প্রমত্তা পদ্মার মরুময়তা
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০১৭, ১৭:১৭
প্রমত্তা পদ্মার মরুময়তা
আকবর হোসেন
প্রিন্ট অ-অ+

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭ এপ্রিল তিন দিনের সফরে যাচ্ছেন দিল্লি। তাঁর সম্মানে ৭ এপ্রিল ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের দেয়া নৈশভোজে অংশ নিতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অবশ্য শুধু মমতা নন, আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীদেরও।


ওই নৈশভোজে মমতার উপস্থিত থাকা নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ছিল। কারণ, বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সম্পাদন নিয়ে এখনো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মমতার সহমত হয়নি।


মোদি বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি সম্পাদনে সবুজ সংকেত দিলেও আপত্তি তুলেছিলেন মমতা। তিনি বলেছিলেন, তিনি চুক্তির পক্ষে, তবে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে তিনি চুক্তি করতে চাইছেন না।


এর আগে ২০১৫ সালের ৬ জুন দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সফরে মোদি যে কোনো মূল্যে বাংলাদেশের সাথে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সীমান্ত চুক্তি অনেকটা সফল হলেও মমতা বাগড়া দেন তিস্তায়।


এককালের প্রমত্তা পদ্মা আজ পানিশূন্য। চারিদিকে ধূ-ধূ বালুচর। ফারাক্কা চুক্তির প্রায় ৪০ বছরেও ভারতের কাছে ন্যায্য হিস্যা অনুযায়ী পদ্মা নদীর পানি পাচ্ছে না বাংলাদেশ। পদ্মায় পানি না থাকার বিরূপ প্রভাবে রাজশাহী, মুন্সীগঞ্জসহ দেশের (পদ্মার তীরবর্তী) বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভূ-গর্ভে পানির স্তরও নেমে গেছে ৩০ ফুট থেকে ১১০ ফুট নিচে।


রাজশাহীতে পদ্মার পানি গত দেড় যুগের মধ্যে বর্ষা মৌসুমেও বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছেনি। উজানে ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে ভারত একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করে নেয়ায় বিগত ২৫বছর ধরে পদ্মা হারিয়েছে তার স্বাভাবিক নাব্যতা।


১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ বছর শুরুর প্রথম ১শ’ দিনে ৪লাখ ৩৮ হাজার ৩১৯ কিউসেক পানি পাবার কথা। কিন্তু ৬৬ হাজার ২২৪ কিউসেক পানি কম পেয়েছে বাংলাদেশ। এভাবে প্রতি বছরই ন্যায্য হিস্যা অনুযায়ী পানি না পাওয়ায় এখন অস্তিত্ব হারাতে বসেছে এক সময়ের প্রমত্তা পদ্মা। আর এর প্রভাবে দিন দিন বিপন্ন হয়ে উঠছে পরিবেশ ও জনজীবন।


প্রতিনিয়ত প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা ভিড় জমায় পদ্মা নদীর তীরে। কিন্তু কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন পদ্মা নদীকেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুললেও ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মার সৌন্দর্য এখন বলতে গেলে নেইই। ফলে প্রায় ব্যর্থ হয়ে পড়েছে নদীকেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্র।


অথচ এক সময় এখানে ছেলে মেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে নদীতে নৌকা দিয়ে ঘুরে বেড়াত মানুষ। এখন বছরে দুই মাসও নদীতে পানি থাকে না। নৌকাও চলে না, শুধু চোখে পড়ে বালি আর বালি।


পদ্মা নদীতে পানিশূন্যতার কারণে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ১১টি স্প্যান চরের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বৃহত্তর কুষ্টিয়ায় পানির অভাবে কৃষি আবাদে দেখা দিয়েছে মরুময়তা। কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও যশোর জেলার ১৩টি উপজেলার ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।


পদ্মা নদীতে স্বাভাবিক নাব্যতা না থাকায় প্রতি বছরই নীচে নামছে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর। হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য।


বিশেষজ্ঞদের দাবি, শুধু রাজশাহীই নয়, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে মরুকরণের হাত হতে রক্ষায় প্রয়োজন পানিবন্টন চুক্তির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন।


এ ব্যাপারে দুই সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে - এ আশা দেশবাসীর।


লেখক : সাংবাদিক


বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com