দিল্লিতে বিএসএফ-বিজিবি ডিজি পর্যায়ের বৈঠক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৫৪
দিল্লিতে বিএসএফ-বিজিবি ডিজি পর্যায়ের বৈঠক
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ডিজি মেজর জেনারেল সফিনুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যায় ভারতে অনুপ্রবেশ কিংবা অভিবাসনের কোনো খবর নেই। কারণ বাংলাদেশের মানুষ বর্তমানে ভালো জীবনযাপন করছেন। তারপরও সীমান্ত অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা ঘটে থাকলে তা সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক বন্ধন থেকেই হয়েছে।


দিল্লির লোধি রোডে অবস্থিত বিএসএফ’র সদর দফতর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ-বিজিবি) ডিজি পর্যায়ের ৪৭তম বৈঠক শেষে এদিন যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই বাহিনীর ডিজি। সেখানে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সফিনুল ইসলাম জানান, ‘বাংলাদেশ থেকে ভারতের মাটিতে বড় ধরনের কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। আপনারা জানেন যে এইমুহুর্তে বাংলাদেশে উন্নয়নের জোয়ার চলছে...আমাদের জিডিপি এখন ৭.১ শতাংশ এবং দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থেই খুব সুন্দর জীবন উপভোগ করছেন। তাই সংগবদ্ধ ভাবে বা বিশাল সংখ্যায় দেশত্যাগ করার কোন ঘটনা নেই।’


বিজিবি ডিজির, ''অভিমত যে সমস্ত বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসেন, তারা মূলত সাংস্কৃতিক বন্ধন ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণেই সীমান্ত অতিক্রম করেন। অনেক বাংলাদেশি নাগরিকেরই আত্মীয়-স্বজনরা এপারে (ভারত) থাকেন। সেই সম্পর্কের খাতিরেই তারা এপারে আসেন। তাই প্রধান এই কারণেই অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। কিন্তু বন্ধু ও পরিবারের সাথে দেখা করে তারা আবার ফিরেও আসেন এবং সেই সংখ্যটাও নগন্য।''


অন্যদিকে বিএসএফ ডিজি কে.কে. শর্মা জানান, ‘ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে চলতি বছরে ১৫২২ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। এর মধ্যে ১৬৬ জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, বাকীরা পাচার হয়ে আসা। নির্যাতিত ও অপরাধীদের মধ্যে পার্থক্য বোঝার জন্য আমরা আমাদের সেনাবাহিনীকে আরও সংবেদনশীল করা হয়েছে।'


সীমান্ত বরাবর গবাদি পশু পাচারের ঘটনাও কমেছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন দুই দেশের বাহিনীর ডিজিরা। তাদের অভিমত সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে গবাদি পশু পাচারের সংখ্যা অনেকটাই কমেছে- এর প্রথম কারণ সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি, দ্বিতীয়ত বাংলাদেশে গবাদি পশুর লালন-পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া।


অন্যদিকে সীমান্ত বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর হার কমেছে বলে জানান বিজিবি’র ডিজি। তিনি বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা নিয়ে বাংলাদেশ যথেষ্ট উদ্বিগ্ন এবং যারা পাচারের সাথে জড়িত থাকে তাদের সাথেই এই জিনিস বেশি হয়ে থাকে। এই বিষয়টি অনুধাবন করে দুই বাহিনী একযোগে কাজ করছে। আমরা এই সীমান্ত হত্যার সংখ্যা শূণ্যে নামিয়ে আনতে চাই। সীমান্তে যাতে গবাদি পশু পাচারের ঘটনা না হয় সেব্যাপারে সতর্ক রয়েছি। তাছাড়া পাচারের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়ছে কিন্তু পাচার কম হওয়ার ফলে দেশের মানুষও স্বয়ং সম্পূর্ণ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।'


বিএসএফ ডিজিও জানান ‘আমি খুবই খুশি যে চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত সীমান্তে একটিও বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা নেই।’


রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে কে.কে. শর্মা জানান, ‘আমরা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত রয়েছি। মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে প্রচুর সংখ্যায় রোহিঙ্গা নাগরিক আশ্রয় নিয়েছে এবং সেখান থেকে ছোট ছোট দলে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা তাদের সেই প্রচেষ্টাকে সফল হতে দিই নি। তাই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে বড় সংখ্যায় কোন রোহিঙ্গা প্রবেশের ঘটনা নেই। দেশে এখনও পর্যন্ত যে রোহিঙ্গারা অবস্থান করছে... তারাও কিছু কিছু জায়গায় যথেষ্ট চাপে রয়েছে এবং সেই কারণেই তারা এখন পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিচ্ছেন। কারণ এই রাজ্যটিতে তারা কিছুটা স্বস্তি অনুভব করার কারণেই দেশের অন্য প্রান্ত থেকে সেখানে আসছে এবং সেই রোহিঙ্গাদের জন্য শিবিরও খোলা হয়েছে।’


এখনও পর্যন্ত রাজ্যটিতে ৭০ টি পরিবারের খোঁজ মিলেছে বলেও জানান তিনি।


রোহিঙ্গা ইস্যুতে সতর্ক রয়েছে বিজিবিও। বাহিনীর প্রধান জানান, ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে প্রচুর রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন এবং বিজিবি সহ অন্য নিরাপত্তা এজেন্সিগুলি সবসময় তাদের ওপর নজর রাখছে এবং একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু তার পরেও দেশের অন্য প্রান্তে তারা চলে যাচ্ছেন।’



ভারত সফরকালে বিজিবি ডিজি সফিনুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাথেও সাক্ষাৎ করেন।


বিবার্তা/ডিডি/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com