চীনা প্রেসিডেন্টের আগমন
৫ মেগা প্রকল্পের প্রত্যাশা চট্টগ্রামবাসীর
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৬, ১৩:৩৩
৫ মেগা প্রকল্পের প্রত্যাশা চট্টগ্রামবাসীর
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান নিয়ামক শক্তি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিং আগামী ১৪ অক্টোবর দুদিনের জন্য বাংলাদেশ সফরে আসবেন তিনি। তার এ সফরকে চট্টগ্রামবাসী পাঁচটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তারা আশা করছেন, চীনা প্রেসিডেন্টের আসন্ন এই সফরেই চট্টগ্রামকেন্দ্রিক প্রস্তাবিত পাঁচটি মেগা প্রকল্পের ব্যাপারে চুক্তি হবে।


এর আগে ১৯৮৬ সালে চীনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লি শিয়াননিয়ান বাংলাদেশ সফর করেন। শি জিং পিং এর এই সফর দু‘দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক গভীর করার পাশাপাশি বাংলাদেশ তথা চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ১০০ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশ সফরে আসছেন। বাংলাদেশ এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বসহ দেখছে কারণ এ সময়ে কয়েক বিলিয়ন ডলারের কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা আছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক পাঁচটি মেগা প্রকল্পও রয়েছে।


চীনের কাছ থেকে বড় বড় প্রকল্পে বহুমুখী বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য সরকার ইতিমধ্যে ২৫টি বড় প্রকল্প বাছাই করেছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীকে কেন্দ্র করে চীনের বড় ধরনের বিনিয়োগ আকর্ষণে আগ্রহী বাংলাদেশ। চট্টগ্রামকেন্দ্রিক ৫টি বড় প্রকল্পের মধ্যে কর্ণফুলী নদীর ওপর একটি টানেল নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই টানেলের পাশে একটি স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার প্রকল্পও রয়েছে। কর্ণফুলী নদীর তীরে চীনের বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও গড়ে তোলা হবে। এখানে চীনের বিনিয়োগকারীরা বড় শিল্প গড়ে তুলতে পারবেন। চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার আরও একটি এক্সপ্রেস রেল লাইন নির্মাণের একটি প্রকল্পও হাতে নিচ্ছে সরকার। এর মাধ্যমে দ্রুত গতির ট্রেন চালানো হবে। এতে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের যাতায়াতের দূরত্ব আরও কমে যাবে। এছাড়া রয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৩০০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও উপকূল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের কক্সবাজার থেকে শাপলাপুর পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। বাকিটুকু নির্মাণের প্রকল্প চলমান রয়েছে।



চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী এলাকায় (টানেলের কাছাকাছি) বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য চীনা বিনিয়োগকে বলা হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা বৃহৎ বিদেশি আর্থিক প্রণোদনা। সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজটি চীনকে দেয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে এটি নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে ভারত। চট্টগ্রামের এসব মেগা প্রকল্প এখন চীনা প্রেসিডেন্টের অপেক্ষায়।


জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিতব্য দেশের প্রথম এ টানেলটি যৌথভাবে উদ্বোধন করবেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও চীনা প্রেসিডেন্ট। কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের পাশাপাশি একই দিন উদ্বোধন হবে আরেক স্বপ্নের প্রকল্প ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’। জি টু জি পদ্ধতিতে আনোয়ারায় ৭৭৪ একর জমিতে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে ১৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চায় চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। এতে ৩৭১ শিল্প-কারখানায় কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে ৫৩ হাজারের বেশি মানুষের। এই দুই প্রকল্পের মাধ্যমে আনোয়ারা-কর্ণফুলী এলাকা ঘিরে শিল্পায়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। টানেল ও বিশেষ শিল্পাঞ্চল পাল্টে দেবে পুরো এলাকার চেহারা। টানেল উদ্বোধনের দৃশ্য টেলিভিশনের মাধ্যমে সরাসরি দেখার সুযোগ পাবে দুই দেশের সাধারণ মানুষ। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি দুই দেশের সাধারণ জনগণের কাছেই একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে। যা দীর্ঘ মেয়াদে দুই দেশের জনগণকে আরও বন্ধুসুলভ করে তুলবে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আনোয়ারার চীনা শিল্পাঞ্চলটিতে চীনের শতভাগ বিনিয়োগ থাকবে। সেখানে সরকারের ৩০ শতাংশ আর চীনা বিনিয়োগকারীদের ৭০ শতাংশ অংশীদারিত্ব থাকবে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে তৈরি পোশাক, রাসায়নিক, ফার্মাসিউটিক্যালস, টেলিযোগাযোগ, কৃষিনির্ভর শিল্প কারখানা, যন্ত্রপাতি, ইলেক্ট্রনিকস, টেলিভিশন, মনিটর,চিকিৎসা ও অপারেশনের যন্ত্র, প্লাস্টিক, আইটি ও আইটি সম্পর্কিত কারখানা গড়ে উঠবে। জানা যায়, এই প্রকল্পে ২৯১ একর খাসজমি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। আরও ৪৮৪ একর জমি অধিগ্রহণের কাজও প্রায় শেষ। অধিগ্রহণের জন্য ৪২০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।


জানা গেছে, চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের সময় দুই দেশ ২৫টির মতো চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করেছে।শি জিনপিং আগামী শুক্রবার সকালে কম্বোডিয়া থেকে বাংলাদেশ সফরে আসছেন। পরদিন সকালে তিনি ঢাকা থেকে ভারতের গোয়ায় যাবেন।


দুই দিনের বাংলাদেশ সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট তাঁর দেশের ২৪ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন স্টেট কাউন্সিলর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনের কোনো প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরকে ইতিমধ্যে ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ফলে এ সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘোষণা আসছে। পাশাপাশি শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে সম্পর্কটা নতুন একটি স্তরে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।


এ সফরে চীনের পক্ষ থেকে কী পরিমাণ আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে, সে সম্পর্কে এখনই মুখ খুলতে রাজি নন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে শেষ পর্যন্ত আর্থিক ঘোষণার পরিমাণ ‘চমকে দেয়ার মতো’হতে পারে বলে তাঁরা আভাস দিয়েছেন।


বিবার্তা/জিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com