শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনা মোকাবিলায় সফল বাংলাদেশ
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:৪৯
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনা মোকাবিলায় সফল বাংলাদেশ
এস এম রিয়াদ রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

মহামারি করোনা ভাইরাসের ধকলে পৃথিবীর প্রায় সব দেশই বিপর্যস্ত হয়েছে। এই ভাইরাসে বাংলাদেশের অবস্থাও নাজুক হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সফলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তিনি করোনা মহামারি থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত নানা পদক্ষেপ গ্রহণকরেছিলেন। স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করা, টিকাদানে জোর দেওয়া, অর্থনীতি গতিশীল রাখতে সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।


করোনা ভাইরাসের আক্রমণে বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা যখন দিশেহারা, তখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান শেখ হাসিনার দৃঢ় মনবলে পরিকল্পিত নেতৃত্ব, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছেন। একই সাথে দরিদ্র মানুষদের ত্রাণ সহযোগিতার পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহ ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণকরেছেন। করোনা সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ায় আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশ সুনাম অর্জন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ফোর্বস থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মিডিয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অর্থনীতি গতিশীল রাখতে সরকারের প্রণোদনা ঘোষণা ছিল সময়োপযোগী। করোনা মহামারিতে সমগ্র পৃথিবীর অর্থনীতি যখন মুখ থুবড়ে পড়েছে; বাংলাদেশ তখন পৃথিবীর পাঁচটি অগ্রসরমান অর্থনীতির একটি। বাংলাদেশ এখন নিজস্ব চাহিদা পূরণ করেও অন্যান্য দরিদ্র দেশগুলোকে আর্থিক ঋণ সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ধারাবাহিকতা এভাবে বজায় থাকলে আগামী ২০৩০ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৫তম অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশ।


করোনার থাবায় অনেক দেশকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বলতার দিকে ঝুঁকে পড়তে দেখা গেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা গেছে, করোনাকালে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে লকডাউন দেয়া হয়েছিল। ওই সময় খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ, স্বল্পমূল্যে খাদ্য বিতরণ ও নগদ টাকাসহ নানা প্রণোদনা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।


করোনা সংকট মোকাবিলায় শেখ হাসিনার নানা উদ্যোগ, কর্মসূচি ও ব্যবস্থা গ্রহণেবাংলাদেশের যুগান্তকারী সাফল্য এসেছে। মানুষের জীবন-জীবিকাকে প্রাধান্য দিয়ে জনসচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি ও চিকিৎসা ব্যবস্থা করেছিলেন। সরকারি, বেসরকারি উদ্যোগে ফিল্ড হাসপাতাল, কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ল্যাব স্থাপন করে দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ, টিকা প্রয়োগ ও আমদানি প্রভৃতি ব্যবস্থাপনায় তৎপর ছিলেন। এমনকি 'সুরক্ষা' অ্যাপ চালুর মাধ্যমে ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া এবং কার্যক্রম অনেক সহজ করে দেয়া হয়েছে।


বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের আগেই বাংলাদেশ কোভিড টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার টিকাদান র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও বস্নুমবার্গ কর্তৃক বাংলাদেশের টিকাদানেরউদ্যোগ ও কর্মসূচি প্রশংসিত পূর্ব থেকেই।টিকাদান কর্মসূচিতে শেখ হাসিনার কার্যকর পদক্ষেপের কারণে বিশ্ব নেতৃত্বের সামনে ২০১৯ সাল থেকে বাংলাদেশ ভ্যাকসিন হিরোর দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির অনন্য সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।


করোনাকালে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ২৫ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে সর্বস্তরের মানুষকে। এখানে দুই ডোজ ভ্যাকসিনের আওতায় এসেছে প্রায় ১১ কোটি মানুষ। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ৭৪ শতাংশ মানুষ ভ্যাকসিনের আওতায় এসেছে। অথচ প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতের ৬৮ ভাগ মানুষ ভ্যাকসিনের আওতায় এসেছে। আর আমেরিকায় ভ্যাকসিনের আওতায় এসেছে ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ।


করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের সফলতার বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. জাহানারা আরজু বিবার্তাকে বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশই করোনা মোকাবিলা করতে পারেনি। করোনার থাবায় অনেক দেশকে অর্থনৈতিকভাবে দূর্বলতার দিকে ঝুঁকে পড়তে দেখা গেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা গেছে, করোনাকালে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে লকডাউন দেয়া হয়েছিল। এই সময় খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছিলেন।


তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ২৫ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে সর্বস্তরের মানুষকে। এখানে দুই ডোজ ভ্যাকসিনের আওতায় এসেছে প্রায় ১.২ কোটি লোক। এ পর্যন্ত প্রায় ৭৪ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশে পুরোপুরি ভ্যাকসিনের আওতায় এসেছে। অথচ সেইদিক থেকে প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতে ৬৮ ভাগ মানুষ ভ্যাকসিনের আওতায় এসেছে। আর আমেরিকায় ভ্যাকসিনের আওতায় এসেছে ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ লোক। সুতরাং সময়ের সাথে সাথে ভ্যাকসিনের প্রয়োজনীয়তা অনুসারে তা অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি এবং জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিতে শেখ হাসিনা সরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি 'সুরক্ষা' অ্যাপ চালুর মাধ্যমে ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া এবং কার্যক্রম অনেক সহজ করে দেয়া হয়েছিল।



করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের সফলতার বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিভিডি) সহযোগী অধ্যাপক ও আবাসিক সার্জন ডা. আশরাফুল হক সিয়াম বিবার্তাকে বলেন, করোনা মহামারি সংকট মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবশ্যই দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। দেশের সংকট নিরসনে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও সকল চিকিৎসক, তার সাথে আমাদের জুনিয়র চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স, সেবিকা যারা আছেন- তাদের সকলের প্রচেষ্টায় কাজে সুফল এসেছে।


ডা. জাহানারা আরজু বলেন, হাসপাতালে করোনাকালীন যারা সম্মুখভাগের যোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন তাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অনেক ব্যয়বহুল সরঞ্জামাদি এবং পোশাক বিনামূল্যে প্রদান করেছে সরকার। মোটকথা, শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে আমাদের দেশে করোনা মোকাবিলায় এবং সুরক্ষার জন্য সম্মুখসারির যোদ্ধাদের অনেক উপকার হয়েছে। আর যারা করোনা রোগীদের ট্রিটমেন্ট দিতে গিয়ে নিজেদের জীবনকে বিসর্জন দিয়েছেন তাদের জন্য একটি প্রণোদনা সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।



ডা. আশরাফুল হক সিয়াম বলেন, সারা বিশ্বের সকল দেশ যখন মহামারি করোনায় বিপর্যস্ত, তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই করোনা মহামারিতে সফল হওয়া সম্ভব হয়েছে। ওনার নির্দেশনা ছাড়া কোনোভাবেই এই মহামারি থেকে এত দ্রুত সফল হওয়া সম্ভব হত না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণকরতে পারেন। আর বাংলাদেশের জনগণ তাঁর সাথে একত্রিত হয়ে কাজ করার কারণে মহামারি করোনা থেকে বাংলাদেশ সফলতা অর্জন করেছে।


ডা. জাহানারা আরজু বলেন, যেকোনো পর্যায়ে দেশের জনগণকে উৎসাহ উদ্দীপনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও তিনি সবসময় একে অন্যের বিপদে এগিয়ে আশার জন্যও বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। যেমন, প্রধানমন্ত্রী বাড়িওয়ালাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, 'বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে আপনারা ছাড় দিন’। এছাড়াও বিদ্যুৎ বিলের ক্ষেত্রেও জনগণকে ছাড় দেয়ার জন্য বলেছিলেন৷ বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের মত এতোটা ধরাষ্ট্র না হয়েও দেশের সামর্থ্য অনুযায়ী যতটা সম্ভব প্রধানমন্ত্রী জনগণের পাশেই ছিলেন বিপদের মুহূর্তে। তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্বে সময়মতো সকল কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে করোনাকে সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়াও করোনা সংক্রমণের হারের উপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় করোনা সেন্টার স্থাপনেও সরকার পিছিয়ে ছিল না৷ প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ ভারসাম্যের সাথে করোনা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। এটি অবশ্যই প্রশংসনীয়।


বিবার্তা/রিয়াদ/রোমেল/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com