যুদ্ধাপরাধ: মৌলভীবাজারের চারজনের রায় মঙ্গলবার
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৮, ১৩:৫৮
যুদ্ধাপরাধ: মৌলভীবাজারের চারজনের রায় মঙ্গলবার
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার সাবেক মাদ্রাসা শিক্ষক আকমল আলী তালুকদারসহ চারজনের রায় দেয়া হবে মঙ্গলবার।


বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, গুম, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে।


আসামিরা হলেন- আকমল আলী তালুকদার (৭৬), আব্দুর নুর তালুকদার ওরফে লাল মিয়া (৬২), আনিছ মিয়া (৭৬) ও আব্দুল মোছাব্বির। এই চারজনই মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর থানার বাসিন্দা।


বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার রায় ঘোষণার জন্য এই দিন ধার্য করেছে।


প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ২৭ মার্চ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিল আদালত।


চার আসামির মধ্যে কেবল আকমল আলী তালুকদার (৭৩) এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। তাকে ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর গ্রেফতার করা হয়।


প্রসকিউশনের পক্ষে এ মামলার শুনানিতে অংশ নেন সৈয়দ হায়দার আলী। তার সঙ্গে ছিলেন শেখ মুশফিক কবীর ও সায়েদুল হক সুমন। আর আসামি আকমলের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে ছিলেন আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবুল হাসান শুনানি করেন।


গত বছরের ৭ মে অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল।


প্রসিকিউটর মুশফিক বলেছেন, একাত্তরে ৫৯ জনকে হত্যা, ছয়জনকে ধর্ষণ, ৮১টি বাড়িতে লুটপাট অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পর্যাপ্ত নথির মাধ্যমে প্রসিকিউশন দুটি অভিযোগই প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে বলে আমি মনে করি। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়েছে।


তিনি বলেন, এ মামলায় প্রসিকিউশনের ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে পাঁচজনই একাত্তরে আসামিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন ধর্ষণের শিকার।


২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ চার আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর গত বছরের ৭ মে অভিযোগ গঠন হয়। সূচনা বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ৪ জুলাই।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে ২০১০ সালে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর এটি হবে ৩৩তম রায়।


বিবার্তা/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com