‘বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে’
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:২৬
‘বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে’
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।


তবে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে খরচ হচ্ছে ৬ টাকা ২০ পয়সা করে, তবে বিক্রি হচ্ছে ৪ টাকা ৮২ পয়সা করে। সবাইকে এ সেবার আওতায় আনতে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। তাই সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।


রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।


বিদ্যুৎ খাতের সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি তখন মাত্র ৪৭ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পেতো। আমরা সেটি বাড়িয়ে ৯০ শতাংশে উন্নীত করেছি।


তিনি বলেন, আমরা বিদ্যুতে ভর্তুকি দিচ্ছি। উৎপাদন খরচ আমরা নিচ্ছি না। তবে অনন্তকাল হয়তো এই ভর্তুকি দেয়া হবে না। তাই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।


সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে সরকারপ্রধান সবাইকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপচয় রোধে সচেতন হওয়ার কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা হাতে নিই। প্রতি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিই। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে আমরা ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৯ বছরে ২৪৩৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন উন্নীত করার জন্য ১৩৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিই।


তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ১০১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ২০০৯ সালের পূর্ববর্তী একশ’ বছরে হয়েছিল মাত্র ২৭টি বিদ্যৎ উৎপাদন কেন্দ্র।


বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ৯৬’সালে ক্ষমতায় এসে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন যেখানে রেখে গেছি ২০০৯ সাল পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিল তারা সেটি কমিয়ে ফেলল। ২০০৯ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি তখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল মাত্র ৪ হাজার মেগাওয়াট। কার্যত তা ছিল মাত্র ৩২শ’ মেগাওয়াট।


তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ২০ হাজার মেগাওয়াট। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট আর ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি আমরা।


এছাড়া বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গ থেকে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ভারতের মাধ্যমে নেপাল-ভুটান থেকেও বিদ্যুৎ আনা হবে।


তিনি বলেন, নেপাল ও ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। এর মধ্যে নেপালের সঙ্গে আমরা সমঝোতা স্মারক সই করেছি।


বিদ্যুত খাতের সরকারের সফলতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সারা দেশে ৪৩ লাখ সোলার দিয়েছি। আরো দেয়া হবে। আমরা সিস্টেম লস কমিয়ে এনেছি। বর্তমানে সিস্টেম লস ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ। বিদ্যুৎ প্রাপ্তি প্রতি ঘন্টায় ৪৬৪ কিলোওয়াট।


তিনি বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনও বাড়ানোর উদ্যোগ নিই। ২০০৯ সালে যেখানে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ছিল মাত্র ৮ হাজার সার্কিট কিলোমিটার সেখানে আমরা করেছি ১১১২২ কিলোমিটার। আর ওই সময়ে বিতরণ লাইন ছিল মাত্র ২ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার। আমরা সেটি বাড়িয়ে করেছি ৪ লাখ ৫৭ হাজার কিলোমিটার।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতার পর অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছিল তখন এলো বড় ধরণের আঘাত। জাতির পিতাকে হত্যা করা হলো। শুধু জাতির পিতা নয়, আমার মা-ভাই-স্বজনসহ ১৮ জনকে ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয়। এই হত্যার পর আমাকে দেশে আসতে দেয়া হয়নি। বিচার চাওয়ার অধিকারটুকুও আমার ছিল না।


তিনি বলেন, ২০০৮’র নির্বাচনে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিলাম। আজকের বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা আধুনিক জ্ঞান সম্পন্ন হবে। আমরা সেটা চাই।


তিনি আরো বলেন, ২০৪১ সালে আমরা বাংলাদেশকে কিভাবে গড়ে তুলবো এবং পরবর্তীতে শতাব্দীতে বাংলাদেশ কি হবে সেই বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়ন করে সেটাকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এভাবেই বাংলাদেশের জন্য একটা ভবিষ্যত গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিচ্ছি।


অনুষ্ঠানে বিদ্যুতের বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তাজুল ইসলাম, বিদ্যুৎ সচিব আহমদ কায়কাউস, জ্বালানি সচিব আবু হেনা মোঃ রহমাতুল মুনিম, নেপালের জ্বালানি-পানিসম্পদ ও সেচমন্ত্রী বারসামান কুন অনন্তসহ আরো অনেকে।


বিবার্তা/জাকিয়া


>>‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে সরকার সবসময়ই অগ্রাধিকার দিয়েছে’

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com