''জীবনে কোনো দিনও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাইনি''
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৭, ১৬:৫৩
''জীবনে কোনো দিনও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাইনি''
তৌফিক ওরিন
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা মো. আনোয়ার হোসেন। জন্ম ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ; যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের একটি আওয়ামী রাজনৈতিক পরিবারে। তাই পারিবারিকভাবেই অর্জন করেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শ। ঐতিহ্যবাহী গঙ্গানন্দপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াকালে হাতেখড়ি ছাত্ররাজনীতিতে। ১৯৮৮ সালে নবম শ্রেণীতে থাকাকালীন স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেই ধারাবাহিকতায় যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়াশোনাকালেও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট হন। পরবর্তীতে জগন্নাথ কলেজে (এখন বিশ্ববিদ্যালয়) পড়াকালে জড়িয়ে যান মহানগর ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। এভাবে ১৯৯৩-৯৫ সালে ৩৮নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৫-৯৮ সালে একই ওয়ার্ডের সভাপতি, ১৯৯৬-২০০০সালে তেজগাঁও থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, ২০০২ থেকে ২০০৫ একই থানার সভাপতি ও ঢাকা মহানগরের সদস্য এবং ২০০৩-০৫ সালে ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।


পরবর্তীতে আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন আনোয়ার হোসেন। সেখানে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন এবং বর্তমানে যুবলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনাকারী আনোয়ার হোসেন সফলতা পেয়েছেন শিক্ষাজীবনেও। অর্জন করেছেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। বর্তমানে তিনি ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে শত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রায়ই তিনি ছুটে যান এলাকায়। লক্ষ্য একটাই, মানুষের জন্য কিছু করা।


মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানে বসে তাঁর রাজনীতিতে আসা, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন বিবার্তা২৪্ডটনেট-এর সঙ্গে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন বিবার্তা প্রতিবেদক তৌফিক ওরিন



বিবার্তা : আপনার রাজনীতিতে আসার গল্পটা যদি বলতেন...


আনোয়ার হোসেন : রাজনীতি আমার রক্তে মিশে আছে। আমি একটি প্রাচীন আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আমার বাবা মো. রওশন আলী সরদার প্রায় চার যুগ আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। আর আমি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি স্কুলজীবন থেকেই। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৮৮ সালে ঐতিহ্যবাহী গঙ্গানন্দপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। সেই দায়িত্ব আমি সফলতার সাথে পালন করি এবং সেই সময় স্বৈরাচারী শাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে নিয়মিত অংশগ্রহণ করি।


এরপর ১৯৯০ সালে একই স্কুল হতে কৃতিত্বের সাথে এস.এস.সি পাস করার পর ঐতিহ্যবাহী সরকারী মাইকেল মধুসূদন কলেজে (এম.এম. কলেজ) এইচ.এস.সি-তে মানবিক বিভাগে ভর্তি হই। কলেজে অধ্যয়নকালেও এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়্ভাবে অংশগ্রহণ করি।


পরবর্তীকালে কৃতিত্বের সাথে এইচ.এস.সি পাস করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় আসি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে অনার্সে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া শুরুর পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করতে থাকি।


বিবার্তা : ওই সময়ে তো আপনারা বিরোধী দলে ছিলেন। বিরোধী দলের রাজনীতিটা কেমন?


আনোয়ার হোসেন : ওই সময়ে বিরোধী দলের হয়ে রাজনীতি ছিল অনেক কন্টকপূর্ণ। কারণ, তৎকালীন সরকার বিরোধী দমন-পীড়ন সব সময় অব্যাহত রেখেছিল। ওই সময় থেকে আমরা হামলা-মামলা ও ব্যাপক পুলিশী নির্যাতনের শিকার হই। একবার যশোর দড়াটানা মোড়ে এরশাদবিরোধী মিছিল শেষ করে ফেরার পথে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে। প্রায় তিন মাস কারাভোগ করার পর জামিনে মুক্ত হয়ে আবার নিয়মিত আন্দোলন-সংগ্রামে শরীক হই এবং সর্বশেষ এরশাদের পতন হয়।


একইভাবে, ১৯৯১ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বি.এন.পি ক্ষমতায় আসার পর ভোটের অধিকার বাস্তবায়ন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে একজন ছাত্রনেতা হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করি। ১৯৯৬ সালে অসহযোগ আন্দোলন চলার সময় সেনাবাহিনী (অপারেশন দূর্বার) আমাকে গ্রেফতার করে সীমাহীন শারীরিক অত্যাচার করে।


২০০১ সালে ১ অক্টোবর নির্বাচনে বি.এন.পি-জামাত জোট ক্ষমতায় আসার পর আমার পরিবারের উপর সীমাহীন অত্যাচার শুরু হয়। ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরলে গ্রেফতার হই এবং দীর্ঘ সময় থানায় বন্দী থাকার পর মুক্তি পাই। আমরা দেখেছি ২০০১ ও ১/১১’র সময় জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে অনেকেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তবে আমি সীমাহীন অত্যাচার, বঞ্চনা, নির্যাতন, প্রলোভন জয় করতে সক্ষম হয়েছি। নিজের আদর্শ থেকে এক বিন্দুও বিচ্যুত হইনি।



বিবার্তা : বর্তমানে আপনার রাজনৈতিক অবস্থান কী?


আনোয়ার হোসেন : আমি বর্তমানে কেন্দ্রীয় যুবলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আগেই বলেছি, আমি দীর্ঘ দিন রাজনীতির সাথে জড়িত। আমি ঢাকা মহানগরের রাজনীতির সাথেই জড়িত ছিলাম দীর্ঘ ২৫ বছর। আমি ছোট বেলা থেকে দলীয় পদবী ধারণ করতে সক্ষম হয়েছি। এত অল্প বয়সে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হয়েছি, এটা আমার কাছে বড় পাওয়া। শহরকেন্দ্রিক রাজনীতি বেশি করলেও আমার শেকড় সৃষ্টি হয়েছে আমার স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে, বেড়ে উঠেছিও গ্রাম থেকে। এ কারণেই তৃণমূলের সাথেই আমার সম্পর্ক বিনি সুতার মালার মতই অবিচ্ছেদ্য। আমা এলাকায় এমন কোনো গ্রাম নেই, যেখানকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে না।


বিবার্তা : এখন আপনারা সরকারী দলে। দল ক্ষমতায় থাকাকালীন আপনি আপনার এলাকার জন্য কেমন ধরনের কাজ করছেন?


আনোয়ার হোসেন : আমি যেহেতু তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি, সেহেতু তৃণমূলের কর্মীদের অনুভূতিগুলোই আমার অনুভূতি। তারা কি চায়, তাদের আকাঙ্ক্ষা কি - এগুলো আমি বুঝি। একইসাথে আমি আমাদের নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের খোঁজ-খবর রাখা, সাধ্যমত সহযোগিতা করা এবং রাজনৈতিকভাবে কর্মীদের দেখাশোনা করার ক্ষেত্রে কোন কমতি করিনি।


গঙ্গানন্দপুর ডিগ্রী কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে একটি সরকারী অর্থায়নে, অন্যটি কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে ভবন নির্মাণ করা হয় এবং স্কুলের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে নিজস্ব অর্থায়নে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। জে.এস.সি , এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি কেন্দ্র অনুমোদন করা হয়। সর্বশেষ চতুর্থ বারের মত কলেজের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।


এছাড়া প্রতি বৎসর পবিত্র রমজান মাসে ইউনিয়নভিত্তিক ইফতার মাহফিল করা, ২৭ রমজান আমার গ্রামের বাড়িতে দুই উপজেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে ইফতার মাহফিল করা এবং পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের আগে যতটুকু সম্ভব নতুন কাপড় অর্থাৎ শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবি এবং সেমাই-চিনি বিতরণ করি।


আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পরে জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, কাল্ভারট উন্নয়ন করেছেন, আমরা চেষ্টা করেছি বঙ্গবন্ধুকন্যার এই উন্নয়নের ধারাকে অব্যহত রেখে সরকারের সহায়তা নিয়ে এলাকার মানুষের উন্নয়ন করা। সেটা করা হয়েছে। কেন্দ্রে রাজনীতি করার সুবাদে আমি আমার এলাকায় বিভিন্ন সরকারী বরাদ্দ দিতে সাহায্য করি। আমার এলাকা প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সেখানে আমি ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে ওই এলাকার সমস্ত রাস্তা পিচঢালা পাকা রাস্তা করেছি।



বিবার্তা : আপনার ভবিষ্যত রাজনৈতিক লক্ষ্যটা যদি খোলসা করতেন...


আনোয়ার হোসেন : প্রত্যেক রাজনৈতিক কর্মীই একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতি করে। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। মুজিব আদর্শের অনুসারী ও রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার একজন কর্মী হিসেবে যশোর-২ অর্থাৎ ঝিকরগাছা-চৌগাছা এলাকার মানুষের জন্য শেখ হাসিনার পক্ষে কাজ করতে চাই।


আমার নির্বাচনী আসনটি ২২টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভা মিলে গঠিত। দীর্ঘ ১০ বছর আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়ে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছি। গত ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের আগে এলাকায় মনোনয়নপ্রত্যাশী হয়ে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চলাই। গতবার মনোনয়ন না পেলেও দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীর পক্ষে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এ্যাড. মনিরুল ইসলামকে বিজয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করি। জীবনে কোনো দিনও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করিনি।


বিবার্তা : আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। এই দলের মনোনয়ন যুদ্ধও ব্যাপক। সেদিক থেকে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নিজেদের মধ্যে কি কখনো ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়?


আনোয়ার হোসেন : বড় দল হিসেবে আওয়ামী পরিবারে কিছু দলীয় সমস্যা থাকে। এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কে মনোনয়ন পাবে বা কে পাবে না, সেটা ঠিক করবেন আমাদের অভিভাবক শেখ হাসিনা। কিন্তু আমি মনে করি, এই প্রতিযোগিতা যেন প্রতিহিংসায় পরিণত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রতিহিংসার কারণে আওয়ামী লীগের আসন হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। আর মনোনয়ন পেতে হলে তো অবশ্যই কর্মীদের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে আমাদের নেত্রী ও সাধারণ সম্পাদক সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্পষ্ট বলেছেন, জনগণ যার সাথে, মনোনয়ন তার সাথে।


আমি সাধারণ মানুষের সাথে চলতে পছন্দ করি। যারা আওয়ামী লীগের মূল শক্তি, যাদের উপর ভর করে আওয়ামী লীগ দাঁড়িয়ে আছে, আমি তাদের সাথে মিশে চলি।


বিবার্তা : আওয়ামী লীগ সরকার দুই মেয়াদে ক্ষমতায় এসে অনেক উন্নয়ন করেছে। অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই অনেকে অভিযোগ করেন যে প্রচারের অভাবে দেশের উন্নয়নের আসল চিত্র জনগণের নিকট সঠিকভাবে পৌছাচ্ছে না। বিষয়টা আপনি কিভাবে দেখছেন?


আনোয়ার হোসেন : উন্নয়ন চিত্রের যে প্রচার নাই - কথাটা ঠিক না। সরকারের উন্নয়ন চিত্রগুলো প্রচারের দায়িত্ব আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। আমার এলাকায় নিজ উদ্যোগে গত ১৩ তারিখ জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের চিত্র লিফলেট আকারে জনগণের হাতে তুলে দিতে একটি মটর শোভাযাত্রা করি। প্রায় ১৫০০ মোটর সাইকেল, বাস ও ট্রাকে মুজিবপ্রেমীরা সেদিন আমার সাথে মিছিল করে বাড়িতে বাড়িতে লিফলেট পৌছে দিয়েছে। এটা আমি আমার দলের প্রতি দায়িত্ববোধ ও আনুগত্য থেকেই করেছি।


বিবার্তা : আগামীতে আপনি আর কি কি করতে চান বা ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?


আনোয়ার হোসেন : বাংলাদেশে যতগুলো নির্বাচনী এলাকা রয়েছে তার মধ্যে আওয়ামী লীগের জন্য গোপালগঞ্জ ছাড়া ঝিকরগাছা-চৌগাছা অত্যন্ত মজবুত একটি এলাকা। কারণ দীর্ঘ দিন ধরে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করে আসছে। কিন্তু উন্নয়নের দিক থেকে আমাদের এলাকা খুব বেশি এগোতে পেরেছে বলে মনে হয় না। নেত্রী চেষ্টা করেছেন কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা কি করেছেন সেটা জনগণ জানে।


আমি ঝিকরগাছা-চৌগাছা এলাকায় একটি শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর স্বপ্ন দেখি। যুবসমাজকে বেকার না রেখে তাদের কর্মক্ষেত্রে নিয়ে আসার স্বপ্ন দেখি। বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করছি দেশের তরুণসমাজ বিপথে পরিচালিত হচ্ছে। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে পড়ছে, মাদকের ছোবলে আক্রান্ত হচ্ছে। ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে যুব সমাজকে বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্যও অনেক হুমকির সম্মুখীন হতে হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করতে হবে। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।


আমার সাথে তৃণমূলের সম্পর্ক হৃদয়ের। আমার কাজ হচ্ছে জনগণের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা। বঙ্গবন্ধুকন্যা রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে যে উন্নয়ন করছেন সেগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরা আমাদের কাজ। আমি সেটিই করে যাচ্ছি। এটা আমাদের দায়িত্ব। এছাড়া আমাদের যশোর অঞ্চলের প্রাণ বলা হয় কপোতাক্ষকে। এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি কপোতাক্ষের প্রাণ রক্ষা করা। ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে কপোতাক্ষকে রক্ষা করে ও এর ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে দিয়ে তাকে পূর্বের রূপে ফিরিয়ে দিতে চাই।


বিবার্তা/ওরিন/হুমায়ুন/ মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com