''আমাদের প্লাটফর্ম আওয়ামী লীগ, মাঝি শেখ হাসিনা''
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৭, ১৬:১৮
''আমাদের প্লাটফর্ম আওয়ামী লীগ, মাঝি শেখ হাসিনা''
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি
তৌফিক ওরিন
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী অ্যাডভোকেট কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি। জন্ম ১৯৭৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর নাটোর জেলার গুরুদাসপুরের একটি রাজনৈতিক পরিবারে। তবে বেড়ে উঠেছেন নানাবাড়ি রাজশাহীতে। ছোটবেলা থেকেই সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কিছু করার চিন্তা ছিল তার। সে কারণে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয়েই যুক্ত হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের রাজনীতিতে। রাজশাহী সরকারী কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে পড়ার সময় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে তৎকালীন রাসেল-শিখর কমিটির সহ-সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বাহাদুর ব্যাপারী ও অজয় কর খোকনের কমিটিতে ছাত্রলীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।


সমাজকর্ম নিয়ে পড়াশোনাকারী কোহেলী কুদ্দুস সফলতা পেয়েছেন শিক্ষাজীবনেও। অর্জন করেছেন এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি। বর্তমানে তিনি আইন পেশায় জড়িত। শত ব্যস্ততার মধ্যে প্রায়ই তিনি ছুটে যান এলাকায়। লক্ষ্য একটাই, মানুষের জন্য কিছু করা।


রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজ বাসভবনে বসে রাজনীতিতে আসা, রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বসহ সংগঠন ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন বিবার্তা২৪.নেট-এর সঙ্গে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন বিবার্তা প্রতিবেদক তৌফিক ওরিন।


বিবার্তা : আপনার রাজনীতিতে আসার গল্পটা যদি বলেন...


কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি : আমি একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। বাবা রাজনীতি করার সুবাদে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ আমাদের বাড়িতে আসতো। তাই খুব ছোটবেলা থেকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে আমি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। তাদের বিভিন্ন সমস্যা আমাকে পীড়া দিত। রাজশাহীর সরকারী পিএন স্কুলে মাধ্যমিক স্তরে পড়াকালীন আমার মধ্যে মুজিব আদর্শের উন্মেষ ঘটতে থাকে। ওই সময় থেকেই মানুষের জন্য কাজ করার আগ্রহ জন্মাতে থাকে। মাধ্যমিক পাস করার পর আমি রাজশাহী সরকারী কলেজে ভর্তি হই। সেখান থেকেই আমি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি।



কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি ও তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কুদ্দুস


বিবার্তা : রাজনীতিতে আসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান কার?


কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি : আমার বাবার। বাবাই আমার রাজনৈতিক শিক্ষক। তিনি ৬৯’র গণআন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ ও ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের সভাপতি ছিলেন। একই সাথে তিনি আমাদের এলাকা নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম)’র ৫ বারের সংসদ সদস্য ও নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এর আগে তিনি রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আমাকে সব সময়ই একটি কথা বলতেন ‘'মেয়ে হয়ে নয়, মানুষ হয়ে গড়ে ওঠো। জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রচুর বই পড়তে হবে, যা পাবা তাই পড়বা।’' আমার বাবা সব সময় আমাকে উৎসাহ দিতেন বলে সক্রিয় রাজনীতি শুরুর পর কখনো শূন্যতার সৃষ্টি হয়নি।


বিবার্তা : যত দূর জানি, আপনি আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকাকালে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। ওই সময়টা কেমন ছিল?


কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি : আমি যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। আবার সেময় শিবিরেরও ব্যাপক প্রভাব ছিল। আমরা যারা ছাত্রলীগের রাজনীতি করতাম তাদের পুলিশ, ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকতে হতো। ওই সময়ে আমরা ১০/১৫ জন মিলে মিছিল করেছি, পুলিশের লাঠির বাড়ি খেয়েছি, নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তবে কখনো পিছু হটি নাই।



১৯৯১ সালে শেখ হাসিনা বিরোধীদলের নেত্রী থাকাকালে রাজশাহীতে সাংগঠনিক সফরের সময়


বিবার্তা : একজন নারী হিসেবে আপনি রাজনীতি করছেন। এ জন্য কি কোন ধরণের সমস্যা আপনাকে মোকাবেলা করতে হয়েছে?


কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি : আমি একজন রাজনীতিবিদ। প্রত্যেক রাজনীতিবিদদেরই সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। সে দিক থেকে আমিও এর ব্যতিক্রম নই। তবে নারী হওয়ার কারণে যে সমস্যায় পড়েছি, সেটা আমি মনে করি না। আমি মনে করি একজন পুরুষের চেয়ে নারীর কর্মপরিধি অনেক বড়। পুরুষদের চেয়ে নারীদের অনেক বেশি কাজ করতে হয়। বর্তমান সরকার নারীবান্ধব সরকার। দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পিকার, নারী বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে উচ্চ পর্যায়ে অধিষ্ঠিত রয়েছে নারী। সবাই কিন্তু নিজ যোগ্যতার মাধ্যমে নিজ নিজ আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারীদের স্বনির্ভর করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যেমন ধরুন আমিও রাজনীতির পাশাপাশি আমার সংসার, আমার কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছি।


তবে রাজনীতি করতে গিয়ে মোটেও সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়নি সেটা বলা ঠিক হবে না। কিছু অসুবিধা মোকাবেলা করতে কৌশলী হতে হয়। আওয়ামী লীগ একটি বড় দল হওয়ায় এর সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনও বেশি। এ সব সংগঠনে প্রচুর কর্মী-সমর্থক থাকায় কিছুটা গ্রুপিং রয়েছে। তবে দলীয় স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমাদের সকলের প্লাটফর্ম আওয়ামী লীগ, আমাদের মাঝি শেখ হাসিনা।


বিবার্তা : রাজনীতির বাইরে আপনি আর কি কি করেন?


কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি : রাজনীতির বাইরে আমি একজন গৃহিণী, একজন স্ত্রী, একজন মা। আমার স্বামী মনিরুজ্জামান কুটি একজন বেসরকারী কর্মকর্তা। আমাদের একটি সন্তান রয়েছে। তার নাম ওজাইরা আইমান স্বপ্ন। এছাড়া আমি আইন পেশার সাথে জড়িত। আমি ঢাকা জজ কোর্টে প্রাকটিস করি। এছাড়া আমি ফেব্রিকস এ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। আমার এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে নিজেকে জড়িত রাখি।



বিবার্তা : কেমন ধরণের কাজ আপনি এলাকায় করছেন?


কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি : আমাদের সংসদীয় এলাকা হচ্ছে নাটোর-৪। গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম মিলে এই এলাকা। আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় কল্লোল ফাউন্ডেশন নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছি। এর মাধ্যমে অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি, শীতার্তদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করি। এছাড়া যারা আইনি সহায়তা পেতে ইচ্ছুক তাদেরকে বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করি। এর জন্য আমি ৪ জন আইনজীবী নিয়ে একটি টিম গঠন করেছি। এছাড়া বিনা মূল্যে চক্ষু সেবা নিশ্চিতের জন্য আই ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছি। ঈদের সময় আমার এলাকায় বিভিন্ন পরিবারের মাঝে শাড়ি লুঙ্গি ও খাবার পৌছে দিয়েছি।


আমার এলাকায় প্রতিবন্ধি শিশুদের জন্য শহীদ রেকায়েত সাত্তার নামে একটি স্কুল পরিচালনা করছি। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণের জন্য ''গৌরব ৭১'' নামে আরো একটি সংগঠনের সাথে জড়িত আছি। সব মিলিয়ে সামজিক দায়বদ্ধতা থেকে এখন থেকেই জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।


বিবার্তা : আপনি পরবর্তীতে নিজেকে কেমন জায়গায় দেখতে চান?


কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি : প্রত্যেক মানুষের যেমন নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে, আমারও রয়েছে। আমি নিজেকে এখন থেকেই প্রস্তুত করার চেষ্টা করছি। দলের পক্ষ থেকে আমাদের বিভিন্ন ট্রেনিং সেমিনারে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছে। সেগুলোর মাধ্যমে নিজেকে আরো যোগ্য করে গড়ে তুলতে কাজ করছি। জাতিসংঘের ৭০ তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন নেত্রী। তাছাড়া চীনে অনুষ্ঠিত ইয়াং লিডারশীপ প্রোগ্রামে আমি অংশ নেই। আমার সকল কর্মকাণ্ডই জনগণের সেবার লক্ষে। আমি গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামের মানুষের সেবার মাধ্যমে তাদের ভালোবাসা পেতে চাই।


বিবার্তা : গুঞ্জন রয়েছে আপনি নাটোর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করবেন। সেখানকার বর্তমান সংসদ সদস্য আপনার বাবা। বাবা ও মেয়ে একই আসন থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করছে - বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?


কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি : দলকে ভালোবেসে রাজনীতি করি। আমরা সকলেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। আমাদের অভিভাবক জননেত্রী শেখ হাসিনা। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তিনিই নির্বাচন করবেন। সে ক্ষেত্রে নেত্রী বিষয়টির সমাধান দেবেন। এ ক্ষেত্রে আমি আমার বাবার পরামর্শ নিয়ে কাজ করবো। আমার রাজনীতিতে এ পর্যন্ত আসার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তাঁর।


বিবার্তা/ওরিন/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com