মৃত্যুর আগে ঘাতকদের নাম বলে গেছেন সাংবাদিক সুবর্ণা
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০১৮, ১৬:১০
মৃত্যুর আগে ঘাতকদের নাম বলে গেছেন সাংবাদিক সুবর্ণা
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

পাবনার সাংবাদিক সুবর্ণা নদী তাঁর ওপর কারা হামলা চালিয়েছে তা মৃত্যুর আগে তাঁর মা-কে বলে গেছেন। থানায় দায়ের করা হত্যামামলায় তাঁর সাবেক স্বামী ও শ্বশুরসহ ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ সাবেক শ্বশুরকে আটক করলেও অন্য কাউকে ধরতে পারেনি।


বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘আনন্দ টিভি'র পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা নদীকে মঙ্গলবার রাতে তাঁর বাসার সামনেই দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে আহত করে। হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান।


এ ঘটনায় বুধবার থানায় দায়ের করা হত্যামামলায় নদীর মা মর্জিনা বেগম নিহত সুবর্ণার সাবেক স্বামী রাজিব হোসেন, শ্বশুর আবুল হোসেন ও রাজিবের সহকারী মিলনসহ আরো ৬-৭ জনকে আসামি করেছেন।


মর্জিনা বেগম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কুপিয়ে আহত করার পর সুবর্ণার কিছুক্ষণ জ্ঞান ছিল। তখন সে আমাকে বলে, ‘রাজিব ও তার সহকারী মিলনসহ কয়েকজন আমাকে কুপিয়েছে।' এরপরই সে অজ্ঞান হয়ে যায়। হাসপাতালে নেয়ার পর সে মারা যায়।'


তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘রাজিব ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করায় তারা আমার মেয়েকে হত্যা করেছে।''


যৌতুকের মামলায় মঙ্গলবার আদালতে সুবর্ণার বড় বোন চম্পার স্বাক্ষ্য ছিল। চম্পা ও সুবর্ণা দু'জনই আদালতে যান। মর্জিনা বেগম জানান, ‘‘আদালতে রাজিবের বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দেয়ায় রাজিব সেখানেই তাদের হুমকি দেয়। এ নিয়ে বাক-বিতন্ডা হয় এবং হামলারও চেষ্টা করে। আদালত থেকে বের হওয়ার পরও রাজিব ও তার সহযোগীরা তাদের অনুসরণ করে। তারা এমনকি সুবর্ণার অফিসেও যায়। তবে সেখানে সাংবাদিকরা থাকায় তারা সেখান থেকে চলে যায়।''


তিনি বলেন, ‘‘রাত পৌণে ১০টার দিকে সুবর্ণা বাসার গেট পর্যন্ত আসার পরই তার ওপর হামলা করে। আমরা কলিংবেলেরও শব্দ পাই। ওই সময় রাস্তায় বিদ্যুৎ ছিল না। গেট খুলে বাড়ির আলোতে রক্তাক্ত সুবর্ণাকে পড়ে থাকতে দেখি। এরপর হাসপাতালে নিয়ে যাই।''


সুবর্ণার মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে পাবনা সদর হাসপাতালে। এতে তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্রের ৬টি আঘাত পাওয়া গেছে। আঘাতে তাঁর মাথা, পেট ও হাতে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। একটি আঙুলও কেটে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সুবর্ণা হাত দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন।


পাবনা সদর থানার ওসি ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘‘মামলার এজাহারে হত্যাকাণ্ডের কারণ বলা হয়েছে। আমরা এরইমধ্যে সুবর্ণার সাবেক শ্বশুর আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।''


তিনি আরো বলেন, ''কোনো আসামিকেই ছাড় দেয়া হবে না, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এজাহারে যৌতুকের মামলাকে হত্যার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আরো কোনো কারণ আছে কিনা তা-ও তদন্ত করে দেখছি।''


সুবর্ণার সহকর্মীরা জানান, আদালত থেকে ফেরার পর রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সুবর্ণা তার হামিদ রোডের অফিসেই কাজ করেন। প্রেসক্লাবও তাঁর অফিসের কাছে। সেখান থেকে তাঁদের রাধানগর মহল্লার বাসায় হেঁটে যেতে ৮-১০ মিনিট লাগে। তিনি হেঁটে বাসায় যাওয়ার সময় প্রেসক্লাব গলিতে তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গেও দেখা হয়।


সুবর্ণার সঙ্গে গত বছর পাবনার শিল্পপতি আবুল হোসেনের ছেলে রাজিব হোসেনের বিয়ে হয়, তবে ওই বছরই সেই বিয়ে ভেঙ্গে যায়। সুবর্ণার আগের ঘরের সাত বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে। সুবর্ণারা দুই বোন। সূত্র ডয়চে ভেলে


বিবার্তা/হুমায়ুন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com