‘দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তায় প্রয়োজন আইনি কাঠামো’
প্রকাশ : ৩১ মে ২০১৮, ১৭:০০
‘দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তায় প্রয়োজন আইনি কাঠামো’
প্রতীকী ছবি
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি আইনি কাঠামো গড়ে তোলার জন্য সরকারের প্রতি সুপারিশ করেছেন।


তারা বলেছেন, এই আইনি কাঠামো গঠনের মাধ্যমে তাদের বসবাস, খাদ্য নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং বসবাসের জন্য সরকারি সম্পদে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া এর মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত এবং দরিদ্রদের চিহ্নিত এবং নিরাপত্তা প্রদান করাও সম্ভব হবে।


বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপ লাউঞ্জে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব : ভূমি থেকে প্রান্তিক মানুষের উচ্ছেদ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এই সুপারিশ করেন।


এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এই সেমিনারের আয়োজন করে।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ।


এএলআরডি নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের উপ-নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি।


প্যানেল আলোচক ছিলেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হামিদুল হক ও বিশিষ্ট পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক। ভুক্তভোগী প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েকজন তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।


‘জলবায়ু পরিবর্তন : উপকূলীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভূমি ও জীবন জীবিকার উপর প্রভাব’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্রীণ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব একটি বৈশ্বিক সমস্যা । তাই জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় আমাদেরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এই সমস্যার সমাধান বৈশ্বিকভাবেই করতে হবে।


ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে,অথচ প্রকৃত পক্ষে আমরা এর জন্য দায়ী নই। উন্নত দেশসমূহের গ্রীণ হাউজ গ্যাস নি:সরণের ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক দূর্যোগের অভিঘাতের সম্মুখীন হচ্ছি।


তিনি বলেন, অপরিনামদর্শিভাবে পাহাড় কাটা, গাছ কাটার ফলে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটছে, মানুষ নানাবিধ সমস্যায় পড়ছে, আমাদেরকে এসব বিষয়ে অত্যন্ত সচেতনভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।


বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে অনেক মানুষ স্থানচ্যুত বা বাস্তচ্যুত হচ্ছে, কিন্তু ঠিক কত মানুষ বাস্তচ্যুত হয়েছে তার সঠিক তথ্য ও পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই। তাই এ বিষয়ে আমদেরকে পরিকল্পিতভাবে গবেষণা করতে হবে, নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে।


তিনি বলেন, উপকূলের মানুষের মানুষের বড় সমস্যা সুপেয় পানির অভাব। এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। এছাড়া বাস্তুচ্যুত মানুষের যে খাস জমি পাওয়ার অধিকার রয়েছে তা নিশ্চিত করতে হবে।


এএলআরডির পক্ষ থেকে সুপারিশে আরও বলা হয়, শুধু দুর্যোগকালীন সময়ের জন্য প্রস্তুতি নয় বরং এমন কার্যকর সতর্কীকরণ ব্যবস্থা দরকার যার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের সহজেই পুনর্বাসন বা দুর্যোগ কবলিত এলাকা হতে সরিয়ে নেয়া যায়।


এছাড়া দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের ছেড়ে আসা স্থানে যেসব সরকারি- বেসরকারি নিরাপত্তাজাল কর্মসূচির আওতায় ছিল, তারা যেন নতুন স্থানে সে সুবিধাগুলো পেতে পারে তার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।


বিবার্তা/রোকন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com