ডিজিটাল বাংলাদেশ : কিছু প্রস্তাব
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ২০:৪৯
ডিজিটাল বাংলাদেশ : কিছু প্রস্তাব
জাহিদুল হক
প্রিন্ট অ-অ+

২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আওয়ামী লীগ 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' গড়ে তুলতে বেশ কিছু কাজ করেছে। তবে স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চাইলে আরো কিছু কাজ এখনই শুরু করতে হবে।


আওয়ামী লীগের ২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করা হয়। তারপর ক্ষমতায় গিয়ে তারা কাজ শুরু করে। ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ করতে চায় দলটি।


প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী যে উন্নয়ন ঘটে চলেছে আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সেই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রযুক্তির সেই উন্নয়নের পথটি অনুসরণ করে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আর এর সুফল পাচ্ছেন নাগরিকরা।


শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে মোবাইলে কিংবা ইন্টারনেটে পরীক্ষার ফল জানতে পারছে, কৃষকরা জমিতে থেকেই বিভিন্ন বাজারে পণ্যের দামের খবর পাচ্ছেন, তরুণরা দারুণ সব স্টার্টআপ গড়ে তুলছেন, সরকারি নানা সেবাও পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে। মোবাইল ব্যাংকিংব্যবস্থারও ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজকাল ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এসব উদ্যোগের কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিতও হয়েছে।


মোটের ওপরপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন যেসব কাজ করা যাচ্ছে, সেগুলো যে একসময় করা সম্ভব হতে পারে, তেমনটি আগে ভাবেননি অনেকে। ফলে তাদের কাছে, সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো চমকপ্রদই বটে।


এখনও আইটি পার্ক স্থাপন, নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু, কয়েক শ' বিলিয়ন ডলারের সফটওয়্যার রপ্তানির মতো স্বপ্নের কথা শোনাচ্ছেন সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা। কিন্তু ইতিমধ্যে চালু হওয়া সেবাগুলোর মান উন্নয়ন ও সুরক্ষিত করা নিয়ে তেমন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে ন।৷ অথচ ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এই কাজটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


স্বপ্ন বাস্তবায়নে আন্তরিক হলে সরকার নিচের প্রস্তাবগুলো ভেবে দেখতে পারে -


- বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা ইস্যুটি এখনো আলোচনায়৷। ওই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, দেশের ডিজিটালব্যবস্থার নিরাপত্তা কত দুর্বল। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর ঘটতে না পারে সেই উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তির এক্ষেত্রে শুধু কম্পিউটার চালাতে জানা লোক দিয়ে কাজ হবে না, দরকার পড়বে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়টি বোঝে এমন জনশক্তির। সেজন্য এই বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিদেশে থাকা বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশিদের পরামর্শ নিয়ে কাজ শুরু করা যেতে পারে।


- ডিজিটালব্যবস্থায় নিরাপত্তাহীনতার আরেকটি ক্ষেত্র বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহার। দেশে সফটওয়্যার ডেভেলপ করার যোগ্য প্রতিষ্ঠান থাকলেও সরকারি-বেসরকারি বড় বড় প্রকল্পে এখনও বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রবণতা আছে। এক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, প্রকল্পের কাজে বিদেশিদের সফটওয়্যার ব্যবহার করায় তাদের মাধ্যমে দেশের অনেক গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিদেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দেশি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমান্বয়ে কাজ দেয়া শুরু করতে এবং তাদের মান আরও উন্নয়নে কী কী করা যেতে পারে সে ব্যাপারে কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সেসব সুযোগের ব্যবস্থা করতে হবে। আর নিতান্তই যদি বিদেশের সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হয়, তাহলে আইন করে ঐসব বিদেশি কোম্পানির বাংলাদেশ অংশের মালিকানার অন্তত ৫০ ভাগ বাংলাদেশি নাগরিকদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে করে সফটওয়্যার নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে তাদের কাছ থেকে সমাধান পেতে সুবিধা হবে।


- প্রতিবছর কয়েক হাজার শিক্ষার্থী কম্পিউটারে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে। স্কুল-কলেজ পর্যায়েও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা এখন বাধ্যতামূলক। তবে এর মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। কারণ, এই বিষয়ে পড়ানোর মতো মানসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব আছে। এই সমস্যার সমাধানে বিসিএস-এ একটি আলাদা ক্যাডার সার্ভিস চালু করা যেতে পারে। তাহলে হয়ত যোগ্য ব্যক্তিরা শিক্ষক হতে কিংবা সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আগ্রহী হবেন। বর্তমান অবস্থায় মেধাবীরা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। কেননা, এখন পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে কম্পিউটার পেশাজীবী হিসেবে মেধাবীদের আকৃষ্ট হওয়ার মতো অবস্থা নেই।


- সরকারের পক্ষ থেকে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন অনেক বলে প্রচার করা হয়৷ তবে এর মধ্যে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাই অনেক বেশি। অথচ ইন্টারনেট ব্যবহার করে সত্যিকারের কিছু করতে চাইলে প্রয়োজন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের। কিন্তু দেশে এখনও এই ইন্টারনেট ব্যবহার সুলভ নয়।


লেখক : প্রবাসী সাংবাদিক


বিবার্তা/হুমায়ুন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com