কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী আজ
প্রকাশ : ২৫ মে ২০১৮, ১২:৪৭
কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী আজ
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী। দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজনের মধ্যদিয়ে দিনটি পালন করবে।


রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটায় কবির স্মৃতি বিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কবির জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন।


দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।


দ্রোহ, প্রেম, সাম্য, মানবতা ও শোষিত বঞ্চিত মানুষের মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মূলত তিনি বিদ্রোহী। কবির প্রেমিক রূপটিও প্রবাদপ্রতিম। কবি বলেছেন, ‘আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন খুঁজি তারে আমি আয়নায়।’ পৃথিবীতে এমন কজন আছেন যিনি প্রেমের টানে রক্তের সর্ম্পকে অস্বীকার করে পথে বেরিয়ে পড়তে পারেন।


বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে কবি কাজী নজরুল ইসলাম জন্মেছিলেন। তাঁর ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।


বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তার কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল।


কাজী নজরুল ইসলাম অসাম্প্রদায়িক ও শোষণমুক্ত দেশ ও সমাজ গড়ার মানসে সাহিত্যে বিভিন্ন শাখায় লেখালেখি করেন। এ সব ক্ষেত্রে তিনি সংগ্রামী ও পথিকৃৎ লেখক। তাঁর লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস।


বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্বপরিবারে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ধানমন্ডিতে কবির বসবাসের জন্য একটি বাড়ি প্রদান করেন তিনি। সেই বাড়িটিই এখন নজরুল ইনিস্টিটিউট।



শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কবির পরিবারের সদস্যরা। এরপর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি পালন শুরু হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।


দেশ-ভাষার মতো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামও অমর হয়ে থাকবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কবির পুত্রবধূ উমা কাজী। তিনি বলেন, কবি নজরুল তরুণদের মধ্যে বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন। এ দেশ-ভাষা যতদিন থাকবে কবিও ততদিন অমর হয়ে থাকবেন।


জন্মবার্ষিকীতে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবির পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


উমা কাজী বলেন, কবি নজরুল কবিতা-গানে দেশের কথা বলেছেন, সাম্যের কথা বলেছেন। কবিকে জানতে হলে কবির কবিতাকে জানতে হবে, কবির লেখা পড়তে হবে। বিভিন্ন ভাষায় কবির লেখাকে ছড়িয়ে দিতে হবে।


বাংলা একাডেমি দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা ও কবির সামধিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, নজরুল একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালনের মধ্যদিয়ে দিবসটি পালন করবে।


বিবার্তা/নুর

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com