‘এখন গুলি খেতে হয় না, কৃষকের হাতেই সার পৌঁছে যায়’
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:০১
‘এখন গুলি খেতে হয় না, কৃষকের হাতেই সার পৌঁছে যায়’
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়া সরকারের চিন্তা ছিল বৈরি। ওই সময়ে সারের দাবিতে ১৮ জন কৃষককে জীবন দিতে হয়েছিল। জানি না এমন ঘটনা আর কোথাও ঘটেছে কি-না।


তিনি বলেন, এখন সারের জন্য কৃষককে ধরনা দিতে হয় না, গুলিতে প্রাণ দিতে হয় না, কৃষকদের হাতেই পৌঁছে যায় সার। আওয়ামী লীগ সরকার সেই ব্যবস্থা করেছে।


রাজধানীর কৃষিবিদ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আজ শনিবার সকালে ষষ্ঠ জাতীয় কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


কৃষি উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা লাভের পর অল্প সময়ের মধ্যে জাতির পিতা এ দেশকে গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু তার নেয়া সব উন্নয়ন পরিকল্পনা বন্ধ করে দেয় জিয়াউর রহমান ও তৎপরবর্তী (হুসেইন মুহম্মদ) এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সরকার।


তিনি বলেন, ৭৫’ পরবর্তী সরকারগুলোর চিন্তা ছিল ব্যবসা। তারা চায়নি বাংলাদেশ নিজ পায়ে দাঁড়াক। তারা চেয়েছিল বাঙালি ভিক্ষুক জাতি হিসেবে থাকুক। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের উদ্দেশ্যই ছিল এদেশের মানুষকে শোষণ করা।


তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ৯৬’ সালে ক্ষমতায় এসে কৃষিকে গুরুত্ব দেয়া শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন। জমির সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অর্থনৈতিকভাবে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ।


কৃষিক্ষেত্রে তার সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ ২ কোটি ১৩ লাখেরও বেশি মানুষ কৃষি উপকরণ কার্ড পেয়েছে। তাদের কাছে কৃষি উপকরণ পৌঁছে যাচ্ছে। আমরা কৃষকদের ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আজ বর্গাচাষীরা জামানতবিহীন ঋণ পাচ্ছে। ১ কোটি কৃষক ভর্তুকি পাচ্ছে।


তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তিন দফায় সারের দাম কমিয়েছে। বর্গাচাষীদের আগে ঋণ দেয়া হতো না। আমরা তাদের জন্যও ঋণের ব্যবস্থা করে দেই। কৃষককে যেন ব্যাংকে আসতে না হয়, বরং ব্যাংকই কৃষকের দ্বারে গিয়ে তাকে ঋণ পৌঁছে দেয়, সেই ব্যবস্থাও করেছি।


দেশ এগিয়ে যাক- এটাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে। নিজেদের উৎপাদিত পণ্য দিয়েই দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে আপদকালের জন্য খাদ্য মজুদ রাখতে হবে।


কৃষিক্ষেত্রকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেয় জানিয়ে তিনি আরো বলেন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প নিয়ে আমরা প্রত্যেকটা পরিবারকে উৎসাহিত করছি। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক করে দিয়েছি। কেউ ১০০ টাকা সঞ্চয় করলে ব্যাংক থেকে তাকে আরও ১০০ টাকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে মানুষের সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি বাড়বে। একই সঙ্গে কোথাও এক টুকরো জমিও খালি রাখা যাবে না। ফসল ফলাতে হবে। উৎপাদন বাড়াতে হবে।


প্রধানমন্ত্রী বিএনপির কড়া সমালোচনা করে বলেন, আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি ২১০০ সালের মহাপরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছি। অথচ বিএনপির নীতিই ছিল, এ দেশের মানুষ ভিক্ষা করবে। কিন্তু আমরা যুদ্ধজয়ী বীর জাতি, আমাদের কেন অন্যের কাছে হাত পাততে হবে?


আর যেন কখনো বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশের মানুষকে ভিক্ষার হাত পাততে না হয় সেদিকে নজর রাখতে কৃষিবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, আমরা ক্ষমতায় এসে জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করেছি। আগামীবার ভোট দিলেও উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাবো, আবার ভোট না দিলে নাই। কিন্তু কৃষিবিদদের নজর দিতে বলবো, যেন আর কখনো এদেশের মানুষকে অন্যের কাছে ভিক্ষার হাত পাততে না হয়।


কৃষি ও বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার জন্য নতুন করে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি ড. মির্জা জলিল, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম প্রমুখ।


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com