মহাঔষধি থানকুনি পাতা
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২০, ২২:১৭
মহাঔষধি থানকুনি পাতা
অনামিকা রায়
প্রিন্ট অ-অ+

এই একাবিংশ শতাব্দীতে এসেও গ্রামে প্রায় সব বাড়িতেই বয়স্কদের সাতসকালে একটা করে থানকুনি পাতা পানির সাথে চিবিয়ে খেতে দেখা যায়। বয়স্কদের রোজকার রুটিনে এটা যেভাবে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পেরেছে বাড়ির অন্য সদস্যদের ক্ষেত্রে তেমনটা করতে পারেনি একেবারেই। এমনকি এখনকার সময়ের বাচ্চা থেকে তরুণ প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের কাছে থানকুনি প্রায় অপরিচিত একটা নাম।


আজ থেকে কয়েক বছর আগেও গ্রামের সব বাড়িতেই থাকত থানকুনি পাতার গাছ। পরবর্তীতে শহরতলির বেশ কিছু বাড়িতেও লাগানো হত এই গাছ। কারোর হাত কিংবা পা কেটে গেলে বা পেটের কোনও সমস্যা হলেই খোঁজ পড়ত থানকুনি পাতার। কোনও একটা ঘর থেকে নিশ্চিত পাওয়া যেতই। এমনকী প্রাচীন আর্য়ুবেদ শাস্ত্রেও এই পাতার প্রচুর গুণাগুণ বর্ণিত রয়েছে। অনেক ওষুধও তৈরি হত এই পাতার রস থেকে। কিন্তু এখন এই পাতার দেখা আর প্রায় পাওয়াই যায় না। কিন্তু শরীরকে নানা দিক দিয়ে সুস্থ রাখতে এই পাতার জুড়ি মেলা ভার। প্রতিদিন এই পাতার রস খেতে পারলে অন্যরকম কোনও চিন্তা থাকবেই না।


থানকুনির বৈজ্ঞানিক নাম: Centella asiatica। ইংরেজি নাম: Indian pennywort। বাংলাদেশে স্থানীয় নাম-ডোলমানিক। তবে থানকুনি নামে প্রায় সকলেই চেনে। এটি এক ধরনের খুব ছোট বর্ষজীবী ভেষজ উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক পরিবাবের নাম ম্যাকিনলেয়াসি যাকে অনেকে এপিকেসি পরিবাবের উপপরিবার মনে করেন।


দেখে নেয়া যাক থানকুনির গুণাগুণ-


-থানকুনি চুল পড়া বন্ধ করতে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। এই ক্ষেত্রেও থানকুনির গুণ অপরিসীম।


-থানকুনির রস প্রতিদিন পান করলে তারুণ্য ধরে রাখতে পারবেন। সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য দুধ এর সাথে এক গ্লাস থানকুনি পাতার রস পান করতে হবে।


- দাঁতের নানান রোগ ভাল করার পেছনে থানকুনি পাতার বিকল্প নেই। রক্তপাত, মাড়ি ও দাঁত ব্যথার ক্ষেত্রেও পাওয়া যাবে সুফল। যদি থানকুনি পাতার রস নিয়ে পানি কুলি করা হয়, দাতের ব্যথা অনেক কমে যাবে।


- থানকুনি স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া আধা কেজি দুধে ১ পোয়া মিশ্রি ও আধা পোয়া থানকুনির পাতার রস একত্রে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ১ সপ্তাহ খেলে পেটের গ্যাস্টিক ভাল হয়।


- বেগুন/পেপের সাথে থানকুনি পাতা মিশিয়ে রান্না করে প্রতিদিন ১ মাস খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।


- প্রতিদিন খালি পেটে ৪ চামচ থানকুনি পাতার রস ও এক চামচ মধু মিশিয়ে ৭ দিন খেলে রক্ত দূষণ ভাল হয়।


- বাচ্চাদের কথা স্পষ্ট না হলে ১ চামচ থানকুনির পাতার রস গরম করে খাওয়ালে কথা স্পষ্ট হবে।


- জ্বর ও আমাশয়ে থানকুনির পাতার রস খেলে উপকার হয়।


- প্রতিদিন সকালে থানকুনির রস ১ চামচ ও ৫/৬ ফোঁটা হলুদের রস সামান্য চিনি বা মধুর সাথে খাওয়ালে বাচ্চাদের লিভারের সমস্যার সমাধান হয়।


- কোনো পুরাতন ক্ষত নিরাময় না করতে পারলে সেদ্ধ থানকুনি পাতার প্রলেপ দিলে অনেক বেশি উপকার হয়।


বিবার্তা/আবদাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com