অপ্রতিরোধ্য বাতিল ও শয়তানি শক্তির বিরুদ্ধে তেজদীপ্ত ঈমানদারের দুর্বল প্রতিরোধের যে ইতিহাস আশুরার দিনে কারবালা প্রান্তরে রচিত হয়েছে, তা অনন্য ও কালজয়ী। যুগ যুগ ধরে এ ঘটনা মানুষকে বাতিলের বিরুদ্ধে প্রত্যয়ী হওয়ার প্রেরণা জোগায়।


আশুরার পবিত্র দিনটি শুধু একারণেই তাৎপর্যবহ ও গুরুত্বের আসন পায়নি; বরং মানব ইতিহাসে বহু তাৎপর্যবহ ও পুণ্যময় ঘটনা জড়িয়ে আছে এ দিনটির সঙ্গে।


এ দিনেই আল্লাহতায়ালা হজরত আদম আলাইহিস সালামের তওবা কবুল করেছিলেন। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর ওপর নমরূদ কর্তৃক প্রজ্বলিত ভয়াবহ অগ্নিকুণ্ডকে ঠাণ্ডা ও আরামদায়ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।


এদিনেই আল্লাহতায়ালা হজরত মুসা (আ.) কে স্বজাতি বনী ইসরাঈলসহ ফেরাউনের অত্যাচার থেকে নাজাত দিয়েছিলেন। বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় যথাযোগ্য মর্যাদায় এই দিনটি পালন করে থাকে। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।


কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সকলকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা যোগায়। মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও শনিবার যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পালন করা হবে।


এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।


দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। প্রতিবারের মতো এবারো বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও-টিভি চ্যানেলও এই দিনের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে।


রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে বলেছেন, কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মৃতিতে ভাস্বর পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে। সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা যোগায়।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে সকল অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে দেশবাসীকে জাতীয় জীবনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আশুরার মহান শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


আশুরা উপলক্ষে বুধবার সরকারি ছুটি। দিনটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন, বাংলাদেশ বেলা ১১টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ‘ঈমানিয়াত ইনসানিয়াত সুরক্ষা সমাবেশ ও বরকতময় সালাতু সালাম মাহফিল’-এর আয়োজন করেছে।


বিবার্তা/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com