আজহারের আপিলের রায় যে কোনো দিন
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৯, ১৩:০৫
আজহারের আপিলের রায় যে কোনো দিন
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, অপহরণ ও গণধর্ষণের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের খালাস চেয়ে করা আপিলের রায় ঘোষণা হবে যে কোনো দিন।


আপিল বিভাগ তার আপিল আবেদনের রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছেন। ফলে যে কোনো দিনই এই রায় ঘোষণা হবে।


বুধবার উভয়পক্ষের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।


এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও শিশির মুহাম্মদ মনির।


আজহারের আইনজীবীরা আদালতে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে বিভিন্ন যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। অপরদিকে আজহারের অপরাধের বিবেচনা করে তাকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার অনুরোধ জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।


এর আগে ২৬ জুন মামলায় পেপার বুক পড়া শেষে যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।


২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আজহারুল ইসলামের পক্ষে আপিল আবেদন করেন। আপিলে তার খালাসের পক্ষে যুক্তি রয়েছে প্রায় ১১৩টি।


আপিলের পর তার আইনজীবী শিশির মুহাম্মদ মনির বলেছিলেন, আমরা প্রত্যেকটি অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করেছি। তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এ মামলায় সাক্ষীদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আজহারুলকে নির্দোষ প্রমাণ করে।


২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর রংপুর জেলা আলবদর বাহিনীর কমান্ডার আজহারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৩০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ট্রাইব্যুনাল-১ এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এ রায় দিয়েছিলেন।


একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর অঞ্চলে এক হাজার ২৫৬ জনকে গণহত্যা-হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক, নির্যাতন ও গুরুতর জখম এবং শতশত বাড়ি-ঘর লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো নয় ধরনের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
এর মধ্যে পাঁচটি এবং পরিকল্পনা-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) প্রমাণিত হয় তার বিরুদ্ধে।


মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এখন পর্যন্ত সাতটি আপিলের রায় ঘোষণার পর রিভিউ আবেদনেরও নিষ্পত্তি হয়েছে আপিল বিভাগে।


বিবার্তা/রবি/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com