বাঙালি জাতির হাজার বছরের স্বাধীনতার তৃষ্ণা মিটেছে একাত্তরে
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩:৫৭
বাঙালি জাতির হাজার বছরের স্বাধীনতার তৃষ্ণা মিটেছে একাত্তরে
মাহবুবউল আলম হানিফ
প্রিন্ট অ-অ+

১৬ ডিসেম্বর। বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে গৌরবের দিন, অহংকারের দিন। আমাদের বিজয়ের দিন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের অর্জনকে অবলম্বন করে একটি জাতিরাষ্ট্র নির্মাণের যে অভিযাত্রা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে শুরু হয়েছিলো, লাখো প্রাণের বিনিময়ে তার সমাপ্তি ঘটেছিলো ‘৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে।


বিজয়ের এই দিনে গভীর শ্রদ্ধা জানাই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর সকল সহযোদ্ধাকে। শ্রদ্ধা জানাই মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের। সালাম জানাই জীবিত-মৃত সকল মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সহায়তাকারী সব মানুষদের। যারা নির্যাতিত হয়েছেন, স্বজন হারিয়েছেন, ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন- সকলের প্রতি রইলো গভীর শ্রদ্ধা।


এ দেশ, এদেশের মানুষ হাজার বছর ধরে বিদেশী শাসক গোষ্ঠির শোষণ, নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। কিন্তু বাংগালি জাতি কখনও মাথা নোয়ায়নি। শাসকগোষ্টীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, লড়াই করেছেন, জীবন দিয়েছেন। এ দেশের কাজল মাটি তার সন্তানের রক্তে বার বার ভিজে উঠেছে। কিন্তু জয় লাভ সম্ভব হয় নায় । অবশেষে বিজয় এসেছে ১৯৭১ সালে। বাঙালি জাতির হাজার বছরের স্বাধীনতার তৃষ্ণা মিটেছে একাত্তরে।


বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭০ সালের নির্বাচনেই বাঙালি স্বাধীনতার পক্ষে তাদের আকাঙ্ক্ষাটি জানিয়ে দেয়। তারপর তারা পথে নেমে আসে। স্লোগান তোলে, ''বীর বাঙ্গালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো''। জনতার মনের 'আকাঙ্ক্ষাটি বহু আগে থেকেই জানতেন জনতার নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি রেসকোর্সের জনসভায় বজ্রকন্ঠে ঘোষণা দিলেন, ‘'এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।'' নেতার ঘোষণা শুনে জনতা ঝাঁপিয়ে পড়লো। দীর্ঘ নয় মাস রক্ত-আগুন-অশ্রুতে ভিজে তিরিশ লক্ষ শহীদ আর প্রায় তিন লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিলো আমাদের স্বাধীনতা ।


১৯৭১ এ হানাদার পাকিস্তানিরা লড়েছে শুধু আমাদের বিরুদ্ধে, আর আমাদের লড়তে হয়েছে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী এবং ঘরের শত্রু রাজাকার-আল-বদর-আল-শামস উভয় শত্রুর বিরুদ্ধে।


দু:খের বিষয় এই গণহত্যার জন্য পাকিস্তান এখনও ক্ষমা চায়নি। আমরা আশা করি, গণহত্যার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে পাকিস্তান। আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসেও পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা, যারা বাংলাদেশে আছে, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য জাতির কাছে আহ্বান জানাই। আমরা আশা করি, আমাদের নতুন প্রজন্ম স্বাধীনতার মূল ইতিহাস জানবে এবং মনে ধারণ করবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।


হানাদারদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে আমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করি, কিন্তু ঘরের শত্রু ঘরেই থেকে যায়। ওরা গায়ে নানা রঙ মাখে বটে, কিন্তু মনের কালো রঙ বদলায় না আর সুযোগের অপেক্ষায় থাকে ছোবল মারার।


১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ওদের প্রথম ছোবলে সপরিবারে নিহত হন স্বাধীনতার মহানায়ক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নভেম্বরে আরেক আঘাতে ঝরে যান চার নেতা। এরপর আঘাত আসতে থাকে আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, শিক্ষা তথা সার্বিক জনজীবনে। এমনকি আমাদের বহু আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সংবিধানের উপর ও আঘাত করা হয়েছে ।


১৯৭৫ থেকে টানা প্রায় ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল আওয়ামী লীগ। এ সময় ক্ষমতা ছিল পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের দখলে। এসময়ের মধ্যে যেসব তথ্য হারিয়ে গেছে, সেসব তথ্য আমরা যোগাড় করার চেষ্টা করছি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এখনও চেষ্টা করছি মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের সঠিক তালিকা করার।


বিজয়ের ৫০ বছরে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে ‘উন্নয়ন বিস্ময়’। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার প্রসার, নারী উন্নয়ন, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমানোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে যাচ্ছে প্রিয় স্বদেশ। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণ, মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরসহ সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি ঘরে এখন বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। ধান, ফল, মাছ উৎপাদনে বিস্ময়কর সাফল্য এসেছে। শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম আদর্শ দেশ হিসেবে অবস্থান করে নিয়েছে।


ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দিয়ে বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। কৃষি খাতে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য বিশ্ব দরবারে বারবার আলোচিত হয়েছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সমগ্র বিশ্বের নিকট প্রাকৃতিক দুর্যোগের নিবিড় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্রঋণের ব্যবহার এবং দারিদ্র্র্য দূরীকরণে সাফল্য, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রভৃতি ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২০ সালের সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। এখন যে ধরনের অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে—ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনোমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের ওয়ার্ল্ড লিগ টেবিল ২০২১ রিপোর্টে। রিপোর্ট অনুযায়ী উন্নয়নের চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ১৫ বছর পর বিশ্বের ১৯৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থান হবে ২৫তম।


যে বাংলাদেশ ছিল একসময় অবহেলিত, দারিদ্র্যপীড়িত; যে বাংলাদেশকে নিয়ে পশ্চিমা-বিশ্ব উপহাস করত ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে; প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী, সুদক্ষ, সৃজনশীল ও সাহসী নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে দূর্বার গতিতে। যে বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করেছিলো শূন্য হাতে, সেই বাংলাদেশ এখন মহাশূন্যে উপগ্রহ পাঠায়, নিজের টাকায় পদ্মা সেতু বানায়। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে যে দেশটি যাত্রা শুরু করেছিলো, অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সেই বাংলাদেশ এখন তাঁরই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বের চোখে এক বিস্ময়। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন আমাদের দেখিয়েছেন; সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হচ্ছে তাঁরই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।


বাংলাদেশ এখন দ্রুত উন্নয়নশীল প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে একটি। জলবায়ুর ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জনের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ নামের শতবর্ষের একটি পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। রূপকল্প-২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নের পথে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। ভারতের সঙ্গে ৬৮ বছরের অমীমাংসিত স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহলের মানুষ অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছে। ১১১টি ছিটমহলের ১৭ হাজার ৮৫১ একর জায়গা বাংলাদেশের সীমানায় যুক্ত হয়েছে। সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্লু -ইকোনমির সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার ৯৮ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা বাংলাদেশের সীমানায় যুক্ত হয়েছে।


বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ বিজ্ঞানের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। শত ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাবনার রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। পায়রা, রামপাল, মাতারবাড়ী ও মহেশখালীতে কয়লাভিত্তিক ১০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার আটটি মেগাপ্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হচ্ছে। চার লেন, ছয় লেন ও আট লেন জাতীয় মহাসড়ক, উড়াল সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেরিন ড্রাইভ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণের মাধ্যমে যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বিদ্যুৎ-চালিত বুলেট ট্রেন স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। পটুয়াখালীতে পায়রা সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। ৯ কোটিরও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, ফোর জি মোবাইল প্রযুক্তি চালু, মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট, অনলাইনে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও ভর্তি প্রক্রিয়া, ই-টেন্ডার প্রবর্তন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র, ই-কমার্স প্রভৃতির মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বরং বাস্তব।


পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বে দ্বিতীয়, মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে তৃতীয়, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, চাল উৎপাদনে চতুর্থ, আলু উৎপাদনে সপ্তম, আম উৎপাদনে ৯ম, খাদ্যশস্য উৎপাদনে ১০ম। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, আশ্রয়ণ প্রকল্প, একটি বাড়ি একটি খামার, দুস্থ ভাতাসহ সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান নিশ্চিত করা হয়েছে। শিল্পায়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বন্ধ থাকা পাটকল এবং বস্ত্রকল পুনরায় চালু করা হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে সরকার অটল রয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেছে আন্তর্জাতিক বিশ্ব। সরকার কর্তৃক গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন হয়েছে। সব সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্স-এ ১৫৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫০তম এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে সপ্তম। সারা দেশে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, দুই ডজনের বেশি হাইটেক পার্ক এবং আইটি ভিলেজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।


করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক অতিমারিতেও বাংলাদেশকে দাবায়ে রাখা যায়নি। বর্তমান সরকার এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। করোনা মোকাবিলার সক্ষমতায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম ও বিশ্বে ২০তম। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলা, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বিধান, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ এবং অনেক উন্নত দেশকেও পেছনে ফেলে জনগণের জন্য ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা প্রভৃতি বিশ্বের জন্য অনুকরণীয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা আজ শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)-এর গণতন্ত্র সূচক-২০২০-এ চার ধাপ অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। ৫ দশমিক ৯৯ স্কোর নিয়ে সূচকে ১৬৫টি দেশ ও দুটি অঞ্চলের মধ্যে ৭৬তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এ তালিকায় ভুটান রয়েছে ৮৪তম, নেপাল ৯২তম, পাকিস্তান ১০৫তম অবস্থানে। সামাজিক-অর্থনৈতিক-অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা সূচকে আজকের বাংলাদেশের যে অগ্রগতি-অবস্থান তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিকট রোল মডেল।


নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অর্মত্য সেন তার ভারত :‘উন্নয়ন ও বঞ্চনা’ গ্রন্থে লিখেছেন, বাংলাদেশ সামাজিক উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে যাবে, এ কথা কেউ ভাবেনি। দেশ স্বাধীনের পর অনেকেই তখন বলেছিলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। কেউ কেউ তাকে ‘বাস্কেট কেস’ বলে খরচের খাতায় ফেলে দিয়ে বলেছিলেন, এ দেশকে কোনো অর্থনৈতিক সাহায্য দেওয়াই উচিত নয়। কারণ, সে জনসংখ্যা বিস্ফোরণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খাদ্যোৎপাদন করে উঠতে পারবে না। তিনি আরো বলেছেন, জীবন মানের নানা সুপ্রচলিত মাপকাঠিতে বাংলাদেশ কেবল ভারতের চেয়ে অনেক ভালো করছে না, অনেকটা এগিয়েও গেছে। অনেক সামাজিক সূচক, যেমন : গড় আয়ু, শিশুমৃত্যুর হার, টিকা দেওয়ার মাত্রা, সনাতন প্রজননের হার এবং এমনকি স্কুলশিক্ষার কিছু মাপকাঠিতে বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে। সমগ্র বিশ্ব এখন বাংলাদেশকে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ গণ্য করছে। উন্নয়ন গবেষকরা আজকের বাংলাদেশকে ‘উন্নয়নের রোল মডেল’, দক্ষিণ এশিয়ার ‘তেজি ষাঁড়’, অফুরন্ত সম্ভাবনার এক বাংলাদেশসহ নানা অভিধায় ভূষিত করেছেন। বিজয়ের ৫০ বছরে এসে আমরা বিশ্বসভায় অন্য এক মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশকে দেখছি।


জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক চেতনার সকল ধর্ম বর্ণের আত্মমর্যাদাসম্পন্ন উন্নত বাংলাদেশ গড়বো এটাই হোক আমাদের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার।


লেখক: যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ



বিবার্তা/আবদাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com