ছাত্রলীগে বিশৃঙ্খলাকারীদের শক্ত হাতে দমন করা হচ্ছে : প্রিন্স
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৬:২৪
ছাত্রলীগে বিশৃঙ্খলাকারীদের শক্ত হাতে দমন করা হচ্ছে : প্রিন্স
আশিকুর রহমান লাভলু
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢা.বি.) ছাত্রলীগ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তথা সারাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে বরাবরই রাজপথে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এভাবে ঢা.বি. ছাত্রলীগ নানা ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।


শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ঢা.বি. ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স। সম্প্রতি তার সঙ্গে কথা হয় বিবার্তা২৪ডটনেটের। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন বিবার্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আশিকুর রহমান লাভলু


বিবার্তা : ছাত্র থেকে ছাত্রনেতা হয়ে ওঠার গল্প দিয়ে শুরু করতে চাই।


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : বাবার মুখে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে বড় হয়েছি। দেশপ্রেম সৃষ্টিতে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ আমাকে সাহায্য করেছে। যখন আমি ক্লাস নাইনে, ওই সময় আমাদের স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হয়। আমি সেই কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমেই ছাত্ররাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হই। তখন থেকেই স্বপ্ন দেখতাম, আমি স্লোগানে-স্লোগানে প্রকম্পিত করব রাজপথ। আমার বক্তৃতায় উদ্দীপ্ত হবে ছাত্রজনতা।



বিবার্তা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাথে শুরুর দিনগুলো কেমন ছিল?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : আমি জিয়া হলের ১০৯ নাম্বার গণরুমে থাকতাম। সেই সময় সৃষ্টি হওয়া বন্ধুত্ব এখনো টিকে আছে। আমি প্রথম বর্ষে হলের সব-ক’টি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছি। জিয়া হল ছাত্রলীগের একজন কর্মী থেকে ওই হলের সাধারণ সম্পাদক হই। অক্লান্ত পরিশ্রম আর মেধার মূল্যায়ন ছাত্রলীগ সব সময় করে বলেই আজকে আমি এই অবস্থানে।


বিবার্তা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পরে কি কি কাজ করেছেন?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দায়িত্ব পাওয়ার পরে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯ দফা প্রণয়ন করেছি। আবাসন সমস্যা, হলের ক্যান্টিনে খাবারের মান বৃদ্ধি, ক্যাম্পাসে যানবাহন ভাড়া নির্ধারণে কাজ করে যাচ্ছি।


বিবার্তা : সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন হলে খাবারের মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভা হয়েছে। এসব সভার ফলাফল কী?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন হলে মতবিনিময় সভা করেছি। বাকি হলগুলোতেও হবে। আবাসিক হলের পরিবেশ যাতে শিক্ষার্থীদের অনুকূলে আসে তার জন্যই আমাদের কাজ করা। সবাই একত্রে সভায় বসার ফলে শিক্ষার্থীদের সমস্যা জানতে পারছি। তা সমাধানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। কেউ যাতে সিট দখল করতে না পারে তার জন্য আমরা কাজ করছি।



বিবার্তা : সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ঢাবি ছাত্রলীগ নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে...


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : ছাত্রলীগের ভাল দিক নিয়ে কেউ লিখে না। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। সবাইকে সতর্কভাবে এ ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। ছাত্রলীগে যারা বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা করার চেষ্টা করছে তাদের শক্ত হাতে দমন করা হচ্ছে।


বিবার্তা : সংবাদমাধ্যমে 'ঢাবি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের হকিস্টিকের পিটুনিতে আহত শিক্ষার্থী' শিরোনামে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : বই মেলায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জিয়া হল ছাত্রলীগের একটি অংশ নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। আমি তাদের থামিয়েছিলাম। শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা স্টাম্প আমি কেড়ে নিয়ে তাদের থামিয়েছি। কাউকে আঘাত করিনি। ইচ্ছাকৃত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই আমার বিরুদ্ধে এ সংবাদ ছাপিয়েছে।


বিবার্তা : ঢাবি ছাত্রলীগের কিছু কিছু নেতাকর্মী ক্যান্টিনে ফাও খায়। তাদের নিয়ে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : আমরা ইতিমধ্যে ফাও খাওয়া নেতা-কর্মীদের কঠোরভাবে দমনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বিভিন্ন হলের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদককে এ ব্যাপারে কড়া নির্দেশ দিয়েছি।



বিবার্তা : ঢাবি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কী বার্তা আপনার?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : আমি সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলব, আপনারা লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করুন। প্রথম বর্ষে যারা আছে তারা যাতে রাজনৈতিক মোহে রাতে স্লোগান না দেয়, তা বলে দিয়েছি। শিক্ষার্থীরা পড়ার সময় পড়বে, অবসর সময়ে ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করবে – এটাই আমরা চাই।


বিবার্তা : ঢাবি ছাত্রলীগ নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : ঢাবি ছাত্রলীগকে গতিশীল করার জন্য আমরা বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদে কমিটি করে দিয়েছি। ৮ ফেব্রুয়ারি আমরা কলা অনুষদের কমিটি দিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষানীতি কতটুকু বাস্তবায়নযোগ্য তার জন্য আমরা শীঘ্রই মাননীয় উপাচার্যের সাথে আলোচনায় বসব। এ শিক্ষানীতিতে শিক্ষার্থীরা যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে তার জন্য স্মারকলিপি দেয়ার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।


বিবার্তা : রাজনীতি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : প্রধানমন্ত্রী যখন আমাকে যে দায়িত্ব দেবেন, আমি ওই দায়িত্বই পালন করব। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমি দেশের জন্য কাজ করে যেতে চাই।


বিবার্তা : নেতা না কর্মী - কোন পরিচয় ভালো লাগে?


মোতাহার হোসেন প্রিন্স : আমি ছাত্রলীগের একজন কর্মী। নিজেকে কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেই আমি স্বচ্ছন্দ বোধ করি। আমি সবার মাঝে কর্মী হিসেবেই থাকতে চাই।


বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com