পল্লীকবির মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৮, ১৬:৪৬
পল্লীকবির মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

পল্লীকবি জসীম উদদীনের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী ১৪ মার্চ, বুধবার।


বাংলা কবিতায় যখন একদিকে রবীন্দ্র-নজরুলের প্রবল প্রতাপ, আর অন্যদিকে সেই প্রতাপকে অস্বীকার করে ভিন্ন স্রোতের যাত্রী ''তিরিশের কবি'' নামে খ্যাত একদল আধুনিক, তখন উভয় ধারার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা চারিত্র্যের কবিতা নিয়ে সাহিত্যের অঙ্গনে হাজির হন কবি জসীম উদদীন।


তাঁর এ উজ্জ্বল ও ব্যতিক্রমী উপস্থিতি অনেককে চমকে দেয়। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও জসীম উদদীনের কবিসত্ত্বাকে স্বীকার করতে কুণ্ঠিত হননি।


তখন অবশ্য অনেকে জসীম উদদীনকে কবি বলে মেনে নিতে চাইতেন না। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই অপপ্রবণতা অনেকাংশে কেটে গেছে বলেই প্রতীয়মান হয় জসীম উদদীনকে নিয়ে একশ্রেণীর নাকউঁচু কাগজে ততোধিক নাকউঁচু সমালোচকদের লেখা দেখে। অবশ্য প্রবণতাটি যে একেবারে মুছে যায়নি তা বোঝা যায় বুধবারের জাতীয় পত্রপত্রিকা দেখে। এসব পত্রিকার বেশিরভাগই এদিন এ মহান কবি'র মৃত্যুবার্ষিকীর খবরটি ছাপায়নি।


জসীম উদ্‌দীন ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার বাড়ি ছিল একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। বাবার নাম আনসার উদ্দিন মোল্লা। তিনি পেশায় একজন স্কুলশিক্ষক ছিলেন। মা আমিনা খাতুন ওরফে রাঙাছুটু।


জসীম উদদীন ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার স্কুল ও পরবর্তীতে ফরিদপুর জেলা স্কুল (বর্তমানে ফরিদপুর জিলা স্কুল) পড়ালেখা করেন। এখান থেকে তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় ১৯২১ সনে উত্তীর্ণ হন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা থেকে বি. এ. এবং এম. এ. শেষ করেন যথাক্রমে ১৯২৯ এবং ১৯৩১ সনে।


১৯৩১ থেকে ১৯৩৭ পর্যন্ত দীনেশচন্দ্র সেনের সাথে লোকসাহিত্য সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করেন জসীম উদদীন। তিনি পূর্ববঙ্গ গীতিকার একজন সংগ্রাহকও। তিনি ১০,০০০ এরও বেশি লোক সংগীত সংগ্রহ করেছেন, যার কিছু অংশ তার সংগীত সংকলন জারি গান এবং মুর্শিদা গান এ স্থান পেয়েছে। তিনি বাংলা লোক সাহিত্যের বিশদ ব্যাখ্যা এবং দর্শন খণ্ড আকারেও লিখে গেছেন।


১৯৩৩ সনে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. দীনেশচন্দ্র সেনের অধীনে রামতনু লাহিড়ী গবেষণা সহকারী পদে যোগ দেন। ১৯৩৮ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৪৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে এবং তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগে যোগ দেন। ১৯৬২ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করে গেছেন। ১৯৬৯ সনে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মান সূচক ডি লিট উপাধিতে ভূষিত করে।


কবি জসীম উদদীন ১৩ মার্চ ১৯৭৬ সনে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুসারে তাঁকে ফরিদপুর জেলার আম্বিকাপুর গ্রামে তাঁর দাদীর কবরের পাশে দাফন করা হয়। গোবিন্দপুরে প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে তার জন্মদিনকে স্মরণ করে জসীম মেলা নামে একটি পাক্ষিক উৎসব উদযাপন করা হয়। তার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলের নামকরণ করা হয়েছে।


জসীম উদদীন একদম অল্প বয়স থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। কলেজে অধ্যয়নরত থাকা অবস্থায় তিনি বিখ্যাত কবর কবিতাটি লিখেন। কবি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাবস্থায় এটি প্রবেশিকার বাংলা পাঠ্যবইয়ে স্থান পায়।


গাঁয়ের লোকের দৃষ্টিতে গ্রামজীবন এবং পরিবেশ-প্রকৃতি ফুটিয়ে তোলার জন্য জসীম উদদীন বিশেষভাবে পরিচিত। তার কাব্যের গঠনপ্রণালী এবং বিষয়বস্তু পাঠককে বাংলা লোক সাহিত্যের প্রগাঢ় আস্বাদন এনে দেয়। তার রচিত নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থকে তার শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং পৃথিবীর অনেক ভাষায় এটি অনূদিত হয়েছে। এছাড়া সোজন বাদিয়ার ঘাট তাঁর আরেকটি অমর কাব্য।


বিবার্তা/হুমায়ুন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com