‘আমার হাতে গড়া ছাত্রনেতাদের চলে যাওয়া খুবই দুঃখজনক’
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ২২:২৪
‘আমার হাতে গড়া ছাত্রনেতাদের চলে যাওয়া খুবই দুঃখজনক’
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, ছাত্রনেতাদের যেখানে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেয়ার কথা, সেখানে তারাই একে একে বিদায় নিচ্ছে। আমার হাতে গড়া ছাত্রনেতাদের এভাবে বিদায় নেয়াটা সত্যিই দুঃখজনক।


রবিবার (১৯ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।


অতীতের স্মৃতিচারণ করে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পর মান্নানকে ছাত্রনেতা হিসেবে পেয়েছিলাম। ১৯৮৩ সালে তাকে ছাত্রলীগের সভাপতি করি। তখন ছাত্রলীগের খুব দুঃসময় ছিলো। অনেকেই ছাত্রলীগ ছেড়ে চলে গিয়েছিলো। সে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলো। তাই পরবর্তীতে তাকে আওয়ামী লীগে নিয়ে আসি। সে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলো। বগুড়ার মত জায়গা ওকে নমিনেশন দিলাম। মান্নান সেখানে থেকে জিতে আসলো। পর পর তিনবার সেখান থেকে সংসদ সদস্য।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, মৃত্যুর দুইদিন আগে আমার সঙ্গে অনেক কথা বললো। আমাদের সেন্ট্রাল কমিটিতে নানক আসলেও সে আসতে পারেনি। বোধহয় মনে একটু দুঃখ ছিল। আমি বললাম, আমি তো তোমাদের কাউকে ফেলে দেইনি। তুমি আওয়ামী লীগে ছিলে এবং তোমাকে আমি নমিনেশন দিয়েছি, সংসদ সদস্য হয়েছো। কথা বলার সময় বুঝলাম তার শরীরটা একটু খারাপ। আমি ওকে বললাম তোমার শরীর মনে হয় ভালো না, তুমি একটু ভালোভাবে চিকিৎসা কর এবং চেকআপ করো। ঠিক তারপরই হাসপাতালে ভর্তি। পরদিন খবরটি পেলাম। এভাবে পরপর তিনজন সংসদ সদস্য আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। এটা খুবই কষ্টের।


শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু বলেন, আবদুল মান্নানের অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে তিনি বৈরী অবস্থায় দক্ষতার সঙ্গে সারাদেশে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।


আরেক প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২০০৬ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠিয়েছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে তার সঙ্গে সম্পর্ক, অসম্ভব স্নেহ ও ভালোবাসতাম। সামরিক শাসনবিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে রাজপথে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন তিনি।


বিরোধী দলের চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, রাজনৈতিক জীবনে কোনো খবরদারী নয়, মানুষকে ভালবেসে তাদের হৃদয় জয় করতেন প্রয়াত আবদুল মান্নান। চরম বৈরী এলাকা বগুড়াতেও অসম্ভব জনপ্রিয় নেতা ছিলেন তিনি। মেধাবী, সাহসী ও সুবক্তা হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পদচারণা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।


সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, অনেকে তাকে শক্ত মানুষ ভাবলেও কোনোদিন রাগান্বিত হয়ে কথা বলতে দেখিনি। আবদুল মান্নানের অসম্ভব সাংগঠনিক শক্তি ছিল। সাংগঠনিক শক্তি দিয়েই নিজের এলাকাকে আওয়ামী লীগের দুর্গ বানিয়েছেন।


গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, গতানুগতিক নয়, আমৃত্যু আদর্শবাদী ও পরিপূর্ণ রাজনৈতিক সৃজনশীলতা ছিল প্রয়াত আবদুল মান্নানের মধ্যে। তিনি বিরোধী দলকে সমালোচনা করে বক্তব্য রাখতেন, কিন্তু তার মধ্যে ছিল মার্জিত ও সভ্যতার নিদর্শন। দেশাত্মবোধ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, শেখ হাসিনার নেতৃত্ব থেকে আমৃত্যু তিনি ছিলেন অবিচল।


গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ বলেন, ’৭৫ পরবর্তী চরম দুঃসময়ে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে বলিষ্ট ভূমিকা রেখেছেন প্রয়াত আবদুল মান্নান। সারাদেশ ঘুরে বেরিয়ে ছাত্রলীগকে শক্তিশালী করে স্বৈরাচারি জিয়া-এরশাদ বিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করেছেন।


আলোচনা শেষে শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। পরে প্রয়াত সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর চলতি সংসদের সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশনের সকল কার্যক্রম স্থগিত রেখে সোমবার বিকাল সোয়া চারটা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার।


বিবার্তা/এসএ/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com