প্রসঙ্গ : ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের রাজনীতি
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:৫৮
প্রসঙ্গ : ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের রাজনীতি
নুর রোকসার
প্রিন্ট অ-অ+

শেখ হাসিনা দেশ ও জাতির কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন আর ছাত্রলীগ শেখ হাসিনার এই কর্মযজ্ঞের প্রতি অকুণ্ঠ আনুগত্য জানিয়ে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি মফস্বলের প্রতিটি অলিগলি পর্যন্ত তাঁর উন্নয়ন বার্তা পৌঁছে দেয়ার কাজ করে যাচ্ছে।


এর মূলে রয়েছেন দক্ষ নেতৃত্ব ও সংগঠক, যারা প্রতিনিয়ত অতীত রাজনীতির বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে ঢাকার রাজপথ নিয়ন্ত্রণের রণকৌশল ছাত্রলীগ কর্মিদের শিক্ষা দেন। পাড়া-মহল্লায় কর্মসূচি দিয়ে শেখ হাসিনার প্রচার করে বেড়াচ্ছেন।


বলাই বাহুল্য, ঢাকা মহানগরসহ সারা বাংলাদেশে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী ও পরিচ্ছন্ন।


একটা বিষয় সবাই জানেন, তবুও মনে করিয়ে দিচ্ছি - রাজনীতিতে ঢাকা শহর নিয়ন্ত্রণ মানে সারা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। এর প্রমাণ বারবার দিয়েছে ঢাকা মহানগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, যাদের কাঁধে ভর রেখে ১/১১, হেফাজত ও ৫ জানুয়ারির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনার কারামুক্তির আন্দোলন সংগঠিত করেছে এই ছাত্রলীগই। তাদের বৃহৎ একটা অংশ বর্তমানে বিভিন্ন ইউনিটে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিচ্ছে। কর্মী থাকাকালীনই এরা পরীক্ষিত, রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় দক্ষ ও সাহসী সৈনিক হয়ে গড়ে উঠেছে।


ঢাকার রাজপথে তখনকার ছাত্রলীগ কর্মীদের মরণপণ রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সরব উপস্থিতির কারণে বিএনপি-জামাতিরা ঢাকায় জ্বালাও-পোড়াও চালালেও অবস্থান নিতে পারেনি। ঢাকার বাইরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হলেও ঢাকায় সংগঠিত রাজনৈতিক অবস্থান না নিতে পারায় বিএনপি-জামাত জোট আজও রাজনীতির মূলধারার বাইরে পড়ে আছে। তবে ভুলে গেলে চলবে না, তাদের শক্তি ও সামর্থ্য কিন্তু নিঃশেষ হয়ে যায়নি। এজন্যই সময় ও প্রেক্ষাপটের বিষয়টি চিন্তা করে পরীক্ষিত কর্মিদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো প্রয়োজন।


সামনে জাতীয় নির্বাচন। শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপসহীন পরীক্ষিত ছাত্রনেতাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিচিতি এবং রাজপথের অভিজ্ঞতা দুটোই ২০১৮-১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে কাজে লাগানোর সুযোগ আজ আমাদের সামনে।


বর্তমানে ছাত্রলীগের যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা সকলেই দুঃসময়ের রাজনৈতিক পরিবেশের সাথে বেশ পরিচিত। কারণ, তারা কর্মী থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ছাত্রলীগের দায়িত্ব পেয়েছেন।


ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের উভয় অংশের নেতারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রেখে শেখ হাসিনার এজেন্ডা বাস্তবায়নবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার জন্য সার্বিকভাবে প্রস্তুত। শুধু নির্দেশনার অপেক্ষা মাত্র। ঠিক এই মুহূর্তে ছাত্রলীগ ভেঙ্গে নতুন নেতৃত্ব গঠনপ্রক্রিয়া কতটা গঠনমূলক হতে পারে, বিষয়টি ভাবা দরকার।


ভেবে দেখা দরকার, সব ভালোই সুন্দর, তবে সব সুন্দর ভালো নয়। তাই শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য ২০১৮-১৯ সালে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে, ফুলে-ফলে ভরা একটা সাজানো বাগান ধ্বংস করে নতুন একটা আদর্শ বাগান তৈরির জন্য যে সময় ও উপাদান প্রয়োজন, তা না পেলে কতখানি ফিডব্যাক পাওয়া যাবে? এ সরল অঙ্কটার সমাধান নির্ণয় করার এখনই সঠিক সময়।


ছাত্রলীগের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসাবে সাংগঠনিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে বুকে হাত রেখে বলতে পারি, ঢাকা মহানগর উত্তরে বৈরি রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একজন সৈয়দ মিজানুর রহমান মুহূর্তেই যে সিদ্ধান্ত নিতে ও বাস্তবায়ন করতে পারবে, তার
বিকল্প কাউকে আবিষ্কার করা দূরূহ ব্যাপার।


তাই বলে কি সম্মেলন হবে না? অবশ্যই হবে। এখন যারা নবীন, সময়ের সাথে আগামী নেতৃত্বের জন্য তাদেরকে প্রস্তুত করা দরকার। তবে বর্তমান রাজনৈতিক ময়দানের বাস্তব চিত্র এবং আগামী নেতৃত্ব গঠন হলে তা সময়োপযোগী শক্তি ও সামর্থ্য সংরক্ষণ করতে পারবে কি না - এ ব্যপারটি গুরুত্বের সাথে বিশ্লেষণ করা আদর্শিক ও নৈতিক দায়িত্ব।


দয়া করে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী, জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার শেষ ভরসাস্থল, দেশরত্ন শেখ হাসিনার কাছে তাঁর নির্ভরযোগ্য ভ্যানগার্ড ছাত্রলীগের বর্তমান ও ভবিষ্যত নেতৃত্ব প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করুন। এটাই সারা বাংলার ছাত্রলীগ কর্মীদের প্রাণের দাবি।



• লেখক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর



বিবার্তা/হুমায়ুন/সোহান

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com