সন্তানের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য আগে...
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:০৯
সন্তানের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য আগে...
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সন্তানের ভালো সব মা-বাবাই চান। সন্তানের সুখ মানেই বাবা-মা'র সুখ। তাইতো সন্তান অসুস্থ হলে মা-বাবাই বেশি উদ্বিগ্ন হন। সন্তানের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে বাবা-মা সার্বক্ষণিক সেবা-যত্নের মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার চেষ্টার ত্রুটি করেন না। তবে অনেক সময় সন্তানের এমন রোগ হয় যা অনেক বাবা-মা লক্ষ্য রাখেন না।


সন্তান কেন মন খারাপ করে বসে থাকে, কেন ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া করছে না, অন্য শিশুর সাথে কেন খেলতে যাচ্ছে না, এসব প্রশ্নের উত্তরও খুজতে চান না অনেক মা-বাবা। শারীরিক রোগ সারাতে ব্যতিব্যস্ত হলেও সন্তানের মানসিক রোগটা ধরতে পারেন না অনেকে।


খেলাধুলা শুধুমাত্র শারীরিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুরা যেমন মজা করে, তেমনি এটা তাদের মস্তিষ্ক গঠন করে। দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপযুক্ত করে গড়ে তোলে।


শিশুদের শারীরিক সমস্যার চেয়ে মানসিক সমস্যাই তাদের বেশি ক্ষতি করে। মানসিক রোগের কারণে শিশুর মধ্যে একাকিত্ববোধ ও হতাশা বেড়ে যায়।


এক থেকে ১৮ বছর বয়সের সন্তান আছে-এমন ২ হাজার ২শ ৬৭ জনসহ ৯ হাজার ১৫ জন বাবা-মার উপর গবেষণাটি চালানো হয়। এতে দেখা যায়, মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ৩০ শতাংশ বাবা-মা শিশুর খাবার, ওজন এবং শারীরিক রোগ যেমন ক্যানসার, স্ট্রোক ডায়াবেটিস কিংবা এজমা প্রভৃতি রোগ নিয়ে ভাবেন। তবে বাবার তুলনায় মা’ই সন্তানের জন্য বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন।


শিশুরা কোনো ভুল করলে তাদের যেমন বকা দেয়া হয় একইভাবে তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য দ্রুতই আলিঙ্গন করা এবং জড়িয়ে ধরাও প্রয়োজন।


বিকাশে সহায়তা করে


গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিক সংযোগ শিশুর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে শৈশবে। শিশুর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য তাকে জড়িয়ে ধরা, চুমু খাওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো শিশুর ভালো অনুভূতির হরমোন নিঃসৃত করে যা শিশুর বিকাশকে প্রভাবিত করে।


শিশুকে শান্ত করতে


শিশু কোনো কারণে খুব বেশি ক্ষেপে গেলে বা আবেগপ্রবণ হলে তাকে জড়িয়ে ধরুন, তার গালে চুমু খান। এতে তার মন মেজাজ শান্ত হয়ে আসবে।


শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে


বড়দের মতো শিশুরাও মাঝে মাঝে অবসাদ অনুভব করে। তাদেরকে এই হতাশা ও অবসাদ থেকে বের করে আনার জন্য জড়িয়ে ধরা ও চুমু খাওয়ার গুরুত্ব অনেক। এতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং তারা তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করেতে পারে।


শিশুদের খুশি রাখতে


সুখী শিশুই, সুস্থ শিশু। আপনার শিশুর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য তাকে জড়িয়ে ধরুন। এটা কেবল শিশুকে খুশিই রাখে না পাশাপাশি তার আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান বাড়াতেও সাহায্য করে।


সম্পর্ক জোড়ালো করে


অভিভাবক ও সন্তানের মধ্যে শারীরিক স্পর্শ সম্পর্ক জোড়ালো করতে সাহায্য করে। ফলে শিশু নিজেকে নিরাপদ অনুভব করে। জড়িয়ে ধরার উষ্ণতা শিশুর ভয় দূর করতে সহায়তা করে এবং সম্পর্কের প্রতি বিশ্বাস বাড়াতেও সাহায্য করে।


সুন্দর স্বাস্থ্যের জন্যে শারীরিক পরিশ্রম অপরিহার্য। শারীরিক পরিশ্রম শিশুর শরীর সুগঠিত করার পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও ভূমিকা রাখে। ব্যায়ামের সময় যে ডোপামিন নিঃসৃত হয় তা মস্তিষ্ককে সচল করে তোলে। তাই আপনার সন্তানকে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করানোর বিকল্প নেই।


তবে শারীরিক পরিশ্রম মানেই যে জিমে গিয়ে বুকডন দেয়া আর ট্রেডমিলে দৌড়োনো, তা নয়। এটিকে সহজ এবং মজার করে তুলতে কিছু উপায় অনুসরণ করে দেখতে পারেন।
সবাই মিলে ক্যাচ ক্যাচ খেলুন টেনিস বল দিয়ে! বিশেষজ্ঞরা বলেন এতে eye to hand co-ordination এর উন্নতি হয়।


মাঠে ঘুড়ি ওড়াতে উৎসাহিত করুন। (ছাদে নয় কিন্তু!)


যদি শীতের দেশে থেকে থাকেন, তাহলে সন্তানকে নিয়ে বরফের মধ্যে হাঁটুন। এতে বেশি পরিশ্রম হয়, কিন্তু সেভাবে টের পাওয়া যায় না!


আশেপাশে পতিত জায়গায় ছোট্ট গলফ কোর্ট বানিয়ে খেলতে পারেন।


মাকড়শার মত করে হাঁটতে বলুন! (এতে প্রচুর ক্যালরি খরচ হয়)।


খরগোশের মত লাফাতে দিন! (আপনিও লাফাতে পারেন!)


বেড়াল যেভাবে শরীর টানটান করে রাখে তেমনটা করতে বলুন, দেখবেন কী মজাটাই না পায়!


গানের তালে নাচতে বলুন!


মজা করতে করতে ব্যায়াম করার সেরা পন্থা হলো এ্যারোবিক্স। নিয়মিত এটির প্র্যাকটিস করান।


আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, ব্যায়ামের সময় তার পাশে থাকুন, উৎসাহ দিন! আপনিই পারেন তার ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে!


শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ও তার ক্রমবিকাশ সুষ্ঠুভাবে হওয়া খুবই জরুরি। শিশুর বেড়ে ওঠা ও তার মানসিকতার উৎকর্ষতা নিয়ে অভিভাবকদের সব সময়ই চিন্তা করা দরকার। আমাদের চারপাশে কত শিশু বেড়ে উঠছে, তাদের কতটা মানসিক বিকাশ ঘটছে সে ব্যাপারে পুংখানুপুংখভাবে পর্যালোচনা করে দেখা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে যে, একটি শিশু তার যোগ্য পরিবেশ পাচ্ছে কিনা। কিন্তু সেদিকে অনেকের খেয়াল থাকে না। পরিবারের সদস্যদের দেখা যায়, শিশুদের তারা সব সময়ই এমনভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখেন তা শিশুদের জন্য অনুকূলে নয়। এতে শিশুরা সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠে না।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com