যেকোনো সময় বাংলাদেশে আছড়ে পড়বে ‘ফণি’
প্রকাশ : ০৪ মে ২০১৯, ০৭:০৩
যেকোনো সময় বাংলাদেশে আছড়ে পড়বে ‘ফণি’
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ উড়িষ্যার পর এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আঘাত হেনেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, শুক্রবার গভীর রাতে উড়িষ্যা সীমান্ত পেরিয়ে খড়গপুর হয়ে ইতোমধ্যে হুগলি জেলায় প্রবেশ করেছে ফণি।


ঘূর্ণিঝড় ফণির অবস্থান এখন কলকাতা শহর থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আনুমানিক রাত আড়াইটার দিকে হুগলি জেলার আরামবাগে ফণী আঘাত হানে। অনুমান করা হচ্ছে, পূর্ব বর্ধমান, নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে ফণি।


খুলনা ও আশপাশের এলাকায় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার সকালের মধ্যে যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ফণি। ঘূর্ণিঝড়টি ইতোমধ্যে দুর্বল হতে শুরু করেছে। বাংলাদেশে আঘাত হানার আগে আরও দুর্বল হয়ে যাবে ফণি। শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়েছে।


বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতের উড়িষ্যা উপকূল ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও কিছুটা দুর্বল হয়ে ভারতের উপকূলীয় উড়িষ্যা, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরোও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার সকালের মধ্যে খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছাতে পারে।


বাংলাদেশ এবং এর উপকূলীয় এলাকায় শুক্রবার সকাল থেকে ঘূর্ণিঝড় ফণির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে এবং দেশের অনেক স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাগর উত্তল রয়েছে।


ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২-৪ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।


এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আগেই বাংলাদেশের মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা এবং সংলগ্ন দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।


চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং নিকটবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।


আর কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে আগের মতই ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com