এই সোমবারেই ফিরলেন তারা কফিনে
প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৮, ১৮:৪৭
এই সোমবারেই ফিরলেন তারা কফিনে
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। অদৃষ্টের কি লিখন! গিয়েছিলেন একটু আনন্দ অবসরে কিংবা কাজে কিন্তু ফিরতে হচ্ছে কফিনে করে। ঠিক গত সোমবারেই তারা বিমানে উঠেছিলো উচ্ছ্বাস নিয়ে। আর এই সোমবারে তারা ফিরলো কফিনে, কফিনবন্দী হয়ে। ঠিক এক সপ্তাহ পর।


কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস বাংলার বিমানটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এই দুর্ঘটনায় ৫১ জন মৃত্যু বরণ করে। মোট ৭১ জন আরোহীর বিমানটিতে ৩৩জন নেপালি, ৩২ জন বাংলাদেশি এবং একজন করে চীনা ও মালয়েশীয় নাগরিক ছিলেন৷ নিহত হয়েছেন ২৬ বাংলাদেশিসহ ৫১ জন। বাংলাদেশিদের মধ্যে শানাক্ত হয়েছে ২৩ জনের মরদেহ।


৬৭ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ইউএস-বাংলার বোম্বার্ডিয়ার কিউ৪০০ বিমানটি৷ কাঠমান্ডু পোঁছানোর আগ পর্যন্ত নির্বিঘ্নেই চলেছে বিমান৷ ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অবতরণের অবতরণের অনুমতিও দিয়েছিল৷ কিন্তু রয়টার্সকে ত্রিভুবন বিমানবন্দরের জেনারেল ম্যানেজার রাজ কুমার ছেত্রী জানান, অনুমতি পাওয়ার পরই পাইলট জানান, তিনি বিমান নিয়ে উত্তর দিকে এগোতে চান৷


কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে পাইলট বলেন, ‘না৷’ পরক্ষণেই বিমানবন্দরের উত্তর-পূর্ব দিকে দু’বার পাক খেতে দেখা যায় বিমানটিকে৷ ট্রাফিক কন্ট্রোলার জানতে চান, ‘সব ঠিক আছে তো?’ পাইলটকে বলতে শোনা যায়, ‘হ্যাঁ৷'


কিন্তু তখন ‘অ্যালাইনমেন্ট’ ঠিক না থাকায় বিমানটির অবতরণে ঝুঁকি ছিল৷ সেকথা জানানোও হয় পাইলটকে৷ তা সত্ত্বেও দ্রুত অবতরণ শুরু করে বিমানটি এবং কয়েক মুহূর্ত পরই বিমানবন্দরের প্রাচীরে ধাক্কা খেয়ে নেমে পড়ে৷


এপি-কে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটিকে তিনি খুব কম উচ্চতায় উড়তে দেখেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘বিমানটি এত নীচ দিয়ে উড়ছিল যে আমার মনে হয়েছিল এক্ষুণি বুঝি পাহাড়ে গিয়ে ধাক্কা খাবে৷ তারপর হঠাৎই প্রথমে একবার এবং তারপর আরেকবার বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই৷’’


দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরের উদ্ধারকর্মী এবং দমকলকর্মীরা ছুটে আসেন৷ এরপর ধোঁয়ায় ঢাকা বিমান থেকে আহত যাত্রীদের বের করে হাসপাতালে পাঠানো শুরু হয়৷


কফিনে যেসকল যাত্রীদের মরদেহ আনা হয়েছে — মো. ফয়সাল আহমেদ, হুরুন নাহার বিলকিস বানু, নাজিয়া আফরিন চৌধুরী, সানজিদা হক, আঁখি মনি, এফএইচ প্রিয়ক, উম্মে সালমা, মো. নুরুজ্জামান, মো. রফিকুজ্জামান, অনিরুদ্ধ জামান, তাহিরা তানভিন শশী, মিনহাজ বিন নাসির, মো. রকিবুল হাসান, মো. মতিউর রহমান, মোসাম্মৎ আখতারা বেগম, মো. হাসান ইমাম, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, এসএম মাহমুদুর রহমান ও বিলকিস আরা।


সেই সঙ্গে দেশে এসেছে চারজন পাইলট ও ক্রু’র মরদেহও। তারা হলেন- উড়োজাহাজের পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশীদ, ক্রু খাজা সাইফুল্লাহ ও শারমিন আক্তার নাবিলা।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com