যেভাবে করোনামুক্ত হলেন সাংবাদিক শফিকুল
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২০, ১৮:১৫
যেভাবে করোনামুক্ত হলেন সাংবাদিক শফিকুল
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

ডেল্টা টাইমসের চিফ রিপোর্টার মো.শফিকুল ইসলাম করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মুক্ত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) বিএসএমএমইউ হাসপাতালের ফেভার ক্লিনিকে দ্বিতীয়বার নমুনা পরীক্ষায় তার কোভিড-১৯ রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন আক্রান্ত হচ্ছে। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিদিন করোনা সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে বাইরে বের হতে হয় সাংবাদিকদের। করোনাকালীন তার পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন এই করোনাযোদ্ধা। নেগেটিভ আসায় এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ। আত্মবিশ্বাস থাকলে ঘরে থেকেও করোনা মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।


সৃষ্টিকর্তার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি একজন গণমাধ্যমকর্মী। ভাইরাসটি কিভাবে আমার শরীরে সংক্রমিত হলো তা আমি বলতে পারবো না। যে কোনো জায়গা থেকেই হতে পারে। এই ভাইরাসটি একেক জনের শরীরে একেক রকমভাবে প্রভাব ফেলে। আমার শরীরে সামান্য জ্বর জ্বর ভাব থাকলে সেটা স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে বেশি ছিল না। হালকা মাথা ব্যথার পাশাপাশি প্রচণ্ড কাশি ছিল।


সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম তার করোনা জয়ী হওয়ার গল্প বলতে গিয়ে বলেন, ভয় পেয়ে মানসিক দুর্বলতা সৃষ্টি হলে ভাইরাস আমার সাথে পেরে যাবে। সেই কথা আমি আগেই জানতাম। সেজন্য আমি সব সময় মনোবল শক্ত রেখেছি। আমি কোনোভাবেই দুর্বল হইনি। আসলে আত্মবিশ্বাস থাকলে ঘরে বসেই করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আমি গত ২০ দিন ঘরে থেকে করোনার সাথে যুদ্ধ করেছি। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চলেছি। চিকিৎসা নিয়েছি।


তিনি বলেন, এখানে বিশেষ করে বলা উচিত আমার স্ত্রী ২৪ ঘণ্টা আমার পাশে থেকে আমার সেবা করেছেন। কোনো অবহেলা করেননি। ভয়ও পাননি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সে আমার সেবা করেছে। আমাকে সাহস দিয়েছে। আমার এত পাশে থেকেও করোনায় আক্রান্ত হননি।


শফিকুল ইসলাম বলেন, করোনাকালীন তিনি হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করেছেন। প্রচুর গরম পানি পান করেছি। আর প্রতিদিন গরম পানির ভাপ নিয়েছি কয়েকবার। গরম পানি পান করায় প্রচণ্ড কাশির ফলে গলা সামান্য ব্যথা থাকায় কিছুটা শান্তিও পেয়েছি। মালটা আর লেবুর শরবত খাওয়া হয়েছে অনেক বেশি। আদা, এলাচ, হলুদ, তেজপাতা আর দারুচিনি গরম পানিতে জ্বাল দিয়ে ভাপ নিয়েছি পরে চা হিসেবে খেয়েছি। সকাল-বিকেল রুমের মধ্যে হালকা ব্যায়াম করেছি। অন্যদিকে আমার স্ত্রী জবেদা খাতুন গত ২০ দিন অনেকটা নির্ঘুম রাত কাটিয়ে মুখে মাস্ক পড়ে যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রেখে আমার সেবা করেছেন।


তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, মনোবল হারাবেন না। করোনায় আক্রান্ত হলেই মৃত্যু বিষয়টি এমন নয় বরং সেলফ মোটিভিশন এবং ইমিউন সিস্টেম বুস্ট আপ করে করোনা জয় করা যায়।


এদিকে দৈনিক ডেল্টা টাইমসের সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী সম্পাদক মো আমিনুর, ম্যানেজার জাহিদ হাসানসহ অন্যান্য কলিগ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং বিএসএমএমইউ, স্বাস্থ্য অধিদফতর, আইইডিসিআর, সহকর্মী সাংবাদিক, অভিভাবকতুল্য সিনিয়র সাংবাদিক ভাইয়েরা, দেশ বিদেশে অবস্থানকারী আত্মীয় স্বজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইল ফোনে প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর রেখে সাহস দিয়েছেন যা তার মনোবল ধরে রাখতে কাজে দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অপরদিকে, তার নেগেটিভ আসার খবর পেয়ে ডেল্টা টাইমসের কর্মীরাও সৃষ্টিকর্তার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।


প্রসঙ্গত, ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সাবেক রেজিস্ট্রার সিনিয়র মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. আশরাফুজ্জামান রিপন এবং স্বাস্থ্য বাতায়নের মেডিকেল অফিসার ডা. নুসরাত জাহান উর্মির পরামর্শে থাকার পর দ্বিতীয় দফায় কোভিড-১৯ পরীক্ষায় ফলাফল নেগেটিভ আসে।


উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন নমুনা পরীক্ষায় তার কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে। তার আগে গত ৮ জুন প্রাথমিকভাবে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে ওইদিন থেকে তিনি নিজ বাসায় আইসোলেশনে যান।


বিবার্তা/খলিল/জাহিদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com