যে কারণে যশোর বোর্ড দেশসেরা
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৬, ১৬:১১
যে কারণে যশোর বোর্ড দেশসেরা
এইচ আর তুহিন, যশোর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী হওয়া, মূল বই পাঠ ও অনুসরণ, গতবারের ফল বিপর্যয় থেকে শিক্ষাগ্রহণ ও শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষের নানা পদক্ষেপের কারণে এবার এইচএসসিতে যশোর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল ভালো হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় গতবছর সবার চেয়ে পিছিয়ে ছিল যশোর বোর্ড।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাধবচন্দ্র রুদ্র জানান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি নানা কর্মসূচি নেয়ায় এবার যশোর বোর্ড শীর্ষে উঠে এসেছে। গত বছর যশোর শিক্ষাবোর্ডের ফল বিপর্যয়ের বিষয়টি তারা গুরুত্বসহকারে নেন। এরপর বোর্ড কর্তৃপক্ষ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে। সেখানে অষ্টম, দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
এতে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করার জন্য প্রভাবিত হয়েছে বলেই এবার জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসির ফলাফল বেশ ভালো হয়েছে। এছাড়া শিক্ষক এবং অভিভাবক সমাবেশও কাজে দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একটি বড় কারণ ভালো ফলাফলের। হরতাল-অবরোধ না থাকায় এক নাগাড়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিক টেনশন পোহাতে হয়নি। পরীক্ষা বন্ধ হলে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। এবার তা হয়নি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবার পরীক্ষায় প্রশ্ন খারাপ হয়নি, যাতে ফলাফলে ধস নামে। এমন কোনো কঠিন প্রশ্নও হয়নি যাতে ফেলের হার বাড়ে।
যশোর বোর্ডের অধীন চলতি বছর অংশগ্রহণকারী ৫৬১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩টিতে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। আর একমাত্র কুষ্টিয়ার বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিব মহিলা কলেজ থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাশ করেনি। এই প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচজন পরীক্ষা দিয়েছিল।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাধবচন্দ্র রুদ্র বলেন, পাস না করা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমপিও বাতিলসহ অনুমোদন বাতিলের ব্যবস্থা করা হবে।
চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার দেশসেরা ফলাফল হয়েছে যশোর বোর্ডের। এ বোর্ডে পাশের হার ৮৩ দশমিক ৪২। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে চার হাজার ৫৮৬ জন। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাশের হার প্রায় দ্বিগুণ। একইসঙ্গে জিপিএ-৫’র সংখ্যাও বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। গত বছর পাশের হার ছিল ৪৬ দশমিক ৪৯। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৯২৭ জন।
চলতি বছর যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এক লাখ ৩০ হাজার ৫৭২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৬৯ হাজার ৩৩৩ জন ছাত্র ও ছাত্রী ৬১ হাজার ২৩৯ জন। ২১১টি পরীক্ষা কেন্দ্রে খুলনা বিভাগের দশ জেলার ৫৬১টি কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়।
বিবার্তা/তুহিন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com