পদ্মা সেতু: বাঙালির জেগে ওঠার প্রতীক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২২, ১৮:০৬
পদ্মা সেতু: বাঙালির জেগে ওঠার প্রতীক
সোহেল আহমদ
প্রিন্ট অ-অ+

পদ্মা সেতু। বাংলাদেশের ইতিহােসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি সেতু বিভাগকে বুঝিয়ে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিামঞ্চলের মানুষের দুই যুগের অধরা স্বপ্নটি উদ্বোধন হয়েছে আজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাওয়া প্রান্তে উদ্বোধন করেন।


পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বপ্নের এ সেতু চালু হওয়ার পর দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার অন্তত দুই থেকে আড়াই শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি সেতুটি চালু হলে বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক চেহারা, ঘটবে কৃষি বিপ্লব, কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, শিল্পের কাঁচামাল এবং শিল্প পণ্য সামগ্রী সহজে স্থানান্তর, ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ে এবং রেলওয়ের সাথে ভবিষ্যৎ সংযোগ ঘটবে।


নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এ সেতুকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন রাজনীতিবিদরা। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে কোটি কোটি মানুষের দুই যুগ আগের স্বপ্ন আজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। নানামুখী ষড়যন্ত্রের পর দেশের ইতিহাসের বৃহৎ এ প্রকল্প শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার কারণে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।


এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বিবার্তাকে বলেন, বাংলাদেশের যুগান্তকারী সৃষ্টি হলো পদ্মা সেতু। সেতুটি আমাদের বাঙালি জাতির সক্ষমতার প্রতীক। সেতু নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আজকে পৃথিবীকে দেখিয়ে দিয়েছেন, আমরাও পারি। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না- আজ সেটি প্রমাণ করে দেখিয়েছেন তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা।


তিনি বলেন, প্রমত্তা পদ্মায় সেতু নির্মাণ হওয়ায় নদীর দুই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়বে, অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। এর পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠবে। এতে করে আমাদের অর্থনীতির ব্যাপক পরিবর্তন সাধন হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণের মতো অসাধ্য সাধনের কাজ করার জন্য জাতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রাখবে।


আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বিবার্তাকে বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের অহংকারের প্রতীক। পদ্মা সেতু বাঙালির জেগে ওঠার প্রতীক। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সাহসিকতায় এই অসামান্য কাজটি আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে সম্পন্ন হয়েছে। দেশের প্রতিটি মানুষ এই সেতুটির উদ্বোধনের দিন গুনছিলো। আজ তাদের স্বপ্ন পূরণের দিন।


তিনি বলেন, যারা ফেরি পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতেন, তারা জানেন পদ্মা সেতুর গুরুত্ব কতটুকু। যারা দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি দেখতে পারে না, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, স্বকীয়তা, মানুষের সমৃদ্ধি মেনে নিতে পারেন না- তারা বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালিয়েছিল যাতে করে এই সেতু নির্মিত না হয়। সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে দেশের মানুষের ওপর দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এটি বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি শুধু বর্তমান প্রজন্মের নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বাংলাদেশকে তৈরি করে যাচ্ছেন। তার একটি ধাপ হচ্ছে পদ্মা সেতু।


আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়র মো. আবদুস সবুর বিবার্তাকে বলেন, পৃথিবীর দ্বিতীয় খরস্রোতা নদী পদ্মা। নদীর ওপর দিয়ে যে শুধু ব্রিজ গেছে এমন না, নদীর নিচে সব জটিল কাজ হয়েছে। বিশেষ করে পাইলিংয়ে এ ধরণের কাজ অনেক দেশের ভাগ্যে জোটে না। এছাড়া স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে এই ধরনের জটিল কাজ আর হয়নি। এই দিক থেকে আমরা গর্ব করতে পারি।


তিনি বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের প্রকৌশলী জগতে নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে। আমাদের প্রকৌশলী এবং প্রযুক্তিবিদদের তাদের কর্মক্ষেত্রে চিন্তাধারায় নতুনত্ব নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সেতু করতে গিয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা করতে হয়েছে। আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দেখিয়েছে। পদ্মা সেতু ব্যবসার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সারা বিশ্বের কাছে অর্থনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশকে টেকনোলজিক্যাল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কূটনীতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছেন। পৃথিবীর বুকে আমরা আজ নতুন উচ্চতায় পা রাখলাম।


বিবার্তা/সোহেল/রোমেল/জেএইচ




সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com