সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে ২০ কোটি টাকা অনুদান
‘আমি কখনো সংবাদমাধ্যমে ভালো প্রচার পাইনি’
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:১৩
‘আমি কখনো সংবাদমাধ্যমে ভালো প্রচার পাইনি’
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে আরো ২০ কোটি টাকা অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মাত্র পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে এ কল্যাণ ট্রাস্টের যাত্রা শুরু করেছিলেন।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বুধবার সকাল ১০টায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনাজনিত আহত ও নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা ভাতা/অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।


শেখ হাসিনা বলেন, আমি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে দিয়েছি। এই ফান্ডে আমি কিছু টাকা দিয়েছিলাম। পত্রিকার মালিকরা এই ফান্ডে কোনো টাকা দেননি। মাত্র দুজন টেলিভিশন মালিক ফান্ডে সহায়তা করেন। সেখানে এখন ১৪ কোটি টাকা আছে। আমি আরো ২০ কোটি টাকা দেবো।


এ সময় সংবাদমাধ্যম মালিকদের কল্যাণ ট্রাস্টে অনুদান দেয়ার আহবান জানান তিনি।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সংবাদপত্র ও মিডিয়ার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আমরা এত উন্নয়ন করার পরও অনেকেই নানাভাবে সমালোচনা করেন। আমরা সংবাদপত্র বা মিডিয়ার কাউকে মুখ চেপে বা গলা চেপে ধরিনি। এ কথা কেউ বলতে পারবে না।


তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে বর্তমান সরকার। এ জন্য সর্বক্ষেত্রে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। কারণ সব মানু্ষের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে চায় সরকার। তাই সব ধরনের অপপ্রচার বন্ধে অনলাইন নীতিমালা গঠন করা হবে।


তিনি আরো বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময়ে মানুষের কথা বলার অধিকারসহ সব ধরনের অধিকারই হরণ করা হয়েছিল। তারা ক্ষমতায় এসে প্রথমেই রাজনীতিবিদদের মুখে কালি দেয়। পরে নিজেদের উর্ধ্বক্রিয়ায় নিজেরাই ফেঁসে যায়।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৬’ সালে যখন ক্ষমতায় আসি তখন দেশে শুধু সরকারি একটি টিভি চ্যানেল ও একটি রেডিও ছিল। আমরা টেলিভিশন চ্যালেন, সংবাদপত্র ও রেডিও বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিই। একটাই উদ্দেশ্য ছিল-অবাধ তথ্য প্রবাহ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সংবাদপত্র ও রেডিও যে যেভাবে চেয়েছে আমরা অনুমোদন দিয়েছি। তারপরও আমি কখনো সংবাদপত্রে বা মিডিয়ায় ভালো প্রচার পাইনি। হয়তো বা সেটা যারা মালিক থাকেন, তাদের কারণে। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে সবসময় আমার ভালো একটা সম্পর্ক রয়েছে।


শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা সাংবাদিকদের জন্য পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। আমরাও সেটি বজায় রেখেছি। স্বাধীনতা ভালো, তবে বালকের হাতে স্বাধীনতা মানায় না।


সাংবাদিকদের কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু বেকার সাংবাদিকদের সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন। অথচ তারাই পচাত্তরের পর বঙ্গবন্ধুর সমালোচক হয়ে উঠেছিল। তারা বলা শুরু করল জাতির জনক গণমাধ্যম রাষ্ট্রীয়করণ করে স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছেন। অথচ তাদের গণমাধ্যম পরিচালনার মতো অবস্থা কিন্তু তখন ছিল না।


তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছাত্রজীবন থেকেই সংবাদপত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। প্রথমেই ইত্তেহাদ নামে একটা পত্রিকা আসে, তারপর মিল্লাত পত্রিকা ও এরপর ইত্তেফাক পত্রিকা বের হলো। তিনি সবসময় এসব পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বাবার আত্মজীবনীতেও লেখা আছে তিনি সংবাদপত্রে কাজ করতেন। কাজেই সেদিক থেকে আপনারা আমাকে আপনাদের পরিবারের একজন হিসেবে মনে করতে পারেন তাহলে সবচেয়ে খুশি হব।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু সাংবাদিক নয়। সকল পেশাজীবী মানুষের উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি মনে করি, এটি আমার একটা দায়িত্ব। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করা দরকার আমরা তা করছি।


তিনি বলেন, আমি খুব কাছে থেকে দেখেছি সাংবাদিকদের জীবন কেমন। তাদের চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই। বেতনেরও নিশ্চয়তা কম। এ কারণে আমি নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করি।


অনুষ্ঠানে ১১৩ জন সাংবাদিককে চেক বিতরণ করা হয়। তিন বছরে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে সাংবাদিকদের মোট ১০ কোটি ৭ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।


তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্যপ্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম রহমতুল্লা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য্য, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।


এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য সচিব আবদুল মালেক ও বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলমগীর।


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com