রোগ থেকে মুক্তি মেলেনি বৃক্ষমানবের
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৭:০২
রোগ থেকে মুক্তি মেলেনি বৃক্ষমানবের
বৃক্ষমানব আবুল বাজানদার (সংরক্ষিত ছবি)
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বৃক্ষমানব আবুল বাজানদারের রোগ এখনো সারেনি। তার শরীরে আবার এই রোগের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এবার আরো গভীরভাবে এ রোগটি তার দেহে বাসা বেধেছে। আগের চেয়ে জটিল হয়েছে বৃক্ষমানবের এই রোগ। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন বার্তা সংস্থা এএফপি এ কথা জানিয়েছেন।


দীর্ঘ এক যুগ ধরে আবুল বাজানদার এপিডার্মোডায়েসপপ্লেসিয়া ভেরুসিফরমিস রোগে ভুগছেন। তারা দুটো হাতের আঙ্গুল এই রোগের প্রকোপে ঢেকে গিয়েছিল। বিরল এই রোগকে সহজ বাংলায় ‘মাংস বৃদ্ধি’ বলা হয়। পেশায় রিকশা চালক আবুল বাজানদার খুশি হয়েছিলেন যখন চিকিৎসক তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন তিনি রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। দীর্ঘ এক বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার চিকিৎসা হয়। তার হাতের অবাঞ্ছিত মাংসগুলো কেটে ফেলতে ২৪ বার অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে তারা হাতের আকার স্বাভাবিক হয়। হাত দিয়ে সে স্বাভাবিক কাজ করতে পারে। হাসপাতাল থেকে ছেড়েও দেয়া হয় এক সময়।


বিধিবাম, আবুল বাজানদারের হাতে আবার সেই রোগ নতুন করে জেগে উঠেছে। এখন তার রোগ আগের চেয়ে আরো জটিল হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আমরা আবুল বাজানদারের হাত ও পা থেকে ৫ কেজি অবাঞ্ছিত মাংস কেটে ফেলে দেই। তাকে সম্পূর্ণ সুস্থই মনে করেছিলাম আমরা। কিন্তু আমাদের ধারণা ভুল। এখন মনে হচ্ছে আমরা শুধু এসব করে সময়ের অপচয় করেছি মাত্র।


তারপরও হাল ছাড়েননি চিকিৎসক সামন্ত লাল সেন। তিনি ও তার দলের সদস্যরা এ নিয়ে আরো পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাবেন। সফল হতে তারা ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করবেন। বাজানদারের রোগমুক্তি মিলবে কবে তা নিশ্চিত করতে পারেননি চিকিৎসক। তবে সময় একটু বেশি লাগবে বলে জানান তিনি।


বাজানদারের এই চিকিৎসা বিনামূল্যে করছেন অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন। তারপরও বাজানদারের চিন্তা এই রোগের কারণে তার মেয়ের লেখাপড়া যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।


অপরদিকে আরেক বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তামনির অবস্থাও একই রকম। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করে তার হাতের অবাঞ্ছিত মাংস ফেলে দিতে বলেছিলো। বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচারও হয় মুক্তামনির। কিন্তু মাঝপথে মুক্তমনির বাবা তার মেয়ের চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। তিনি দেখেন তার মেয়ের শরীরে এই রোগ আরো বেশি করে হচ্ছে। তখনই তিনি চিকিৎসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন বলে হাসপাতালে কর্তব্যরত এক নার্স জানিয়েছেন।


বিবার্তা/সুমন/সোহান

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com