‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ডাহা মিথ্যা বলছে মিয়ানমার’
প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯, ১৩:৫৯
‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ডাহা মিথ্যা বলছে মিয়ানমার’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিথ্যাচার করছে মিয়ানমার। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এক পায়ে খাড়া।


তিনি বলেন, জাপানে ‘ফিউচার এশিয়া’ সম্মেলনে মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের কারণেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দেরি হচ্ছে। এটা ডাহা মিথ্যা কথা।


তিনি আরো বলেন, ছয় মাস আগে তারা ব্রিফিং করে বলেছিল সব ঠিকঠাক করে দেবে। কিন্তু গত মাসের বৈঠকে দেখা গেলো, নতুন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গা, এমনকি নো-ম্যানস ল্যান্ডে যারা আছেন তারাও ফেরত যায়নি।


রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বুধবার বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফিং শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এ কথা বলেন। এ সময় রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তাদের সহায়তা চান তিনি।


ড. মোমেন বলেন, আমরা আমাদের প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে কিছু বলতে চাই না। তারা আমাদের বন্ধু। তাদের নিয়েই নিয়মের মধ্যে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া দরকার। কিন্তু এ রকম ডাহা মিথ্যা আমরা কেমন করে কতো হজম করতে পারি।



তিনি বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেটা তারা রাখছে না। রাখাইনে ৮০০টি গ্রামের মধ্যে তারা মাত্র দুইটি গ্রামের পরিস্থিতি ভালো দেখিয়ে বলছে, সেখানে কোনো সমস্যা নেই।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা ফিরে যাক, এটাই আমরা চেয়েছি। বরং মিয়ানমার বারবার কথা দিয়েও কথা রাখছে না। আমরা তাদের সঙ্গে অ্যারেঞ্জমেন্ট করেছি। গত বছরের জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার কথা ছিল। দুই বছরের মধ্যে এটা শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সেটা হয়নি।


তিনি বলেন, তারপরে বলা হলো, ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রক্রিয়া শুরু করবে। সেটাও হয়নি। কিছুদিন আগে মিয়ানমারে চতুর্থ যৌথ সম্মেলনে গেলাম, তখন আমরা খুব আশাবাদী ছিলাম। বোধ হয় প্রক্রিয়াটা শুরু হলো। কিন্তু সেটাও হয়নি।


রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে না নিলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে মুসলমানরা নয়, মানবতা লাঞ্ছিত হচ্ছে। আপনাদের যদি মানবতার প্রতি দরদ থাকে তাহলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।


তিনি বলেন, সামনের মাসে প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাবেন। সেখানে রোহিঙ্গা ইস্যু বড় করে তুলে ধরা হবে। চীনকে আমরা বলবো, এখানে যদি শান্তি না থাকে, স্থিতিশীলতা না থাকে, তবে তাদের (চীনের) স্বার্থ বিঘ্নিত হবে। এখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাড়লে তারা যে বিনিয়োগ করেছে বা করবে বলে আশা করছে, সেটি ব্যর্থ হবে।


এক প্রশ্নের উত্তরে ড. মোমেন বলেন, আমরা বিদেশি কূটনীতিকদের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ব্যাখা করেছি। এ বিষয়ে তারা কি করবে, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। তবে আমরা তাদের সহায়তা চেয়েছি।



রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখানে বিশাল সংখ্যক রোহিঙ্গা যদি পড়ে থাকে তাহলে উগ্রবাদের জন্ম হতে পারে।


রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন সময় সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।


এতে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, চীন, ভারত, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ব্রাজিল, ফিলিস্তিন প্রভৃতি মিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি অংশ নেন।


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com