বই মেলায় শিশুপ্রহর যেন শিশুরাজ্য!
প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:৪৭
বই মেলায় শিশুপ্রহর যেন শিশুরাজ্য!
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

অমর একুশে গ্রন্থমেলার ৩য় দিনে দেখা যায় ‘শিশুপ্রহর’ যেন শিশুদের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। শিশু ও তাদের অভিভাবকদের স্বাচ্ছন্দ্যে বই কেনার সুবিধার্থে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রতিবছরের ন্যায় এবারো প্রতি শুক্র ও শনিবারকে শিশুপ্রহর হিসেবে ঘোষণা করেছে বাংলা একাডেমি।


পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, শনিবার সকাল এগারোটা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত ছিল ‘শিশুপ্রহর’। সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশ গেটে শিশু-কিশোরদের ভিড় দেখা যায়। কেউবা বাবা-মায়ের হাত ধরে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে আবার কেউবা শিক্ষকদের সঙ্গে এসেছে প্রাণের মেলায়। সকাল থেকেই ক্ষুদেদের প্রাণের কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণ।



মেলায় প্রবেশ করেই শিশুরা তাদের বাবা-মাকে এই বই কিনে দাও, সিসিমপুরে নিয়ে যাও, কমিকস নিবো- এ ধরনের আরো নানা রকম বায়না করতে দেখা যায়।


অমর একুশে গ্রন্থমেলা ঘুরে দেখা গেছে, মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ছোটদের মজার মজার সব বইয়ের স্টল এবং বিনোদন কেন্দ্র নিয়ে সাজানো হয়েছে শিশু চত্বর। শিশু চত্বরে প্রবেশ করে মনে হয়েছে এ যেন কোনো শিশুরাজ্য! যেখানে শিশু-কিশোরদের রাজত্ব। এখানে রয়েছে শিশু-কিশোরদের সায়েন্স ফিকশন, ভূতের গল্প, কৌতুক এবং ছড়াসহ নানা ধরণের সব বই।


নারায়নগঞ্জ থেকে একমাত্র ছেলে রাসেলকে নিয়ে মেলায় এসেছেন আদনান-আরিফা দম্পত্তি। জানতে চাইলে তারা বিবার্তাকে বলেন, মেলার প্রথম দিন থেকেই রাসেলের আবদার মেলায় আসবে। তাই আজ ছুটির দিনে ওকে নিয়ে মেলায় আসা। মেলা থেকে রাসেলের জন্য বেশকিছু বই কিনেছেন তারা। যার মধ্যে রয়েছে- ক্যাম্পাসের ভূত, ক্ষুদে বিজ্ঞানী তাপু।


শিশু চত্তরে দেখা মিলল আজিমপুর শিশু বিকাশ কেন্দ্রের একঝাঁক শিক্ষার্থীর সঙ্গে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাদেরকে মেলায় নিয়ে আসা হয়েছে। জানতে চাইলে শিক্ষার্থী বৃষ্টি ও মারিয়া বলে, অনেক ভালো লাগছে। অনেকগুলো পছন্দের বইয়ের তালিকা নিয়ে এসেছি। মেলা ঘুরে দেখবো এবং এগুলো কিনবো।


সাভারের একটি স্কুলের শিক্ষিকা জাহিদা বেগম তার স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মেলায় এসেছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেলায় আসলে বাচ্চাদের বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। তারা বিভিন্ন লেখকের বই সম্পর্কে জানতে পারে। সবার উচিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বইমেলায় আসা।


শিশু চত্বরের শিশুরাজ্য স্টলে দেখা গেল কচিকাঁচাদের উপচে পড়া ভিড়। স্টলটিতে রনজিৎ সরকারের ‘ছোটদের মুক্তিযুদ্ধের অজানা গল্প’ ও ‘সুস্মিতা নিয়মিত স্কুলে যায়’ নামক দুটি বই এসেছে।



শিশু-কিশোরদের বাড়তি আনন্দ যুগিয়েছে সিসিমপুর স্টল। যেখানে বাচ্চাদের জন্য আকর্ষণীয় সব মজার মজার বই সাজানো রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে হালুমের গ্রামে যাওয়া, টুনটুনি যখন বড় হবে, ঠাকুরমার ঝুঁলি, সিসিমপুরে দাদা ভাই আর আমি টুনটুনি, মিতু একদিন সিসিমপুরেসহ নানা ধরণের সব বই। এছাড়া বাংলা একাডেমির শিশু-কিশোর প্রকাশনা, ছোটদের বন্ধু ঝিঙেফুল, কিশোর ভূবন, শিশুবেলা, শিশুঘর প্রকাশনী, টোনাটুনিসহ ছোটদের বইয়ের অনেকগুলো স্টল রয়েছে।


শিশু চত্বরে সিসিমপুর স্টলের সামনেই বটতলাকে নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে। যেখানে শিশুরা হইহুল্লোড় আর খেলাধুলায় মেতেছে।


মায়ের সঙ্গে বইমেলায় এসেছে ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী সাইফুর রহমান। সাইফুরের পছন্দ ভূতের বই। এছাড়া সাইন্স ফিকশনের বইও পছন্দ তার। সাইফুল বিবার্তাকে বলেন, সে প্রায়ই বইমেলায় আসে। এবারের মেলায় অনেকগুলো বই কিনবে সে।


উল্লেখ্য, প্রতি সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের জন্য ‘শিশুপ্রহর’ বিদ্যমান থাকবে।


বিবার্তা/রাসেল/সোহান

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com