লবডঙ্কা
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২২, ১২:০৩
লবডঙ্কা
ডাবলু লস্কার
প্রিন্ট অ-অ+

: নাম কী?
: স্যার জগাই
: কোন গাই?
: স্যার জগাই ঘরামি
: জগাই হারামি?
: জগাই ঘরামি স্যার
: এই ছেলে তোমার সাথে না গতকাল সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় দেখা হয়েছিল?


জগাই মনে করতে থাকে গতকাল সিঁড়ি দিয়ে তিনতলায় গণিত ভবনের অফিসের দিকে যাওয়ার সময় এই লোকটার সাথে দেখা হয়েছিল।


দেখতে তরুণ কম বয়সী লোকটাকে দেখে সে মনে করেছিল হয়তো উপরের বর্ষের ডিপার্টমেন্টের কোনো বড় ভাই। তাইতো সে সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখে জিজ্ঞাসা করেছিল, দাদা একটু শুনবেন? ম্যাথমেটিক্যাল ডিজেস্টার বিভাগের অফিসটা কোন দিকে?


লোকটা আড়চোখে জগাইয়ের দিকে তাকিয়ে হাতের ইশারায় দেখিয়ে দিয়েছিল অফিস কোন দিকে। আর আজকে প্রথম ক্লাসে এসে দেখছে লোকটা আর কেউ নয় তার বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এবং জগাইয়ের কোর্স টিচার।


জগাই এই বছর এমআইটিতে ম্যাথেমেটিক্যাল ডিজেস্টার মানে গাণিতিক দুর্যোগ বিভাগে ভর্তি হয়েছে। আজকে তার প্রথম ক্লাস।


সে সকালে ঘুম থেকে উঠে মাথায় চপচপে করে তেল দিয়ে মেস থেকে খিচুড়ি আর ডিম ভাজি খেয়ে ডিপার্টমেন্টের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।


সে অনেক ছোট থেকেই মাথায় সরিষার তেল দেয় চপচপে করে দেখলে মনে হয় তেলের পাতিলে মাথা চুবিয়ে এসেছে এমন যে মাথা থেকে তেল বেয়ে পড়ছে। জগাইয়ের মা বলতো, “বাবা মাথায় বেশি করে তেল দিবি তাহলি পারে মাথা ঠান্ডা থাকপেনে”।


: জীবনের লক্ষ্য কী?
: স্যার খিচুড়ি
: মানে?


এতক্ষণ আনমনে ছিল জগাই। স্যার জীবনের লক্ষ্য কী জিজ্ঞাসা করলে সে আনমনে খিচুড়ি বলে ফেলে সে উদাসীন থাকাতে মনে করেছিল স্যার মনে হয় শুনতে চেয়েছে সে সকালে কী খেয়েছে।


ক্লাসের সবাই হো হো করে হেসে ওঠে। আসলে জগাই ছোট থেকে একটু দুষ্ট তবে সহজসরল প্রকৃতির। সবাই যা বলে তাই বিশ্বাস করে, মাথায় প্যাঁচ কম।


: স্যার আমার ইচ্ছা আমি শিক্ষক হবো। এ জাতিকে আলোকিত করবো।


প্রথম ক্লাসে মারুফ আহমেদ স্যার জগাইসহ অন্যদের পরিচয় পর্ব শেষ করে এবার শুরু করলেন সেই মহানমোটিভেশন,



স্নেহের শিক্ষার্থীবৃন্দ তোমরা যারা এমআইটিতে গাণিতিক দুর্যোগ বিভাগে ভর্তি হয়েছো আজকে এখানে উপস্থিত আছো তারা সবাই অনেক লাকি। এই বিভাগটা গণিতের একটা বিশেষ শাখা। এই সাবজেক্ট একটা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এ দেশে খোলা হয়েছে। বর্তমান বিশ্ব যখন করোনা দুর্যোগে বিপর্যস্ত তখন আমাদের স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা অতিরিক্ত ফেসবুকে সময় কাটানোর জন্য ম্যাথ ভুলে যাচ্ছে। ফলে ছেলেমেয়েদের মধ্যে এক ধরণের গাণিতিক ফোবিয়া তৈরি হচ্ছে। সবাই গণিতের কথা শুনলেই পড়াশোনা ছেঁড়ে দেবে বলে হুমকি দিচ্ছে।ফলে জাতি গাণিতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। তোমাদের কাজ হবে এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্কুল কলেজের শিক্ষক হয়ে তোমরা এই জাতিকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করবে। আর তোমরা উকিল আর ডাক্তার বাদে ভবিষ্যতে সব হতে পারবা। ম্যাথ ইজ দ্যা মাদার অফ সায়েন্স। সব জায়গায় ম্যাথ লাগে। তোমরা প্রোগ্রাম শিখে নতুন নতুন সফটওয়্যার বানাবে। ডাক্তার হতে না পারলেও চিন্তা করো না তোমারা মাঝে মাঝে অপারেশন করবে।



স্যারের এসব কথা শুনে জগাইয়ের মন খুশিতে ভরে ওঠে। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বড় হওয়া জগাই গাণিতিক দুর্যোগে পড়ে অপারেশন করবে এ তো বিরাট ব্যাপার।


যাহোক ক্লাস শুরু হওয়ার কিছুদিন পরে সে বুঝতে পারে অপারেশন কি? ম্যাট্রিক্স অপারেশন ইন লিনিয়ার এলজেব্রা। এভাবেই জগাইয়ের গাণিতিক অপারেশন চলতে থাকে।


ওদিকে জগাইয়ের বাবা জগাইকে বারবার তাগাদা দিতে থাকে টিউশনি করানোর জন্য।বাড়ি থেকে খরচ পাঠাতে সমস্যা হচ্ছে। কয়েকদিন অনেক খোঁজাখুঁজির পরও আর টিউশনি পায় না। এক বড় ভাই বুদ্ধি দেয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে। একদিন শুক্রবার পত্রিকায় পাতায় বিজ্ঞাপন আসে,


পড়াতে চাই,
জগাই ঘরামি
এক্স এনডিসি,ম্যাথেমেটিক্যাল ডিজেস্টার, এমআইটি


পরের দিন বিকালে মতিঝিলের একটি বাসা থেকে কল আসে পড়ানোর জন্য। জগাই বাসাটিতে উপস্থিত হয়ে ড্রয়িং রুমে বসে। কিছুক্ষণ পরে একজন ভদ্রলোক ভিতর থেকে আসে। কিছুক্ষণ জগাইকে পর্যবেক্ষণ করে বলে, বাবা তুমি এনডিসিতে কত নাম্বার ব্যাচের স্টুডেন্ট ছিলে?
: আংকেল আমাদের কোন ব্যাচ-ম্যাচ ছিল না। আমরা এই অল্প কয়েকজন ছিলাম বিজ্ঞান বিভাগে তাই ওসব ছিল না আমাদের।
: মানে? কী বলছো তুমি? আমি এনডিসির শিক্ষক রসায়ন বিষয়ের। প্রতি বছর আমাদের দশ থেকে বারোটা ব্যাচ থাকে। আর তুমি বলছো কোনো ব্যাচ ছিল না।অদ্ভুত!
: কী বলেন স্যার? রসায়নের আমাদের একজনই শিক্ষক ছিলেন। উনার নাম বিল্লাল হোসাইন। অদ্ভুত তো!


স্যার এবার একটু রেগে গেলেন। বললেন, দ্যাখ ছেলে পত্রিকায় এমন অনেক ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে অনেকে টিউশনি করে। আমার বাসায় এসব হতে দেব না। আমার রিকোয়ারমেন্ট হচ্ছে আমি এমন একজনকে দিয়ে পড়াবো আমার ছেলেকে যার ব্যাকগ্রায়ুন্ড থাকবে নটরডেম কলেজ। এজন্য পত্রিকায় এনডিসি দেখে কল দিয়েছি। যদি তোমার কোনো তথ্য ভুল থাকে তবে তোমাকে পুলিশে দেব আমি।


এতক্ষণে স্যার এর কথা শুনে জগাই ভয় পেয়ে গেছে। সে আস্তে আস্তে বলে, স্যার আপনার ভুল হচ্ছে আসলে পত্রিকায় খরচ বাঁচানোর জন্য আমি আমার কলেজের নাম সংক্ষেপে লিখেছি। আসলে আমার কলেজের নাম নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ সংক্ষেপে এনডিসি।


স্যার ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকলো জগাইয়ের দিকে। এবার তাহলে বলোতো বাবা এমআইটির বিষয়টা?
: স্যার আমি এমআইটিতে মানে মহাখালী ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে স্টাডি করছি।
: বাবা আমি বিজ্ঞাপন দেখে মনে করেছিলাম তুমি সাবেক নটরডেমের ছাত্র হয়তো আমেরিকার এমআইটিতে স্টাডি করছো। ছুটিতে দেশে এসে হয়তো কিছু দিন পড়াতে চাচ্ছো। আসলে পত্রিকায় তুমি যে বিজ্ঞাপন দিয়েছো তা তো ঠিক আছে মাঝখানে আমিই ভুল করে বসলাম কিছু মনে করো না বাবা। তুমি আজ আসো।


কিছুদিন পরে জগাই ধানমন্ডিতে একটি বাসায় পড়াতে গেল। বড় ব্যবসায়ীর বাসা, ছিমছাম পরিপাটি সাজানো গোছানো বাসা। পড়াতে হবে এইচএসসিতে পড়ুয়া এক মেয়েকে।


মেয়েটি গাণিতিক মহামারিতে ভুগছে মানে ম্যাথ দেখলেই ভয় পায়। জগাই প্রথম দিনেই অবাক হলো মেয়েটিকে তার রুমে পড়াতে হবে। সাধারণত এ পর্যন্ত যতগুলো মেয়ে স্টুডেন্ট পড়িয়েছে সবাইকে পড়াতে হয়েছে ড্রয়িং রুমে। কিন্তু এখানে একটু ব্যতিক্রম দেখে ভাল লাগলো যে উনারা আমাকে অনেক বিশ্বাস করেছেন তাই হয়তো রুমে পড়াতে দিয়েছেন। দেড় ঘণ্টা পড়ানোর কথা। কিন্তু কয়েকদিন পড়ানোর পর জগাই খেয়াল করলো যখন দেড় ঘণ্টা পড়ানোর পর সে চলে যাবে সেই সময়ে বাসার আন্টি নাস্তা নিয়ে আসে। শক্ত ছয় সাতটা টোস্ট।


চাকুম। চাকুম। চাকুম। জগাই শক্ত টোস্টগুলো অনেক কষ্টে শেষ করে। উঠে যাবে এ সময়ে আন্টি আবার হাজির লাল চা নিয়ে। আর নাস্তা করার সময়ে তো সে বসে থাকতে পারে না। আরও আধাঘণ্টা নাস্তা করে আর পড়াতে থাকে। একটু দুধ চা হলে ভাল হতো টোস্টগুলো ভিজিয়ে খেতে পারতো।


দুধ'চার কথা মনে হতে একবার বাড়ির একটা ঘটনা মনে পড়ে জগাইয়ের। জগাইয়ের মা মানে হরিবালা দেবীর একজন বাবা ঠাকুর ছিল। যিনি বছরের প্রায়ই সময়ই জগাইদের বাড়িতে আসতো দীক্ষা দিতে। বাবাজী আসলে একমাসের কমে যেতেন না। আর এই সময়ে বাড়ির গাভী থেকে যে দুধ পাওয়া যেত তা বাবাজীর ভোজনেই যেত জগাই আর তার ভাই মাধাইয়ের কপালে দুধ জুটতো না। প্রতিদিন রাতে জগাই দুই গ্লাস দুধ নিয়ে বাবাজীর সামনে দাঁড়াত আর বাবাজী ঢকাঢক করে পান করতো। একদিন জগাইয়ের অনেক ইচ্ছা হলো একটু দুধ পান করার।


বাবাজী যখন একগ্লাস দুধ পান করে আরেক গ্লাস জগাইয়ের হাত থেকে নিতে যাবে তখনই জগাই বলে উঠলো, গুরদেব দুধে কুনো ব্যাঙ পড়েছিল।
: কী বললি হতচ্ছাড়া বলেই বাবাজী ওয়াক ওয়াক করতে করতে বাইরের দিকে ছুটে গিয়ে বমি করতে লাগলো আর ওদিকে জগাই তখন মহা আনন্দে দুধ পান করে চলেছে।


পরেরদিন বাবাজী সেই যে জগাইদের বাড়ি ছেড়েছিল আর এদিকে আসেনি কোনদিন। হরিবালা গুরুদেবকে অনেক বুঝিয়েছিল যে জগাই মিথ্যা বলেছে কিন্তু বাবাজীর একই কথা শিশুরা নিষ্পাপ, জগাই মিথ্যা বলতে পারে না। এই ঘটনায় জগাই বাড়ি থেকে পালিয়ে দুদিন ঘেটুদের বাড়িতে ছিল।


সে যাহোক এখন আসি আবার বর্তমানে, এভাবে কয়েকদিন পরে সে বুঝতে পারে এটা আন্টির একটা পলিসি। সময় বেশি দিয়ে যেন টিচার পড়ায় এজন্য এই শক্ত টোস্ট মেথড তার আবিষ্কার। আন্টির আরেকটা আবিষ্কার আছে সেটা হলো জগাই যেখানে বসে তার পিছনের দিকে বড় একটা আয়না দেওয়ালে টানানো। যেটা দিয়ে আন্টি ড্রইয়িং রুমে বসে লক্ষ্য রাখে জগাইয়ের দিকে সে ঝিমাচ্ছে নাকি পড়াচ্ছে। এটা আন্টির পেরিস্কোপ। আন্টির এই আবিষ্কার গুলো দেখে জগাইয়ের অনেক ভালো লাগে সে ভাবে আমাদের দেশে অনেক মেধা আছে এবং আমারাও কিছু আবিষ্কার করতে পারি। আন্টি তার জ্বলন্ত উদাহরণ।


মেয়েটির নাম বন্যা, কয়েকদিন ধরে জগাই কথা বলছে ফোনে মেয়েটির সাথে। জগাই মেয়েটিকে অনেক অনুরোধ করে একটু দেখা করার জন্য। মেয়েটি বলে এক শর্তে দেখা করতে পারি “আমাকে এক কাপ চা খাওয়াতে হবে”।
: মাত্র এক কাপ চা। এ আর এমন কি? আপনি দেখা করলে আমি আপনাকে কফি খাওয়াবো।
: আরে না। এত বেশি দামি খাবার লাগবে না ।আমি কাউকে বেশি খরচ করাই না।


জগাই ভাবে আহারেকত লক্ষী মেয়ে। কত হিসাবি।


পরের দিনই মহাখালী কাঁচাবাজারের পাশে বন্যার সাথে দেখা করে জগাই। জগাই অনেক লজ্জা পাচ্ছে। প্রথম কোন মেয়ের সাথে এভাবে দেখা করছে সে। অল্প কথা বলার পরেই ফটিক খুব গর্বের সাথে বলে চলেন আপনি না চা খেতে চেয়েছিলেন?


ওরা দুজনে কাঁচাবাজারের পাশে একটা টং দোকানে বসে চা খায়। জগাই ভাবে জীবনের প্রথম ডেটিংয়ে এসে মাত্র ৫ টাকা খরচ হবে। সে বন্যাকে বারবার অনুরোধ করে এক প্যাকেট ১০ টাকার বিস্কিট নিতে।


পরে মেয়েটি বলে ঠিক আছে যখন এতই দিতে চাচ্ছেন তাহলে চলেন স্বপ্ন থেকে এক প্যাকেট বিস্কিট কিনে দেবেন। আমি যেখান সেখান থেকে বিস্কিট কিনে খায় না। ফটিক বলে চলেন। ফটিক অনেক আনন্দ নিয়ে স্বপ্ন তে ঢোকে।



মেয়েটি প্রথমে এক প্যাকেট ৮০টাকার লেক্সাস বিস্কিট নেয় পরে বলে, “শুধু বিস্কিট খেতে ভালো লাগবে না এক প্যাকেট কেক নিই?”


: হুম নেন। জগাই আস্তে আস্তে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দেয়।
মেয়েটি এবার বলে, “শুধু কেক খেতে ভাল লাগবে না ,এক বোতল জেলি নিয়েনি?”
জগাই এবার আর কিছু বলে না শুধু পকেটে হাত দিয়ে বোঝার চেষ্টা করে কত টাকা নিয়ে বেরিয়েছে সে?
: শুধু মিষ্টি খেতেই তো ভালো লাগবে না একটু ঝাল না হলে চলে। এক প্যাকেট চানাচুর নিলাম?


জগাই এবার আতংকিত হয়।
: টক দই আমার অনেক পছন্দের। এক বক্স নিলাম? ও আইসক্রিম আমার অনেক পছন্দের এক বক্স নিলাম?



জগাইকে আতঙ্ক গ্রাস করছে। চোখ মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে। চোখে অন্ধকার দেখছে সে। সে একটা কথায় ভাবছে এই সব কিছুতে যে বিল আসবে তা শোধ করতে গেলে তাকে জামা কাপড় খুলে এখানে রেখে যাওয়া লাগবে। অবশেষে ক্যাশ কাউন্টারে জগাই যখন ১৫৬০ টাকার বিল শোধ করে বের হয়েছে ততক্ষণে তার উপর দিয়েসিডর, আইল্যা সুনামি সব বয়ে গেছে। জগাই মেয়েটিকে বিদায় দিয়ে পায়ে হেঁটে মেসের দিকে রওনা দিয়েছে।


এই পুরো টাকাটা সে রেখেছিল এ মাসের মেসের ভাড়া দেওয়ার জন্য। জগাই শুধু ভাবে এক কাপ চা খতে চেয়েছিল মেয়েটি। এক কাপ চা মাত্র। আর তাতেই এ অবস্থা। যদি সে রেস্টুরেন্টে খেতে চাইতো তাহলে আজকে জমি বিক্রি করে বল দিয়ে যেতে হতো।


যাক বেচারা জগাই কী আর করবে? মেসে ফিরে শুয়ে শুয়ে সে উইলিয়াম সমারসেটের দ্যা লাঞ্চেন বইটি পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে যায়। আজকে দ্যা লাঞ্চেন বইয়ের ঘটনা তার সাথে ঘঠে গেছে।


কিছুদিন পরের কথা চারপাশে ইংরেজি ভাষার জয়জয়কার। রান্নার খালা থেকে শুরু করে আমজনতা সবাই কথায় কথায় ইংরেজি বলছে। বাংলা ভাষা জাদুঘরে যাওয়ার মত অবস্থা। এ অবস্থায় আবার বাংলা ভাষাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কবি সামসেল খানের নেতৃত্বে “ইংরেজি হঠাও” আন্দোলন শুরু হয়েছে।জগাই যোগ দিয়েছে সেই আন্দোলনে।


এই আন্দোলনের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে একদিন জগাই গেল কবি সামসেল খানের বাসায়। সেখানে আলোচনায় উপস্থিত ছিল কবির স্ত্রী রিনা খানসহ আরও অনেকে। সেখানে সবাই এক সাথে শপথ নেয় এখন থেকে তারা বাংলা ছাড়া আর ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করবে না। মানে সব কথায় বাংলায় বলবে।


কিছুক্ষণ পরে জগাই বলে, উপস্থিত সুধীমণ্ডলী, অনুগ্রহ করে বলবেন কী পায়খনার ঘরটা কোনদিকে?
: ওই দিকে, সামসেল খান দেখায়।
সামসেল খানের স্ত্রী রিনা খান বলে, মিস্টার জগাই ওইটা ওয়াশরুম। আমার এত টকার ওয়াশরুম কে আপনি প্লিজ পায়খানার ঘর বলবেন না! প্লিজ কিছু মনে করবেন না। বি প্র্যাক্টিক্যাল!


সেদিনের মতো সভা শেষ। সেই সাথে “ইংরেজি হঠাও” আন্দোলনও শেষ।


আমরা বলি এক, করি আরেক, খাই এক, ত্যাগ করি আরেক, শুনি এক, ভাবি আরেক, দেখি এক বুঝি আরেক...


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com