ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৪৪
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধে আঘাত করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার সবসময় সতর্ক রয়েছে।


বুধবার (২৯ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির (জাপা) মসিউর রহমান রাঙ্গার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।


স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন।


রাঙ্গা তার প্রশ্নে ঢাকার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মেয়েদের ওড়না পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এমন দাবি করে এর বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওই অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্তে কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।মেয়েদের ওড়না পরা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।’


এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, স্বার্বভৌম ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র।বর্তমান সরকার ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্য সব ধর্মের চেতনা ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর।’


জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসকে তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরে আসন্ন মুজিব বর্ষে জাতিকে উজ্জীবিত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধাদের বলবো যে, বর্তমান যুগের শিশু-কিশোর,যুবকদের এই মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে যে যেখানে আছেন, তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, কাহিনী শোনান। যেভাবে তারা যুদ্ধ করেছেন সেই যুদ্ধের গল্প তাদের কাছে বলুন।’


তিনি বলেন, ‘তারাও যেন একটা দৃঢ়চেতা মনবল নিয়ে গড়ে উঠতে পারে। দেশকে ভালবাসতে পারে। দেশ গড়ে তুলতে পারে’।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর পরই যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের মুক্তিযোদ্ধা পদক দেয়া হয়েছে। তাছাড়া তিনি যখন ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করেন তখনও অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেট দেন। যারমধ্যে প্রায় ৭০ হাজার সার্টিফিকেট নিজে স্বাক্ষর করে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।


তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্য হলো পরবর্তীতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে সেগুলোকে বাতিল ঘোষণা করে। কিন্তু অনেকেই সেটা রেখেছিলেন, যেটা এখনও কাজে আসে।’


শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতির জন্য তাদের বিভিন্ন সম্মাননা পদক আমরা দিয়েছি এবং তাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছি। অথচ ’৭৫ এ জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর এমন দিনও এসেছিল যে, কেউ নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিতেই ভীত সন্ত্রস্থ ছিল। এখন আর সেটা নেই।


তিনি বলেন, ‘এখন গর্বকরে সবাই বলতে পারে যে, আমরা মুক্তিযোদ্ধা।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময়ের তরুণ সমাজ জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। কাজেই তাদের যথাযথ সম্মান আমরা ফিরিয়ে দিয়েছি।


তিনি বলেন,‘কাজেই এ সম্মানটাইতো সবচেয়ে বড় পদক। এরচেয়ে বড় পদক আর কি হতে পারে। যে মর্যাদাটা আমরা দিয়েছি সেটাইতো বড় পদক।’


বিবার্তা/জাই

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com