পদ্মা সেতু, একটি অধ্যায়ের সফল সমাপ্তি
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০১৯, ০৮:৪৯
পদ্মা সেতু, একটি অধ্যায়ের সফল সমাপ্তি
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নেই। এখন চিরচেনা বাস্তব। আশা-আখাঙ্ক্ষার একটি নাম এই পদ্মা সেতু। ইতোমধ্যে সেতুটির ২৬ নম্বর পিয়ারের ৭ নম্বর পাইলটি বসানো হয়েছে রবিবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায়।


এর মধ্য দিয়ে সেতুর সবশেষ পাইল বসানোর কাজটি সাফল্যের সঙ্গে শেষ হলো। কর্তৃপক্ষের আশা, এ বছরই পদ্মা সেতুর ২৯৪টি পাইলের ওপর ৪২টি পিয়ারের সবক’টিই তৈরি হয়ে যাবে। আর ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারবে।


সেতু কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর গণমাধ্যমকে বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পাইল বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এ সময় সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পাইল বসানোর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নতুন নকশা চূড়ান্ত করার পর মূল সেতুর নির্মাতা চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে এ সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। নতুন নকশার পর এবারই প্রথম নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পাইল বসানোর কাজ সম্পন্ন হলো। নকশা জটিলতার কারণে এর আগে পদ্মা সেতুর কোনো কাজই সময়মতো সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।


পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, মূল কাজ ছিল সেতুর পাইল ডাইভিং। এটি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, এখন তো প্রকল্পের কাজ দ্রুত চলছে। জাজিরায় অনেক স্প্যান বসে গেছে।


তিনি বলেন, মাওয়ার কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে দূরত্ব কমে এসেছে। তাই কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে দু-এক দিনের মধ্যেই একটি করে স্প্যান পিয়ারের ওপর বসানো সম্ভব। ১৩টি পিয়ার নির্মাণকাজ শেষ হলে আশা করা যায় ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারবে।



জানা যায়, ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর মাওয়া থেকে শুরু হয় পদ্মার সেতুর নির্মাণকাজ। শুরুতেই নদীর তলদেশের গভীরে পাওয়া যায় নরম মাটির স্তর। হ্যামার দিয়ে পাইল বসাতে গিয়ে ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ২৬, ২৭, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ ও ৩৫ নম্বর পিয়ারের কাজে সমস্যা দেখা যায়। এ কারণে ১৪টি পিয়ারের নকশা চূড়ান্ত করা যাচ্ছিল না।


সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করে ব্রিটিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাউই (সিওডব্লিউআই) ইউকে লিমিটেড। কাউই ইউকের বিশেষজ্ঞরা মাটি পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করেন। যোগ দেয় আরো কয়েকটি বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ দলের কয়েক দফা বৈঠক হয়।


শক্ত মাটি না পাওয়ায় পদ্মা সেতুর ২২টি পিয়ারে একটি করে পাইলের সংখ্যা বাড়ানো হয়। এসব খুঁটিতে ছয়টি পাইল অন্যান্য পিয়ারের মতোই রেকিং বা কিছুটা বাঁকা করে বসানো হবে। এ ছয়টি পাইলের মধ্যে ৭ নম্বর পাইল ভার্টিক্যাল বা সরাসরি সোজাভাবে বসানো হয়।


৪২টি পিয়ারের ওপর ৪১টি স্প্যানে গড়ে উঠবে পুরো পদ্মা সেতু। মূল নদীতে থাকছে ৪০টি পিয়ার। নির্মাণকাজের শুরুতে মূল নদীর প্রতিটি পিয়ারে পাইলের সংখ্যা ছিল ছয়টি। আর দুই প্রান্তে ১ ও ৪২ নম্বর পিয়ারে ১২টি করে মোট ২৪টি পাইল। সব মিলিয়ে ৪২টি পিয়ারে পাইল ছিল ২৬৪টি। কিন্তু নদীর গভীর তলদেশে কাদামাটির স্তর থাকায় নতুন নকশা করতে হয়।


নতুন নকশায় ১ ও ৪২ নম্বর পিয়ারের ১৬টি করে মোট ৩২টি পাইল করা হয়। আর ২২টি পিয়ারে সাতটি করে পাইল ১৫৪টি এবং ১৮টি পিয়ারে ছয়টি করে মোট ১০৮টি পাইল রাখা হয়। সব মিলিয়ে ২৯৪টি পাইলে ৪২টি পিয়ারে থাকবে পদ্মা সেতু। ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ১৪টি স্প্যান বসানোর পর পদ্মা সেতুর ২ হাজার ১০০ মিটার এখন দৃশ্যমান।


বিবার্তা/রবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com